আপডেট ৩২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৭ জিলক্বদ, ১৪৩৯

খুলনা কেশবপুরে মুষল ধারায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ: লাখো মানুষের দূর্ভোগ

কেশবপুরে মুষল ধারায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ: লাখো মানুষের দূর্ভোগ

লাখো মানুষের দূর্ভোগ

এস আর সাঈদ, ১২ আগস্ট ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : যশোরের কেশবপুরে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর মুষল ধারায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ লাখো মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। বিগত কয়েকদিন আবহাওয়া ভালো থকায় সড়কের পানি নেমে গেলেও সড়কতুলিতে আবারও পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। গ্রাম এলাকায় পানি কমলেও বৃষ্টিতে পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদির পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩টি উভচর স্কেবেটর মেশিন দিয়ে পলি অপসারণের কাজ চালালেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। স্কেবেটর মেশিন ঠিকমত কাজ করছে কি না ? তা তদারকি করা জরুরী বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। তা না হলে তেল অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন বলে জানাগেছে। গত ২০ জুলাই থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে কেশবপুরে এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন সড়কের উঁচু স্থানে ৭ হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে ২ দফায় পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাউল প্রদান করা হলেও তরিতরকারীর মূল্য আকাশ চুম্বি হওয়ায় তারা অর্ধাহারে-অনাহারে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। লোক লজ্জার ভয়ে নিজ বাড়িতে পানিবন্দীদের দূর্ভোগ বেড়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শুকনো মাটির অভাবে ইতিমধ্যে ৪টি মৃতদেহ অন্য এলাকায় দাফন করতে হয়েছে। সড়ক গুলিতে টোংঘরে বসবাসকারীরা টাকার অভাবে পলিথিন ও তাবু ক্রয় করতে পারছে না। পানিতে প্লাবিত সড়ক গুলিতে খানা-খন্দকের সৃষ্ঠি হয়েছে। যার ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। জানাাগেছে, কেশবপুর উপজেলার কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে শুকনো মৌসুমে ইতোপূর্বে ক্রসড্রাম দিয়ে পলি আটকানো হতো এবং বর্ষা মৌসুমে ঐ ক্রসড্রাম তুলে দিলে নদীতে নাব্যতা থাকত এবং নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবৎ কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে ক্রসড্রাম না দেওয়ায় ভদ্রা ও হরিহর নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত বছর কেশবপুরের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। অর্ধাহারে-অনাহারে পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করে। কেশবপুরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য শুষ্ক মৌসুমে ভদ্রা ও হরিহর নদী খনন এবং পরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের নির্মাণের নীতিমালা প্রনয়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তোভোগি জলাবদ্ধ কেশবপুর উপজেলা বাসি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)