ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ২০, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

অর্থনীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে জ্ঞান উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে হবে: ড. আতিউর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে জ্ঞান উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে হবে: ড. আতিউর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে জ্ঞান উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে হবে: ড. আতিউর

জাহিদ রহমান, ২০ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদনিউজ: আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিশ্বায়িত আর্থিক সেবা খাতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আরও বেশি স্বচ্ছ ও ভোক্তার চাহিদার ব্যাপারে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে, পাশাপাশি জ্ঞান উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে হবে এবং সর্বোপরি আর্থিক অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
গত ১৮ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমি অফ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসেস ইউএস নর্থইস্ট চ্যাপ্টারের বার্ষিক সিম্পোজিয়ামে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্যাকরেড হার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা শীর্ষক” মূল নিবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সমন্বয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান এ কথা বলেন।
সিম্পোজিয়ামে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ম্যাথিউ ও’কনর, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মার্ক থম্পসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেসের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।
মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় ড. আতিউর রহমান বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতির পর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ড. আতিউর বলেন- বিশ্ব মন্দার পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকায় ব্যাপকভিত্তিক পরিবর্তন এসেছে। ব্রেক্সিট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প যুগের সূচনার ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতার মাত্রা আরও বেড়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কি ভূমিকা রাখবে- তা একটি গুরুতর প্রশ্ন হিসেবে হাজির হয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিতে মৃদু উত্থান দেখা গেলেও বিশ্ব অর্থনীতির গতি এখনো ধীর এবং এর ওপর আস্থাও ভঙ্গুর পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরবর্তী কালে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ‘অগ্নি নির্বাপক দলে’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তিনি বলেন, স্মরণকালের সর্বোচ্চ মাত্রায় ‘কোয়ান্টিটেটিভ এক্সপানশন’-এর ফলে উদিয়মান বাজারের দেশগুলোতে মূলধনের ব্যাপক প্রবাহ দেখা গেছে। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধির সামান্য লক্ষণ দেখা যাওয়া মাত্রই এই প্রবাহ বিপরীতমুখি হয়েছে। উদীয়মান বাজারের দেশগুলোতে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কেন্দ্রে ছিল ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এরপরও বেশ কিছু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকার প্রশ্নে কোন ধরণের আপোষ না করে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং বেছে নিয়েছে এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পন্ন অর্থায়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে, আর এর ফলেই সুফল পাওয়া গিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্য চক্রের ওঠানামার ব্যবস্থাপনার সাথে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত কারার উদ্যোগের কার্যকর সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও আইনি কাঠামো উন্নয়ন এবং পুন:অর্থায়নের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তার লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়েছে। লক্ষ্যগুলো হলো- অর্থ সঞ্চালনের পথগুলোর উন্নয়ন, সংযুক্তির মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি এবং সর্বোপরি উৎপানমুখি ও টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত নিশ্চিতকরণ। ফল স্বরূপ, জনগণের যে অংশগুলো সাধারণত সেবা পায়না বা কম পায় তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে সমগ্র আর্থিক খাতেই সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে ড. আতিউর রহমান ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, এবং এই দলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সফর করবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)