আপডেট ২৭ মিনিট ২ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভ্রমন খাগড়াছড়িতে মং রাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো বিলীনের পথে

খাগড়াছড়িতে মং রাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো বিলীনের পথে

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মং রাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো বিলীনের পথে

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মং রাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো বিলীনের পথে

খাগড়াছড়ি, ০৫ মার্চ, এবিনিউজ : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রবেশদ্বার মানিকছড়ি উপজেলা ঐতিহাসিক মং সার্কেলের চীফ মং রাজার পুরাতন আদিনিবাস। তার পাশে জেলার একমাত্র বিশ্ব শান্তি উদ্দেশ্যে স্থাপিত রাজ মহামূনি বৌদ্ধ চৈত্য। চৈত্য টিলায় অনেক শত বছরের বটবৃক্ষ এবং স্থাপত্য শৈলী কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। রাজ প্রাসাদের হাজারো স্মৃতি বুকে লালন করে, এলাকার আদিবাসী ও পুরাতন আদি বাংগালী প্রজারা এখনো কেঁদে উঠে ঠুকরে ঠুকরে ।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়ি মং সার্কেল রাজা বীর মুক্তিযোদ্ধা মংপ্রু সাইন বাহাদুর ১৯৮৪ সালে পরলোক গ্রহণ করার পর তাঁহার সহ-ধর্মিনী রানী নীহার দেবী রাজ্যভার গ্রহণ করে । পরবর্তীতে র্বাধক্য জনিত রোগের কারণে তিনিও ১৯৯১ সালে পরলোক গমন করেন। তখন থেকে মানিকছড়ি রাজ্য উত্তরাধীকারী নিয়ে শুন্যতা সৃষ্টি হয়(১৯৯১-১৯৯৮)সাল পর্যন্ত। পরে মং রাজার মংপ্রু সাইনের ভ্রাতুষপুত্র জেলা তথ্য কর্মকর্তা অবসর প্রাপ্ত পাইহ্লাপ্রু চৌধুরী ১৯৯৮ সালে রাজ্য পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন খাগড়াছড়ি জেলার তথ্য অফিসার ছিলেন। ইউএনডিপি’র আমন্ত্রনে বিদেশ সফর শেষে ২০০৮সালের ঢাকা থেকে সৌদিয়া বাস যোগে খাগড়াছড়ি’র উদ্দেশ্যে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজা পাইহ্লাপ্রু চৌধুরী মারা যান । এর পরবর্তী তাঁহার একমাত্র কম বয়সী পুত্র সাচিংপ্রু চৌধুরী রাজ সিংহাসন আরোহণ করেন। বর্তমানে তিনি স্থায়ী মংর াজা হিসেবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে রাজা সাচিংপ্রু চৌধুরী খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ী হেডম্যান পাড়াস্থ(রাজ পাড়া) স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। মানিকছড়ির মং রাজার ঐতিহাসিক স্থাপত্য নির্দশন গুলো বর্তমানে বিলুপ্ত পথে রয়েছে। মং রাজা মংপ্রু সাইন আমলে মায়ানমার(বার্মা) মান্ডালয় থেকে বিশ্ব শান্তি মহামূনি রাজ বৌদ্ধ চৈত্যের মূহামনি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করেন । তখন থেকে প্রতি বছরের পহেলা বৈশাখে ১৪ এপ্রিল মারমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উপলক্ষে মেলা বসে আসছে । এখানে আসা র্দশনার্থীরা মহামুনি বুদ্ধ চৈত্যের ঢুকলে ভেঙ্গে পড়ার আশংক্ষা করেছেন অনেক পুন্যার্থীরা। এ ছাড়া মহামুনি টিলায় সিড়িঁ গুলো বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভেঙ্গে গেছে । এই স্থাপনা গুলো বর্তমানে সংষ্কারের অভাবে  বিভিন্ন অংশের ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া মুহামনি টিলায় পূরাকীর্তি স্থাপত্য মং রাজ পরিবারের রাজা ও পরিবারে সদস্যদের স্বৃতি মঠ, নানুমা দেবী হল, রাজ জেত বন বৌদ্ধ বিহার সহ গুরুত্ব পূর্ণ স্থাপনা গুলো সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে রয়েছে।
এ ব্যপারে পুরাতন রাজ পরিবারে সদস্য বাবু সুইচিংপ্রুকে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি বলেন,সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরে সংস্কারের জন্য আবেদন পরিকল্পনা চলছে এবং সীমানা প্রাচীর গুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
রাজ জেতবন বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ শ্রীমৎ উত্তমা মহাস্থবির বলেন, মং রাজার স্থাপত্য গুলো আচিরে সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরী প্রয়োজন। মানিকছড়ি’র প্রেস ক্লাবের তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্রে মারমা বলেন এ ভার্ষ্কয ও  প্রাচীন স্থাপত্য গুলো অতি দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণা-বেক্ষণ করা না হলে প্রাচীন স্থাপত্য গুলো বিলীন হয়ে যাবে।বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত মং সার্কেলের রাজা সাচিংপ্র“ চৌধুরী জানান, মানিকছড়ি পুরাতন ঐতিহ্যবাহী রাজার কীর্তি সকল স্থাপনা গুলো সংরক্ষন করা সকলের দায়িত্ব রয়েছে । বর্তমান মং রাজার রাজবাড়ী জেলা সদরে স্থানান্তরিত থাকায় ও জেলার সদর থেকে দুরবর্তী হওয়ার ফলে ঐতিহ্যবাহী ধরে রাখার নিমিত্তে পার্বত্য অঞ্চলের প্রজাদের স্বার্থে জাতীয় যাদুঘর করার পরিকল্পনা আছে। প্রথম পহেলা বৈশাখে রাংগুনিয়া পাহাড়তলী, হাটহাজারী জিঞাংব্রাং ফটিকছড়ি কাঞ্চন পুর ও মানিকছড়ি রাজার পুরাতন কীর্তি স্থাপনা এলাকায় পরিদর্শন ও ভ্রমন করে বর্তমান সরকারকে সংরক্ষন করা জন্য অনুরোধ জানাবো।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা জানান, খাগড়াছড়িতে আগমন মনুষ্যত্ব প্রথম আবির্ভাব রেম্রাচাই রায় বাহাদুর প্রত্যাবর্তন করেন । বর্তমান জেলা শহর মূল কেন্দ্রস্থ বড় বাজার জায়গা দান, মারমা বড়–য়া রাখাইন চাকমা বৌদ্ধদের য়ংড বৌদ্ধ বিহার, মুসলমানদের বড় বাজার মসজিদ, সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী শ্রী নারায়ন ও কালি মন্দিরের জায়গা দান করে অতুলনীয় প্রশংসা রেখে গেছেন । ব্রিটিজ শাসন আমলে তৎকালীন রামগড় মহকুমায় মানিকছড়ি মং সার্কেল পুরাতন রাজবাড়ীটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)