আপডেট জুন ১১, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২০ মুহাররম, ১৪৪১

বিনোদন কেন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা?

কেন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা?

নিরাপদ নিউজ: হঠাৎ করেই বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। ক্ষোভের মাত্রা এতই যে বিক্ষুব্ধরা দলীয় কার্যালয়ে তালা মেরে দিয়েছে। এমনি কার্যালয়ের ভিতরে থাকা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে হেনস্তা করতেও দ্বিধা করে নি। সেইসাথে কার্যালয়ে থাকা রিজভীর অনুসারী ছাত্রদলের ১৫ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে বের করে দিয়েছে। কাদের মধ্যে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। জানা গেছে, ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছে ছাত্রদলের একদল বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী। তবে প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ করে কেনো তারা বিক্ষুব্ধ হলেন কেন?
জানা যায়, তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার আগে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বেশ কিছু দাবি তুলে তারেক রহমানকে চিঠি পাঠান। কিন্তু সেই চিঠির বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে অবস্থান করছেন ছাত্রদলের নেতারা।
এদিকে গত ২৮ মে তারেক রহমান বরাবর দেওয়া ওই চিঠি থেকে জানা যায়, চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
এক. বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা না রেখে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের চিরাচরিত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে একটি ধারাবাহিক কমিটি আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ দিয়ে গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
দুই. পরবর্তীতে স্বল্পমেয়াদি এক বা একাধিক ধারাবাহিক কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন শক্তিশালী হবে বলে আমরা মনে করি।
তিন. আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বর্তমান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, মহানগর ও কলেজগুলোর সমন্বয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
চিঠিতে নেতারা আরও বলেন, আমরা ছাত্রদলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী গত একযুগ ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, স্বৈরাচারী হাসিনাবিরোধী আন্দোলন, দেশমাতা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ যেকোনো সময়ে আপনি (তারেক রহমান) যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা পালন করার চেষ্টা করেছি। অসংখ্য নেতাকর্মী, গুম, হত্যা, ক্রসফায়ার, হাজার হাজার কর্মীর কারাবরণ ও কোনো রক্তচক্ষু আমাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি।
তারা বলেন, দলের দুঃসময় অনুধাবন করে ২ বছরের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ৫ বছর চললেও আমরা সংগঠনের স্বার্থে শৃঙ্খলা বজায় রেখে বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের অধীনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে আসছি। সম্প্রতি আমাদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নানামুখী আলোচনা আমাদের সবাইকে উদ্বিগ্ন করেছে। আমরা পরোক্ষভাবে জানতে পেরেছি যে, দলীয় হাইকমান্ড নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে চায়। আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই আপনার যেকোনো সিদ্ধান্তই আমাদের শিরোধার্য। কিন্তু চলমান বাস্তবতায় এই মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে।
সবশেষে তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়ে ছাত্রদল নেতারা বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে আবেদন, অনেক কিছু হারিয়েও আমরা আমাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনের নিশ্চয়তা চাই। চলমান সংকট নিরসনে আপনিই আমাদের ভরসারস্থল ও আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্তপ্রতীক। দল ও দেশের প্রয়োজনে এবং বন্দি মায়ের (খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।
বিনীত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও মহানগরীতে অবস্থিত কেন্দ্রের আওতাধীন সব কলেজ ইউনিটের নেতাকর্মী।
এই চিঠির কপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ও অনুসন্ধান কমিটির সব নেতাকে দেওয়া হয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)