ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ সফর, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায়: খুলে যাচ্ছে খুরুশকুল ব্রীজের নাটবল্টু!

কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায়: খুলে যাচ্ছে খুরুশকুল ব্রীজের নাটবল্টু!

মোঃ আমান উল্লাহ, নিরাপদ নিউজ: কক্সবাজার সদরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে বাঁকখালী নদীর মোহনায় অবস্থিত খুরুশকুল ইউনিয়ন। ৯.১৪ বর্গমাইলের এই উইনিয়নে ৬৭হাজার মানুষের বসবাস। জেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। এক সময় জেলা সদরে আসতে এলাকার মানুষদের বাকঁখালী নদী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। ফলে ২০০৩ সালে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে এই খুরুশকুল ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়।

এ খুরুশকুল ইউনিয়নের দক্ষিণে কক্সবাজার পৌরসভা ও ঝিলংজা ইউনিয়ন; দক্ষিণ-পূর্বে পাতলি মাছুয়াখালী ইউনিয়ন; উত্তর-পূর্বে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন; উত্তর-পশ্চিমে মহেশখালী চ্যানেল এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগে অভুতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় চৌফলদন্ডী ও বৃহত্তর ঈদগাঁও ইউনিয়নসহ ৭টি ইউনিয়নের মানুষদের চলাচলের মাধ্যম হয়ে উঠে এই খুরুশকুল ব্রীজটি।

ফলে সোয়া এক যুগ আগে নির্মিত এই ব্রীজ দিয়ে বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ন প্রকল্প সহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল আনা-নেওয়ায় ভারী যান চলাচলের কারণে ইতোমধ্যে ব্রীজটির বেশির ভাগ নাটবল্টু খুলে গিয়ে উঠে যাচ্ছে পাটাতন। ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এই ব্রীজটি। মূলত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে খুরুশকুলের ৬৭হাজার মানুষের জেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজটি।

গত এক বছর আগে ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করলেও বর্তমানে নড়বড়ে হয়ে গেছে ব্রীজটি। তাই দ্রুত ব্রীজের পাটাতন বদলে দিয়ে নাটবল্টু ভালো ভাবে চেক করে আবারো সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খুরুশকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ২০০৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার পর থেকে এই ব্রীজে কোন ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। তাই বর্তমানে ব্রীজটি চরম ঝুকির মধ্যে আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ স্থানের পাটাতন উঠে যাচ্ছে, খুলে গেছে অসংখ্য নাটবল্টু। এবং অনেক জায়গায় মাটির নীচের অংশেও ঝুকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

তিনি জানান, ব্রীজ দিয়ে একটি গাড়ী চলাচল করতে পারে। ব্রীজের এক পাশ থেকে একটি গাড়ী উঠলে অন্য পাশের গাড়ী দাড়িয়ে থাকতে হয়। আমরা বহু বছর ধরে দাবী করে আসছি ব্রীজটি নতুন করে সংস্কার এবং দুই লাইন বিশিষ্ট করার জন্য তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি তাই দ্রুত ব্রীজটি সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।

চৌফলদন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুল বলেন, এই ব্রীজটি শুধু খুরুশকুলের জনগন নয় আশে-পাশের ৬টি ইউনিয়নের অন্তত ৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই খুরুশকুল ব্রীজ। খুরুশকুল ব্রীজ না হলে আমাদের কক্সবাজার শহরে যেতে ঈদগাহ হয়ে প্রায় ২০০ টাকা খরচ করে ২/৩ ঘন্টা সময় অপচয় করতে হতো। কিন্তু এখন খুব অল্প খরচে কম সময়ে শহরে পৌচানো যায়। আমরা বহুবার দাবী করেছি খুরুশকুল ব্রীজটি সংস্কার করার জন্য এছাড়া একই ব্রীজের পাশে আরো একটি বড় আকারের নতুন করে ব্রীজ করছি।

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কক্সবাজার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউছার জানান, যে কোন এলাকার উন্নয়নের জন্য সেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া পূর্বশর্ত। মূলত খুরুশকুল ব্রীজটি হওয়ার পরেই এই এলাকার অভুতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের জীবন মানের উন্নতি হয়েছে। তাই খুরুশকুল ব্রীজকে শুধু একটি স্থাপনা নয় একটি পরিবর্তনের বাহক হিসাবে চিন্তা করতে হবে। আমি জানি বর্তমানে ব্রীজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় আছে।

গত বছর ঝুঁকি কমাতে ব্রীজের কক্সবাজার অংশে লোহার গেইট দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করলেও বর্তমানে ঝুঁকি কমেনি বরং দিন দিন বাড়ছে তাই দ্রুত এই ব্রীজটি নিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা করা জরুরী। এ ব্যপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশরী পিন্টু চাকমা বলেন, খুরুশকুল ব্রীজটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ন এটা সঠিক, ইতোমধ্যে আমরা ব্রীজটি পূর্ণ সংস্কারের জন্য ডিপিপিতে পাঠিয়েছি। সেখানে বাজেট পাস হলে খুরুশকুল ব্রীজের উপর আবারো নতুন করে কাজ হবে। তবে কবে নাগাদ সেটা হতে পারে সেটা জানাতে পারেননি তিনি।

এ ব্যপারে কক্সবাজার সদর রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, খুরুশকুল ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ন এটা সঠিক। খুরুশকুলে বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ন প্রকল্প সহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তাই খুরুশকুল ব্রীজটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। আমি দ্রুত এ বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)