ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১২ মিনিট ১২ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ কোনোভাবেই অসুস্থ বা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো ঠিক নয়: ইলিয়াস কাঞ্চন

কোনোভাবেই অসুস্থ বা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো ঠিক নয়: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ: জীবনের আগে জীবিকা নয় সড়ক দুর্ঘটনা আর নয় এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০১৯ এবং জাহানারা কাঞ্চনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে চলছে নিসচার মাস ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। মাস ব্যাপী কর্মসূচির আজ ১৩তম দিনে নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটি গাড়ী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। নিরাপদ সড়ক চাই দাগনভূঞা উপজেলা শাখা কমিটির উদ্যোগে ফেনী শহরে আমেনা সিরাজ কনভেনশন সেন্টারে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন দীন মোহাম্মাদ,সভাপতিত্ব করেন মোঃ শহীদুল ইসলাম সভাপতি নিসচা দাগনভূঞা উপজেলা শাখা। গাড়ী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ওহিদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ এহসান উল হক কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নুরনবী খন্দকার, পুলিশ সুপার, লিটন এরশাদ যুগ্ম মহাসচিব ও আহবায়ক জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন কমিটি, আসাদুর রহমান সমাজকল্যাণ সম্পাদক,নুর নবী শিমু সাধারণ সম্পাদক মটর ড্রাইভিং স্কুল মালিক সমিতি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ওহিদুজ্জামান, প্রথমে নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন। একজন ইলিয়াস কাঞ্চন যিনি আজ ২৭বছর ধরে এই আন্দোলনটি করে যাচ্ছেন। দিনে দিনে আজ এই আন্দোলন সমাজে একটি শক্ত অবস্থানে দাড়িয়েছে। অর্জন করেছে জাতীয় স্বৃকীতি। আমরা প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি একেক জন এমন ইলিয়াস কাঞ্চন তৈরী হতাম। ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো কাজ করতাম আজ আমাদের দেশে এত দুর্ঘটনা থাকতনা। তিনি সকলকে ইলিয়াস কাঞ্চন হবার আহবান জানান। সেই সাথে তিনি আরো বলেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, চালক, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে- মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার নুরনবী খন্দকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের দায়িত্ব নয়। সরকার, নীতিনির্ধারক, পুলিশ, গণমাধ্যম, ব্যক্তিপর্যায়সহ সব পক্ষেরই এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে। সব পক্ষের সচেতনতা, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগই পারে সড়কে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে। শুধু চালকরা দায়ি নয় দুর্ঘটনা কমাতে পথচারীদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, পথচারীরা জানে না কোন পথ দিয়ে হাঁটবে, কীভাবে হাঁটবে এসব নিয়ে সচেতনতা খুবই কম। তিনি দুর্ঘটনারোধে সকল শ্রেণরে মানুষদের সচেতন হবার আহবান জানান।

গাড়ী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ। প্রতিদিনই খবরের কাগজে ভেসে উঠছে বীভৎস সব লাশের ছবি। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর যেন আমাদের গা-সহা হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ ঝরলেও তা আমাদের মনকে আবেগতাড়িত করে না।

নিহতের স্বজনদের আর্তচিৎকার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করলেও তা যেন আমাদের বিবেককে নাড়া দিতে পারছে না। কিন্তু আমরা কি একবারের জন্যও ভেবে দেখি নিহতদের পরিবারের কথা? তারা কি ভুলতে পারে তাদের স্বজন হারানোর কথা?

যে মানুষটি ছিল পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সব স্বপ্ন-আশা-আকাক্সক্ষা ভেঙে চুরমার করে দেয়। তাদের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। এসময় তিনি তার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের স্মৃতি চারনও করেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো কমবেশি সবারই জানা। চালকের অসতর্কতা, অসচেতনতা, বেপরোয়া বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালনা, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া চালকরা অনেক সময় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালায়, যার ফলে একসময় নিজের অজান্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। তাই চালকদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই অসুস্থ বা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। প্রত্যেক মানুষেরই পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম প্রয়োজন।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ওভারটেকিং প্রবণতা। সাধারণত রাস্তায় ধীরগতির গাড়িগুলোকে ওভারটেকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। এ সময় হর্ন বাজিয়ে সামনের গাড়িকে সংকেত দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় সংকেত না দিয়ে একজন আরেকজনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে, যার ফলে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি বের হতে না পেরে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাই সঠিক নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে ওভারটেক করা উচিত।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হল ত্রুটিপূর্ণ সড়কব্যবস্থা। মহাসড়কগুলোতে বাঁক থাকার কারণে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে না পেয়ে অনেক চালক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। রাস্তার পাশে হাট-বাজার স্থাপন এবং ওভারব্রিজ না থাকাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই সাথে ইলিয়াস কাঞ্চন সড়কে সাবধানে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করতে চালকদের নানা দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেন। এবং গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলতে নিষেধ করেন।

ফেনী শহরে আমেনা সিরাজ কনভেনশন সেন্টারে নিরাপদ সড়ক চাই দাগনভূঞা উপজেলা শাখা কমিটির আয়োজনে চলছে গাড়ী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

Posted by ইলিয়াস কাঞ্চন/নিরাপদ নিউজ on Sunday, October 13, 2019

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)