ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সাক্ষাৎকার খাদ্যে ভেজালের মহোৎসব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

খাদ্যে ভেজালের মহোৎসব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

ছদ্মবেশী শত্রু বেশি ভয়ংকর, কারণ তাদের কেউ কেউ বন্ধুবেশেই থাকে। লেবেলযুক্ত বিষের কৌটা অন্তত এদিক দিয়ে ভালো যে নিরাপদ মনে করে আমরা ঢকঢক করে পান করব না। সেই বিষই বেশি প্রাণঘাতী, যা অলক্ষ্যে খাবারে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা নিজের প্রয়োজনেই মানুষ করে। আবার আত্মকেন্দ্রিকতা ছাড়িয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও দেখা হয় ব্যবসাকে। একজন ব্যবসায়ী নিজের পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থানই শুধু করেন না, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈমিত্তিক চাহিদাগুলো পূরণ করেন। আর তাঁর এই ভূমিকা সমাজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলেই নীতিনৈতিকতা, আদর্শ বা সততা থেকে চ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই। এর পরও অতিরিক্ত মুনাফার লোভ কাউকে কাউকে মানুষ থেকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। তখন একজন ব্যবসায়ী জেনেবুঝে খাদ্যে ফরমালিন মেশাতে পারেন, খাঁটি তেলের মোড়ক লাগিয়ে বিক্রি করতে পারেন মাত্রাতিরিক্ত এসিডসংবলিত তেল।
অপরাধ তখনই লাগামহীন হয়, অপরাধী হয় বেপরোয়া, যখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। এই শাস্তিদানের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজরদারি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও যুগোপযোগী আইন না থাকারও যোগসূত্র রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশে খাদ্যে ভেজালকারী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এককথায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। মাঝেমধ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান চললেও তা যেন অনেকটাই রুটিনমাফিক। কঠোর শাস্তির নজিরও কম। তদন্তে দুর্বলতা বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে এসে কিংবা নামকাওয়াস্তে কিছু জরিমানা দিয়ে ফের অপকর্মে লিপ্ত হয়। রয়েছে ‘অভিযান বাণিজ্যেরও’ অভিযোগ। আসলে প্রশাসনযন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ হলে, সার্বিক নৈতিকতা ও আদর্শের অধঃপতন ঘটলে অপরাধ ডালপালার বিস্তার ঘটিয়ে একদিন মহীরুহ হয়ে ওঠে। তখন আর এর মূলোৎপাটন সহজ হয় না।
আর ভেজাল শুধু কি তেলে? ফলমূল থেকে শুরু করে শাকসবজি, মাছ-মাংস প্রায় সব কিছুতেই। ফলে মানুষ কিডনি, লিভারসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই ভেজালবিরোধী সর্বাত্মক লড়াই এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। যুগোপযোগী আইন, সেই সঙ্গে আইনের সঠিক প্রয়োগই পারে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক মহলের সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় ভেজালের বিষবৃক্ষটি সব কিছু গ্রাস করে নেবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)