আপডেট ডিসেম্বর ২, ২০১৭

ঢাকা রবিবার, ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৭ জিলক্বদ, ১৪৩৯

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ কর্মের ক্ষেত্রে আনিসুলের ভূমিকা দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন

কর্মের ক্ষেত্রে আনিসুলের ভূমিকা দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন

ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ : ছেলে মোহাম্মদ শারাফুল হকের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। শনিবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে তাকে বনানী কবরস্থানে ছেলের কবরে দাফন করা হয়। এর আগে বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে মেয়রের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনারোধে করনীয় শীর্ষক দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ সমূহে সেমিনারে অংশগ্রহন করতে বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র নিরাপদ নিউজকে দেয়া এক শোক বার্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আনিসুল হক তার জীবদ্দশায় নানামুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখে সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট নিজেকে ঘনিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। সফল উদ্যোক্তা আনিসুল হকের সুনাম ছিলো সর্বজনবিদিত।

তিনি আরো বলেন, আনিসুল হক তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। একজন কর্মনিষ্ঠ এবং বিনয়ী মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বমহলে সমাদৃত। আনিসুল হক সমাজ সেবার নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যেও নিজেকে যুক্ত রেখে ছিলেন।

মেয়র আনিসুল হক এর মৃত্যুর কথা জানতে পেরে ইলিয়াস কাঞ্চন মর্মাহত হন এবং দু:খ প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আরো বলেন, ব্যক্তি হিসেবে আনিসুল হক একজন সৎ ও ভালো মানুষ। আনিসুল হক মেয়র হবার পর ঢাকা উত্তর সিটিকে যানজট মুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। শহরকে যানজটমুক্ত ও পরিবেশ রক্ষায় তিনি সার্বক্ষনিক কাজ করেছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহন করেছেন এবং আমাদের এই আন্দলেনের দাবি পুরণে তার সহযোগীতা এবং আন্তরিকতার মনোভাব যথেষ্ট ছিলো। তার মতো দক্ষ ও পরিশ্রমি মানুষ সত্যি সমাজের জন্য ভীষন প্রয়োজন।

তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেও সামাজিক-অর্থনৈতিক- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া দেশবাসীর মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা।

উল্লেখ্য,গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান আনিসুল হক। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা।

এরপর থেকে মেয়রকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটলে তাকে গত ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

গত ২৮ নভেম্বর অবস্থার অবনতি ঘটলে আনিসুল হককে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)