আপডেট ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৪ রমযান, ১৪৪০

সম্পাদকীয় কমেনি নারীর প্রতি সহিংসতা: পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে

কমেনি নারীর প্রতি সহিংসতা: পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে

নিরাপদ নিউজ: কিছুদিন ধরে নারী নির্যাতনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী। খুন, ধর্ষণের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি যৌতুকের কারণেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৭২.৬ শতাংশ নারী তাদের জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সহিংসতার মুখে পড়ছে। এ খবরটি যেদিন সংস্থাটি প্রকাশ করেছে, সেদিনই রাজধানীর দক্ষিণ মুগদা এলাকায় স্বামীর নৃশংসতার শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ।

পাষন্ড স্বামী তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাত্র আট মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। প্রকাশিত খবর থেকে যেটুকু জানা যায়, পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই দম্পতির উভয়েরই ছিল এটা দ্বিতীয় বিয়ে। বর্তমান স্বামীর সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রী আগের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ সন্দেহ থেকেই দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত। পরিণতি নৃশংস হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে।
দেশে নারীর অগ্রযাত্রার সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী।

রাজনীতি থেকে চাকরি, সর্বক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। সংসদে ২০ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকারে ২৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব করছেন। দেশে বাল্যবিয়ে কমেছে। স্কুলগামী মেয়েদের সংখ্যা ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভধারণের কারণে মারা যায় এমন নারীর সংখ্যা প্রতি লাখে ৩৬৯ থেকে ২১৬ জনে নেমে এসেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী নারীর সংখ্যা বেড়ে ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়ন বাড়লেও সমাজে নারীর অবস্থান এখনো সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। মানতে হবে, এখনো সমাজে নারীকে নিম্ন মর্যাদার বলে ধরে নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে অনেক বিষয়ে এখনো নারীকে পুরুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই নারীকে দেখা হয় অবজ্ঞার চোখে। আর এসব কারণেই কর্মক্ষেত্রে কিংবা বাড়ির বাইরে শুধু নয়, নিজের ঘরেও নিগ্রহের শিকার হয় নারী। শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, পাচার, অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে।

বখাটেপনার শিকার হচ্ছে নারী। গত বুধবারই গাজীপুরে বখাটের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে এক কিশোরীকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী তা নিয়ে সমাজ-বিশ্লেষকদের ভাবতে হবে। পারিবারিক বন্ধন, শ্রদ্ধাবোধ ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সম্পর্কের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হলে বিনষ্ট হবে পারিবারিক শান্তি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)