ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় ক্যাসিনেতে অভিযান: জুয়া-মাদকের সব আখড়া বন্ধ করা হোক

ক্যাসিনেতে অভিযান: জুয়া-মাদকের সব আখড়া বন্ধ করা হোক

নিরাপদ নিউজ: বিভিন্ন দেশে জুয়া খেলার জন্য ক্যানিসোর বৈধতা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে জুয়া বা ক্যাসিনো কোনটাই বৈধ নয়। প্রায় সময়ই শোনা যায় জুয়ার আসর থেকে গ্রেফতারের খবর। আদলাতের মাধ্যমে বা তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেয়া হয়। তবে এরা নিতান্তই চুনোপুঁটি, ছোটখাট ক্লাবে বা বনে জঙ্গলে বসে জুয়া খেলে। রাঘব বোয়ালেরা সুসজ্জিত মনোরম পরিবেশে বসে জুয়া খেলে, আর তাদের জন্য রয়েছে বড়বড় ক্লাব কিংবা ক্যাসিনো।

ঢাকার এমনই চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং মাদক দমন নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দল। এসময় পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাসিনোগুলো সিলগালা করার পাশাপাশি সেখান থেকে ১৮২ জনকে আটক করে। তাদের প্রত্যেককে ছয় মাস থেকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া জব্দ করা হয় প্রায় ৪০ লাখ নগদ টাকা, জাল টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, ইয়াবাসহ দেশি-বিদেশি মদ। এই ক্যাসিনোগুলো হল- ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ।

শুরুতে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে, সেখান থেকে ১৪২ জনকে গ্রেফতার করে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী, বিভন্ন বেসরকারি এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা। তাদের প্রত্যেককে ছয় মাস থেকে এক বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে নগদ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ জুয়ার সরঞ্জাম, দেশি-বিদেশি মদ, ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এক সময়কার খেলার ক্লাব বা ক্রীড়া সংগঠনের অফিসে এখন অবৈধভাবে এ ধরণের জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। ফকিরাপুলে অবৈধভাবে এই ক্যাসিনো পরিচালনার দায়ে ইয়ংমেনস ক্লাবের মালিক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে পরে গুলশানের বাসভবন থেকে আটক করে র‌্যাব।

ঢাকায় যেগুলো ক্যাসিনো রয়েছে সেগুলোর একটাও স্বীকৃত নয়, কেননা বাংলাদেশের আইনে কোন ক্যাসিনোকে লাইসেন্স দেয়ার বিধান নেই। মূলত ক্রীড়া সংগঠনের আড়ালে এসব জুয়া খেলা আর মাদক সেবন চলছে। শুধু তাই নয়, এসব ক্যাসিনোতে নারীসঙ্গেরও ব্যবস্থা থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্যাসিনো চলে কিভাবে? প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব তো আছেই, তার সঙ্গে এসব ক্যসিনো চালাতে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। তা না হলে নির্বিঘ্নে এসব চলতে পারত না।

আমরা জানি না, ঢাকায় আরও কত সংখ্যক এরকম অবৈধ ক্যাসিনো রয়েছে, এদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য শহরগুলোতে এরকম জুয়া খেলার ‘সুব্যবস্থা’ নেই তাও বলা যায় না। জুয়ার পাশাপাশি মাদকের অভয়ারণ্য এসব ক্যাসিনো-ক্লাবগুলোকে চিহ্নিত করা হোক। কেউ আইনের বাইরে নয়, এসব অবৈধ-ক্যাসিনো-ক্লাব পরিচালনাকারী যে-ই হোক তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)