ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০

বরিশাল কলাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান ফাটল, কোমলমতি শিশুরা সুবিধা বঞ্চিত

কলাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান ফাটল, কোমলমতি শিশুরা সুবিধা বঞ্চিত

রাসেল কবির মুরাদ, নিরাপদনিউজ: কলাপাড়ায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র এক ব্ছর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পি,ডি,বি-৩ এর অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য দুইটি বাথরুম নির্মান করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রত্যেকটি ওয়াসরুমের ওয়াল, টাইলস, নেইম ফলক সহ স্থাপনার মূল ভিক্তি কলামে বড় বড় ফাটল ধরেছে। এছারা ওয়ালের প্লাস্টার ও রং এর মান এতই খারাপ যে বিভিন্ন স্থান থেকে খসে খসে পড়ছে।

এমন অবস্থায় যেকোনো সময়ে ওই ওয়াসরুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনোসময়, ঝুকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষাত্রীরা। চতুর্থ শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষাত্রী আব্দুল আলিম গাজী বলেন, মোগো ঐ বাথরুমে যাইতে অনেক ডয় লাগে, দালানটা কেমনে যেন ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা যাইতেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অধিক লাভবান হওয়ার স্বার্থে নিচুমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার ফলেই এই বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে বলে শিক্ষক ও অভিভাকেরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাদিয়া সুলতানা বলেন নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়টির চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মান জরুরী। শিক্ষক ও অবিভাবকরা জানান উপযুক্ত সংস্থা যেন বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের ব্যাবস্থা করে দেন, এতে বিদ্যালয়টিতে দূর্ঘটনা রোধ সহ সকল দিক দিয়ে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার হবে। বালিয়াতলী ইউনিয়নের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৮৮ সনে, রেজিস্টার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুরু ১৯৯৩ সালে। বালিয়াতলী বাজারের পূর্ব দিকে বিদ্যালয়টির অবস্থান।

বিদ্যালয়টির যাত্রার শুরুতে ছোট্ট টিনের ঘরে ক্লাস নিতেন শিক্ষকেরা, যুগের পরিক্রমায় কয়েক বছর পূর্বে সরকারি অর্থায়নে দুই তলা বিশিষ্ট একটি সাইক্লোন সেল্টার, ও একতলা একটি পাকা ভবন নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস পরিচালনা করছেন। বর্তমানে মোট কোমলমতি শিক্ষাত্রীর সংখা ১১০। সার্বিক বিবেচনায় বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীগন অধিক মাত্রায় এ+ সহ ভালো ফলাফল নিয়ে পরিক্ষার রেজাল্টের মান বেশ ভালো রেখে এলাকার মুখ উজ্জল করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জালাল আহম্মেদ বলেন, এটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেখভাল করার কথা তারপরেও ব্যাপারটি আমি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেবো এবং ত্রিমাসিক মিটিং’য় উপস্থাপন করবো। কলাপাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকোশলী ইঞ্জি: মো: জিহাদ হোসেনকে কার্যালয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে তার কাছে ফাটলের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেবো। তার কাছে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার চাইলে খুজতে হবে, দেই, দিচ্ছি করেও তিনি তা দেন নাই।

সরকারের এই লক্ষ লক্ষ টাকার প্রকল্প গুলো এভাবে ক্ষমতাধর গোষ্টির লোভি চেতনা ও সরকারি নিযুক্ত ব্যাক্তির দেখভালের বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রশ্ন, এলাকাবাসীর অভিমত, সরকারের এই ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের উপর কালিমালেপন করতে চায় কিছু অসাধু, দূর্নীতিপরায়ন কু-চক্রীমহল, তাই তারা এর উপযুক্ত ব্যাবস্থা চেয়েছেন উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)