আপডেট জুলাই ২৬, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৭ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২২ সফর, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য কক্সবাজার শহরের সবজির বাজারে আগুন, অন্যান্য পণ্যে স্থিতিশীল

কক্সবাজার শহরের সবজির বাজারে আগুন, অন্যান্য পণ্যে স্থিতিশীল

মোঃ আমান উল্লাহ, নিরাপদনিউজ: কক্সবাজার শহরের বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমলেও বেড়েছে নানা জাতের সবজির দাম। মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পাশাপাশি গত সপ্তাহের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।
গত সপ্তাহে মাছের বাজার অস্থিতিশীল হলেও বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় মাছের বাজার স্থিতিশীল। অপরিবর্তিত রয়েছে সবধরনের মাংসের দাম। তবে মুদিপণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দা, চিনি, লবণের দাম না বাড়লেও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বেড়ে যাওয়া মসলা এখনও চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) কক্সবাজারের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। তবে আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। এদিকে ক্রেতারা এসব অজুহাত মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, কার্যকরী বাজার তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় হঠাৎ পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী লাভবান হলেও বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

কক্সবাজার শহরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ টাকা। আর নিম্নমানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৬ টাকা কেজি। তবে কিছু কিছু বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা কেজি।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী সুকুমার দাস বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। দাম যেভাবে বেড়েছিল তাতে মনে হচ্ছিল ঈদের আগে পেঁয়াজের কেজি ৮০-৯০ টাকা হয়ে যাবে। তবে সেই শঙ্কা কাটিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম কমেছে। গত দুই সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। হঠাৎ দাম বাড়া-কমার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারণ বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনে আমাদের কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

ঈদ আসতে তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন, গোল মরিচ, হলুদ, মরিচ গুড়া, জয়ত্রী, এলাচ, দারুচিনি। বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে, জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায়, লবঙ্গ প্রতিকেজি ৮৫০ টাকা, গোল মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়, জিরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, দারুচিনি ৪৫০ টাকায়। এছাড়া আমদানি করা চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি আর দেশি ১৩০ টাকা কেজি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত সপ্তাহের মতো মানভেদে চড়া দামে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। মরিচের পর সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। গাজর ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এছাড়া অন্যান্য সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহের মতো করলা, কাঁকরোল, উস্তা, ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স, পেঁপে, পটল, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া বাজারে প্রতি আটি লাল শাক, মুলা শাক, কলমি শাক ২০ টাকা, পুঁই শাক, লাউ শাক ২৫ টাকা, ধনে পাতা কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতো ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। আর কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম একটু কমেছে। বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় সব জায়গায় এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে এখন বেশিরভাগে মাছের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। খুচরা বাজারে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

মাছ বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের অভাব ছিল। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বেশী থাকায় বর্তমানে মাছের দাম কমেছে।

আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম। বাজারে প্রতিকেজি নাজির ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাউর চাল ৯০ থেকে ৯৫। খোলা ময়দা ২৮ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৫২ টাকা, ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)