ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ২০, ২০১৭

ঢাকা রবিবার, ১০ আষাঢ়, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৩৯

মতামত, রংপুর ‘ক্লান্তি যেনো কিছুতেই ছোঁয় না ওদের’

‘ক্লান্তি যেনো কিছুতেই ছোঁয় না ওদের’

‘ক্লান্তি যেনো কিছুতেই ছোঁয় না ওদের’

আজিজুল ইসলাম বারী, নিরাপদ নিউজ : লালমনিরহাটে হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজের পূর্বগেট। বাম তীরের পাশে ছোট্ট একটি খাল। হাঁটু পানিতে নেমে পাথর সংগ্রহ করছে কম বয়সী কিছু শিশু। প্রতিবার পাথর তোলার সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটছে মুখে। পাথরের ওজন টানার কষ্টকর কাজটাও কি অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছে তারা! ক্লান্তি যেনো কিছুতেই ছোঁয় না ওদের। শুকিয়ে আসা তিস্তায় এখন এমনিতেই মাছের আকাল। জাল গুটিয়ে অনিশ্চিত সময় কাটাচ্ছে জেলেরা। এসব শিশুও তাই রোদে পিঠ পেতে দিনমান মাছের বদলে পাথর খোঁজে হাঁটু পানির নিচে। অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা আর স্কুলেরও সঙ্গেও যে ভীষণ আড়ি ওদের।

শিশুদের কাছ থেকে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে শিশুরা বলেন, হাঁটু পানির তিস্তায় মাছের আকাল পড়ায় তারা পাথর সংগ্রহ করছে। প্রতিদিন এভাবে ৩/৪ ঘণফুট পাথর সংগ্রহ করে প্রতিটি শিশু। এসব পাথর বামতীর বাঁধের কয়েকজন ঠিকাদার ৫০ টাকা ঘণফুট দরে নগদ অর্থেই কিনছেন। শিশুদের একজন আরিফুল হক। স্থানীয় দোহানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ র্থ শ্রেণির ছাত্র হলেও জীবিকার তাগিদে পাথর সংগ্রহ করে সে।

মাঝে মধ্যে স্কুলে যায়। তার বাবা আমছার আলী আগে তিস্তায় মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতেন। এখন তিস্তায় পানি না থাকায় কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাতে চলে না তাদের ৫ সদস্যের সংসার। এ জন্যই তিস্তার এ খালে পাথর সংগ্রহ করে আরিফুল। সে বলে, পেটে ভাত না থাকলে স্কুল যাই কেমনে? পাথর বিক্রি করে দৈনিক আয় হয় দেড় থেকে দু’শ’ টাকা।

সে টাকায় মায়ের চিকিৎসা হয় – যোগ করে আরিফুল। শুধু আরিফুলই নয়, পাথর তুলছে রোহানী, শরিফুল, জালাল, রবিউল, শামছুলসহ অনেকেই। সবার বয়স ৮/১২ বছরের মধ্যে। রোহানী’র বাবা মোকসেদ আলী আগে তিস্তায় মাছ ধরলেও এখন অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজে অক্ষম হয়ে পড়েছেন বছর দুই হলো।

তাই স্কুল আর বই খাতা রেখে বাবার সংসারের হালটা তাকেই ধরতে হয়েছে। সংসারের চাকা সচল রাখতে পাথর আহরণ করছে রোহানী। বর্ষাকালে মাছ ধরলেও এখন পানি শূন্য তিস্তায় অন্য শিশুদের সঙ্গে পাথর তুলছে সে। এরা সবাই লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের তিস্তা ব্যারাজের জেলে পাড়ার শিশু। স্থানীয়রা জানান, তিস্তা পানি শূন্য হওয়ায় মাছ নেই এ নদীতে। তাই জেলে পাড়ার শিশুরা দল বেঁধে এখন পাথর তুলছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)