ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ১৪, ২০১৯

ঢাকা শুক্রবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৮ রমযান, ১৪৪০

বরিশাল, সড়ক সংবাদ কলাপাড়ায় স্লুইজগেট র্নিমানে উপকুলীয় কৃষকের মাঝে সবুজ বিপ্লবের ছোঁয়া

কলাপাড়ায় স্লুইজগেট র্নিমানে উপকুলীয় কৃষকের মাঝে সবুজ বিপ্লবের ছোঁয়া

রাসেল কবির মুরাদ ,নিরাপদ নিউজ: কলাপাড়ার উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সাগরপাড়ের মানুষের কেটে গেছে জলোচ্ছ্বাসসহ সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গন আতঙ্ক। কুয়াকাটার ভাংগনরোধসহ পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে আকর্ষনীয় করতে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কলাপাড়ার মহিপুর থানার লতাচাপলী, ধুলাসার, কুয়াকাটায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরনের এ কাজ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে। বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ করছে চায়নার চংচিং ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন (সিকো)। সাড়ে ২৪ ফুট উচ্চতায় হচ্ছে ২২ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। যেখানে সিসি ব্লক প্লেসিং করে পর্যটকের বসার জন্য বেঞ্চি করা হবে। এসব কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভাঙ্গন থেকে বেড়িবাঁধ রক্ষাসহ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার এমন কাজে ঝুকির মুখে থাকা মানুষ হয়েছে অশ্বান্বিত।

উপকুলীয় এ বেরিবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের পাশপাশি এ অঞ্চলের মানুষের কৃষিকাজের সুবিধার্থে নতুন নির্মিত হচ্ছে আটটি স্লুইজ গেট। তিনটি স্লুইজ করা হচ্ছে মেরামত। যার কাজও চলমান রয়েছে। আশাখালী ও ফাঁসিপাড়া স্লূইজের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর ফলে কৃষিকাজে আসবে অভাবনীয় অগ্রগতি এমন ধারনা কৃষকদের।

সুবিধাভোগী কৃষকদের সাথে আলাপচারিতায় জানা জায়, সত্তুরের দশকে র্নিমিত উপকুলীয় এলাকার এসব সুইসগেট সবই প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। জলকপাট ভেংগে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে আবাদি জমি প্লাবিত হত। শুকনা মৌসুমে লবন পানি প্রবেশ করে ক্ষেতের কস্টার্জিত ফসল নস্ট হতো। আবার শুকনো মৌসুমে মিস্টি পানি সংরক্ষন করে রাখতে পারতনা। নিজেদের প্রয়োজনেই কৃষকরা নিজেদের খরচে এসব জলকপাট মেরামত করত। কিন্তু অস্থায়ী এসব মেরামত ভেংগে কিংবা নষ্ট হয়ে আবাদি ফসল নষ্ট হত। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কৃষকরা এমন ভোগান্তি নিয়ে কৃষিকাজ করলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিল।

আশাখালী গ্রামের কৃষক আব্বাস হাওলাদার জানান, বর্ষায় জমিতে পানি জমে যেত। মিষ্টি পানির অভাবে শুকনো মৌসুমে ক্ষেত চাষ কাজ ব্যহত হত। এখন আশার আলো দেখছি। সরকারের এমন মহতী উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ফাসিপাড়া গ্রামের কৃষক আফজাল জানান, প্রতি বছর লবন পানি প্রবেশ করে রবিশষ্য ক্ষেত নস্ট হয়ে যেত। সে চিন্তা এখন দুর হচ্ছে। একই এলাকার গৃহবধু সালেহা বেগম জানান, বর্ষা মৌসুমে ভাংগা জল কপাট দিয়ে পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর প্লাবিত হত। দুই দফা জোয়ারের পানিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হত।

কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার জানান, দখিনের এ জনপদের কৃষি উন্নয়নে জলকপাট বা স্লুইজগেট অপরিসীম সুবিধা দিবে। এরফলে কৃষকদের ফসলের উৎপাদন বাড়বে। মিষ্টি পানির অভাবসহ বর্ষার জলাবদ্ধতার ক্ষতি কমে আসবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)