ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ সফর, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য কাচ শিল্পে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ১০ বছরে এক নম্বরে যেতে বদ্ধপরিকর: পরিচালক সোহেল

কাচ শিল্পে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ১০ বছরে এক নম্বরে যেতে বদ্ধপরিকর: পরিচালক সোহেল

কাচ শিল্পে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ১০ বছরে এক নম্বরে যেতে বদ্ধপরিকর

কাচ শিল্পে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ১০ বছরে এক নম্বরে যেতে বদ্ধপরিকর

শফিক আহমেদ সাজীব,  ২৭ মে, ২০১৬, নিরাপদনিউজ : আরো উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আগামী ১০ বছরে কাচ শিল্পে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিকে এক নম্বরে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ পিএইচপি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন এমন দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমীর হোসেন সোহেল বলেন, ১০ বছরে সব ধরনের সুবিধা সংবলিত কাচ উৎপাদন করতে আমরা সক্ষম হবো। কাচশিল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ শিল্পের বিকাশে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ শিল্পগ্রুপ। ভারতে (সেভেন সিস্টারে) কাচের বাজার ধরতেও সহায়তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে পিএইচপি ফ্যামিলির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মোহাম্মদ আমীর হোসেন এসব তথ্য দিয়েছেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আলী হোসেন ও জহিরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়, ১২ বছর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায় পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে দৈনিক ১৫০ টন বিভিন্ন প্রকারের গ্লাস উৎপাদন হচ্ছে এ কারখানায়। গ্লাসের কারখানা সম্প্রসারিত করা হচ্ছে জানিয়ে আমীর হোসেন বলেন, এই কারখানায় দৈনিক উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০০ টনে নিয়ে যাচ্ছি। এজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই এই বর্ধিত উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে আমাদের কারখানা। এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

দেশের মানুষ সচেতন ও শিক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবনে এখন ইটের বদলে কাচের ব্যবহার বেড়েছে। কারণ কাচ ব্যবহার করলে লোড কম হয়। নির্মাণ ব্যয়ও কমে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দেশের চাহিদা অনুভব করে দ্বিগুণ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করেছি। কিন্তু এখন দেশে চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তাই রপ্তানিও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। পিএইচপি’র পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর এখানে কর্মসংস্থানও দ্বিগুণ হবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমীর হোসেন বলেন, বর্তমানে কারখানায় প্রায় ৮০০ জন কর্মী কাজ করছেন। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে কর্মসংস্থানও।এক বছর পরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে দেড় হাজারে। দেশে প্রতিষ্ঠিত অন্য কাচ কারখানার তুলনায় পিএইচপি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি, যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক ও গর্বের। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি সমাজ রাষ্ট্র জাপানের টেকনিক্যাল সাজেশান নেওয়া হবে। এতে কাচের স্বচ্ছতাসহ গুণগত মান আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,আগামী ৫ বছরের মধ্যে মধ্যবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। মধ্য মেয়াদে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে ৬০০ মেট্টিক টন। তখন সর্বসাকুল্যে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে দৈনিক ৯০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশে যানবাহনের আওয়াজের যে অবস্থা তাতে অফিসের হলরুমে বসে সভা করাও মুশকিল। তাই এখন সাউন্ডপ্রুপ গ্লাসের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এ গ্লাসও উৎপাদন করবে পিএইচপি। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা উৎপাদন শুরু করতে চাই। আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাজারজাত করবো।

এদিকে সীতাকুণ্ডের কারখানায় দৈনিক ৩০০ টন কাচ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ফেনীতে দৈনিক ৬০০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কারখানা নির্মাণ করা হবে জানিয়ে আমীর হোসেন বলেন, এরই মধ্যে কারখানার জন্য জমি ক্রয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে দৈনিক ৯০০ টন কাচ উৎপাদন হবে। বাংলাদেশে এখনো এলুমিনিয়ামের সাথে কাচের ব্যবহার বেশি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিএইচপি মানসম্পন্ন এলুমিনিয়াম উৎপাদন করছে। ফলে গ্রাহকরা একই ছাদের নিচেই সমাধান পাবেন। অন্যদিকে ডিলাররাও লাভবান হবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)