ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট আগস্ট ৩, ২০১৮

ঢাকা সোমবার, ৩ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, বিনোদন, লিড নিউজ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে লন্ডন যাত্রা বাতিল করলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে লন্ডন যাত্রা বাতিল করলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

লিটন এরশাদ , নিরাপদ নিউজ: ‘আজ যদি আমার মা বেঁচে থাকতেন এ সময় মাকে কাছে পেতাম’ সন্তানের এমন হাহাকার ভরা আকুতিতে কি করতে পারেন একজন পিতা? একমাত্র কন্যা হাজার হাজার মাইল দূরে সন্তান সম্ভবা। প্রতিদিনই প্রযুক্তির কল্যাণে কথা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও যোজন যোজন দূর। পিতৃহৃদয় ভিজে হাহাকার। কন্যার এমন প্রশ্নের উত্তর যে তার জানা নেই। বলছি ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা, তার একমাত্র কন্যা ইমার কথা।

আজ থেকে ২৫ বছর আগে সড়কের মরণ থাবায় দুটি সন্তানকে এতিম করে মাকে কেড়ে নিল। মাতৃহারা দুটি সন্তানকে বুকে ধারণ করে মাতৃ এবং পিতৃস্নেহে বড় করে তুললেন। পাশাপাশি স্ত্রী বিয়োগের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জন্ম দিলেন আরেকটি সন্তান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। একসাথে তিন সন্তান বেড়ে উঠলো। তৃতীয় সন্তান আজ আপামর জনতার সন্তান। এদেশের মানুষের বলিষ্ট কণ্ঠস্বর। সার্থক পিতার তিন সন্তান স্ব স্ব অবস্থানে সমুজ্জল।

মেয়ে ইমা, জামাতা ও নাতনির সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন

ইলিয়াস কাঞ্চন মেয়ের এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিলেন নিজেই মেয়ের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে। এই ৫ আগস্ট ফ্লাইট। ইমা স্বামী ও প্রথম সন্তান নিয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। বর্তমানে সন্তান সম্ভবা মেয়ে ইমার পাশে বাবা হিসেবে পাশে থাকাটা ভীষন জরুরীও বটে।

জীবনের এমনই এক মুহূর্ত্বে হঠাৎ ইলিয়াস কাঞ্চন সিদ্ধান্ত নিলেন আপাতত মেয়ের কাছে যাচ্ছেন না। কিন্তু কেন? কারণ হিসেবে জানালেন লন্ডনে আমার একটা মেয়ে। আর এই দেশে বর্তমানে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে রাস্তায় আন্দোলনে হাজার হাজার সন্তান। এই কোমলমতি সন্তানদের রাস্তায় রেখে আমি কি করে মেয়ের কাছে যাই? যারা সড়কের নির্মমতায়, চালকের বেপরোয়ায় হারিয়েছে কয়েকজন সহপাঠী। স্বজন হারানোর বেদনায় আজ তারা আমার তৃতীয় সন্তানকে হৃদয়ে ধারণ করে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী। পুরো বাংলাদেশ এখন নিরাপদ সড়কের দাবীতে চিৎকার করছে। নিয়মের বৈঠা হাতে অনিয়মকে বিদায় দিতে বদ্ধ পরিকর। থাকনা আমার এক মেয়ে ওখানে। আমি আছি সমগ্র বাংলাদেশের সন্তানদের নিয়ে। যাবো ক্ষণ আর কিছুদিন পর। স্বজন হারানোর বেদনা কতটা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায় তা তো আমি জানি। জানি বলেই আমি বাংলা মায়ের কোমলমতি সন্তানদের বেদনাহত মুখ আমায় তাদের স্বজন বানিয়ে দিয়েছে। আপাতত তাই লন্ডন যাওয়া বাতিল। তাছাড়া অনিয়মকে নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধতে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি আছে তা চিহ্নিত করার গুরুদায়িত্বও এসেছে তার কাঁধে। গঠিত তদন্ত কমিটির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চান। আগে প্রিয় বাংলাদেশ, আগে কর্তব্য। তারপর পরিবার জীবন।

বাবা ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে ইমা ও জয়

উল্লেখ্য দেশে সম্প্রতি সময়ে হঠাৎ করে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সব মিলিয়ে সারা দেশে যে আবেগময় একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে না থেকে লন্ডনে মেয়ের কাছে যাওয়াটা তার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি। বুকিং করা টিকেট বাতিল করেছেন। কারণ তিনি ২৫ বছর ধরে যে দাবী করছেন আজ সন্তানতুল্য বাচ্চারা রাস্তায় তা করছে। প্রশাসনের লোক যারা লাইসেন্স চেক করবে তাদেরকেও তারা ধরছে। বৃষ্টিতে ভিজে, কখনও প্রখর রৌদে দাঁড়িয়ে আমাদের এই সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা আর ন্যায় বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং অনন্য দৃষ্টান্তও বটে।

বাবা ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে ইমা ও জয়

ইলিয়াস কাঞ্চন শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে শুরু থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং আজ ৩ অাগষ্ট শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছেন। ছাত্রদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষে, দেশের সড়ক পথকে নিরাপদ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন দেশটাকেই পরিবার বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি চান সড়কের নিরাপত্তা বিধানে ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক পরিবহন’ আইন। মানবিকতাহীন চালক নয়, চান মানবিক চালক। চান না আবারো কোমলমতি শিশুদের রাজপথে বৃষ্টিতে ভিজতে, রোদে শুকাতে। চান সড়কের জন্য যুগোপযোগী আইন। যে আইন পথ দেখাবে সুন্দর আগামীর, শৃঙ্খলা ফিরাবে পরিবহন খাতে। আনবে জীবনে নিরাপত্তার সুদৃঢ় অবস্থান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)