ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৮ মিনিট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় কোরবানির চামড়ার মূল্য: পাচার ঠেকাতে উদ্যোগ নিতে হবে

কোরবানির চামড়ার মূল্য: পাচার ঠেকাতে উদ্যোগ নিতে হবে

নিরাপদনিউজ:  প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার যে দাম সরকার ঠিক করে দিয়েছিল, এবারও সেটাই রাখা হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার নির্ধারিত মূল্য প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চামড়া ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

সরকার গত কয়েক বছর ধরেই বলে আসছে, দেশি গরু-ছাগলেই কোরবানির মৌসুমের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের তৈরি হয়েছে। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে গড়ে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪.৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১.৮২ শতাংশ ছাগলের, ২.২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১.২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সারা বছরে দেশে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর অর্ধেকই জবাই করা হয় কোরবানির ঈদের সময়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের বাজার দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও কমে গেছে। কিন্তু চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে চামড়াশিল্প বিকাশমান। এই শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। চামড়াশিল্পের নেতৃস্থানীয়দের বক্তব্য হচ্ছে, পরিবেশবিষয়ক ছাড়পত্র না থাকায় বেশির ভাগ ট্যানারিতে অর্ডার কমে গেছে। এতে গত বছর সংগৃহীত চামড়ার বেশির ভাগ গুদামে পড়ে আছে। গত বছর সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া এখনো অনেক ট্যানারিতে পড়ে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন পরিবেশগত সমস্যা থাকবে? দায় কার? প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে স্থানান্তরিত সব ট্যানারি এখনো চালু হয়নি। সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে প্লটের সংখ্যা ২০৫টি, শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১৫৫টি। চালু ট্যানারির সংখ্যা ১২৩টি।

পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৭৮টি ট্যানারিকে। আবার গরমের কারণেও অনেক সময় সংগৃহীত চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। অস্বাভাবিক গরমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবারও। গত বছর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয় বলে জানা গেছে। কোরবানির চামড়া গরিবের হক। তারা যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। চামড়া জাতীয় সম্পদ, শিল্পের কাঁচামাল যাতে পাচার হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। পশুর চামড়া যথাযথ পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)