আপডেট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১

ভ্রমন কলকাতার অতিনিকটে দুই অসাধারণ ও নির্জন সমুদ্র সৈকত

কলকাতার অতিনিকটে দুই অসাধারণ ও নির্জন সমুদ্র সৈকত

মন্দারমণি লিভস ভ্যালী রির্সোটে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

মন্দারমণি লিভস ভ্যালী রির্সোটে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

কলকাতা থেকে ফিরে নাসিম রুমি 

নিরাপদ নিউজ  : পর্যটকদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছে সোনালি বেলাভূমির মন্দারমণি। সমুদ্র সৈকত ধরে ছুটে চলে গাড়ি এমন মজার দৃশ্য পশ্চিমবঙ্গের আর কোনও সাগরবেলায় দেখে যায় না । রিসর্টগুলির প্রায় দরজায় কড়া নাড়ে সাগরের ঢেউ । সাগরের জল ভাটার সময় সরে যায় অনেক দূরে কিন্তু জোয়ারের সময় একদম কাছে চলে আসে । তবে জরপ্রিয়তা যত বাড়ছে মন্দারমণি ততই ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে ।

মন্দারমণি সৈকতে বিশিষ্ট শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

মন্দারমণি সৈকতে বিশিষ্ট শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

নির্জন সি- বিচ ধরে বহুদূর হেঁটে চলা যায় তাজপুর নির্জন বেলাভূমি সুনীল সাগর এবং ঝউগাছের সারি এই নিয়ে তাজপুর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অল্পপরিচিত সমুদ্রসৈকত । তাজপুর সাগরবেলায় সম্প্রতি প্যারাগ্লইডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে । পুরো বেলাভুমিটি গভীর ঝাউবনে ঘেরা । ঝাউগাছের আড়ালে আবডালে রাখা থাকে রংবেরঙের মাছ ধরার নৌকা ।সোনালি বেলাভুমির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয় রঙিন এই নৌকোগুলি ।

বাগিচা ঘেরা লিভস ভ্যালী রির্সোটে লেখক ও হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

বাগিচা ঘেরা লিভস ভ্যালী রির্সোটে লেখক ও হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

দীঘা বা মন্দরমণির মতো জমজমাট হয়ে উঠতে পারেনি তাজপুর হয়তো সে কারণেই তাজপুর এখনও এত সুন্দর। পানির অপর নাম যদি জীবন হয়, তাহলে অন্তত আমার কাছে ভ্রমণের অপর নাম জীবন। থেমে যাওয়া জীবনটাকে ভ্রমণের মাঝে সচল রেখেছি। জানিনা আর কত কাল সচল রাখতে পারবো।

তাজপুরের ঝাউবন ঘেরা সৈকত

তাজপুরের ঝাউবন ঘেরা সৈকত

শৈশবকাল থেকেই আমি সর্বদা নির্জন স্থানে, নির্জন সমুদ্রে, নির্জন পাহাড় কিংবা ঝর্নার সান্নিধ্য ভালোলাগে। তাই আমি যখনি কোন স্থানে ভ্রমনে যাই, সবচেয়ে আগে চিন্তা করি কখন, সেই পর্যটন স্থানটি নির্জনতা পাবো। কলাহল মুক্ত পাব? তাই আমি অফ সিজনেই সিংহভাগ দেশে এবং বিদেশে সফরে বের হই। শুধু নির্জনতার কারণে এবং শুধু সুখ-শান্তির আশায়।

অভিজাত রির্সোটে সাংবাদিক নাসিম রুমি ও শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার

অভিজাত রির্সোটে সাংবাদিক নাসিম রুমি ও শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার

আমার আশি দশকের শেষলগ্ন থেকে কতবার কলকাতায় যাওয়া হয়েছে তার সঠিক হিসাব আমার কাছে নেই। ভারতের বিখ্যাত পর্যটন স্থানগুলির সিংহভাগ আমার গত ২০ বছরে ভ্রমন করা হয়েছে। কাশ্মীর টু কণ্যাকুমারী আমার একাধিকবার ভ্রমন হয়েছে। ভারতের বিখ্যাত পর্যটনগুলির ভ্রমনে গেলে, আমাকে প্রথমে কলকাতায় দু’দিন অবস্থান করতে হয়। মান্দারমানিতে রাত্রি যাপনের জন্য অসংখ্য হোটেল রয়েছে।

মন্দারমণি সৈকতে কারুকাজে ভরা অপূর্ব সুন্দর মন্দির

মন্দারমণি সৈকতে কারুকাজে ভরা অপূর্ব সুন্দর মন্দির

আমি এবং সারোয়ার ভাই প্রথমে বেলাভূমি রির্সোটে ছিলাম একদিন। উভয়ে ফুলের বাগিচা খুব পছন্দ করি, তাই পরের দিন বাগিচা ঘেরা অপূর্ব সুন্দর লিভ-সী ভিউ রিসোর্ট এ অবস্থান করি। সত্যিই এই রিসোটের সৌন্দর্য অপূর্ব। আমাদের কক্ষের বারান্দা থেকে মান্দারমনির নির্জন সৈকত দেখা যায়। মন্দারমনিতে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ হয়নি। তবে পর্যটকদের জন্য কোন অসুবিধা নেই। প্রতিটি হোটেল, রির্সোটে জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই মান্দারমনিতে হোটেল ও রির্সোটের ভাড়া অধিক।

অভিজাত রির্সোট বলাকাতে শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

অভিজাত রির্সোট বলাকাতে শিল্পপতি হাজ্বী সারোয়ার হোসেন

পশ্চিম বঙ্গের একাধিক সমুদ্র সৈকত রয়েছে। এর মধ্যে দিঘা, শঙ্করপুর, জনপুট, তালসারি উদয়পুর এবং মন্দারমানি অন্যতম। এইসব সৈকতে ভ্রমনে গেলে বাসে কিংবা ট্রেনে মাত্র ৪/৫ ঘন্টা সময় লাগে। তবে সবচেয়ে নির্জন সৈকত হচ্ছে মন্দারমানি। এ পর্যন্ত আমি চারবার মন্দারমানি ভ্রমন করেছি। শুধু নির্জন সৈকত, ঝাউবনের সারি আর প্রতিটি হোটেল, মোটেল ও অপূর্ব সুন্দর বাগিচার কারণে। হানিমুন কিংবা আপনজনদের নিয়ে অন্তত দুইটা দিন নির্জন মন্দারমানি সফর করলে মনটা অবশ্যই উৎফল্ল হব। গত ১৯ জানুয়ারী ২০১৫ সালে আমি মন্দারমানিতে ভ্রমনে গিয়েছিলাম।

তাজপুর সৈকতে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

তাজপুর সৈকতে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

আমার সফর সঙ্গী ছিল কেরানীগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং কেরানীগঞ্জের ব্রাদার্স পেপার এন্ড বোর্ড মিলস লিঃ এর চেয়ারম্যান মোঃ সারোয়ার হোসেন। কলকাতা হাওরা রেল স্টেশন থেকে সকাল ১১.১৫ মিনিটে দুরন্ত এক্সপ্রেসে চেপে প্রথমে দিঘা স্টেশনে যাই মাত্র ৩ ঘন্টায়। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়িতে চেপে ১.৩০ মিনিটে মন্দারমানি সী-বীচে পৌঁছি।

রির্সোটের বাগিচায় লেখক নাসিম রুমি নিরাপদ নিউজ

রির্সোটের বাগিচায় লেখক নাসিম রুমি
নিরাপদ নিউজ

পর্যটক বন্ধুরা যদি কখনো কলকাতায় যাওয়ায় হয়, তবে অবশ্যই মন্দারমানি সী-বীচে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। ষ্পষ্টভাবে বলছি মন্দারমানি সী-বীচ ও তাজপুর সৈকত আপনাদেরকে হতাশ করবেনা। উল্লেখ্য মন্দারমানির সবচেয়ে দামি হোটেল হচ্ছে রোজ ভ্যালী রির্সোট। ভাড়া ৩০০০ হাজার থেকে শুরু করে ১৬০০০ হাজার টাকা। তাজপুরে থাকার জন্য হোটেল ও রির্সোট রয়েছে। ভাড়া ৮০০-৪০০০ টাকা।
নাসিম রুমি, সাংবাদিক, পর্যটক ও লেখক
মোবাইল ০১৬৮৪৯৪১১৭৭,০১৭১১২২৭৪২৭

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)