ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১৮, ২০১৪

ঢাকা সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১১ জিলক্বদ, ১৪৪০

জাতীয়, মানবাধিকার সংবাদ গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি : ‘পাকিস্তানে শিশু হত্যাকারীরা ইসলামের সেবক নয়’

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি : ‘পাকিস্তানে শিশু হত্যাকারীরা ইসলামের সেবক নয়’

 হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪, নিরাপদনিউজ : পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেদেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি স্কুলে স্মরণকালের নির্মম ও নৃশংস জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশোয়ারের পাক সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তেহরিক-ই-তালেবানের পাঠানো ৯ জঙ্গির নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলায় ১৩২ শিশুসহ মোট ১৪১ জন খুন হয়েছে। এই ধারণাতীত বীভৎস হামলার সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হচ্ছে, কচি কচি শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। নিরপরাধ শিশুদের হত্যা করতে যাদের হাত কাঁপে না এবং বিবেকে বাধা দেয়না- তারা কোনোভাবেই মানুষ হতে পারেনা। শিশুদের তো কোনো দোষ ছিলনা। কিন্তু সেনাবাহিনীর ওপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নির্দোষ শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত নৃশংস অপরাধ। ইসলাম কোনোভাবেই এই ধরনের ঘৃণ্য গণ-হত্যালীলা সমর্থন করেনা। যারা হামলা চালিয়েছে, তারা কোনোভাবেই ইসলামি আন্দোলনের সেবক বা কর্মী হতে পারে না।
তারা বলেন, মুসলিম বিশ্ব এখন চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। এই ক্রান্তিকালে হক-বাতিলের লড়াই খুবই ঘোলাটে হয়ে আছে। কে কার শত্রু বা মিত্র তা নির্ণয় দুরূহ হয়ে পড়েছে। ইসলামি আন্দোলনের নামে অসংখ্য পক্ষ-বিপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে ‘জিহাদে’ লিপ্ত। এক মুসলমান আরেক মুসলমান ভাইয়ের জান কেড়ে নিচ্ছে। পারস্পরিক অন্তর্দ্বন্দ্বে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে শেষ করছি।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, পাকিস্তানের পেশোয়ারে সংঘটিত এই ঘৃণ্য নারকীয় হত্যাযজ্ঞ কোনো প্রকৃত ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের দ্বারা সম্ভব হতে পারেনা। যারা কচি নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এই গণহত্যা চালিয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির যোগসাজশেই এটি ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। এই বিশ্বনিন্দিত জঙ্গি হামলার ঘটনায় একদিকে যেমন মার্কিন ড্রোন হামলার ন্যায্যতা বাড়ে, তেমনি পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্তও সফল হয়। তাই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পক্ষগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান হলো যে, আপনারা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে অন্তর্দ্বন্দ্ব পরিহার করে ঈমানি চেতনায় জাতীয় সংহতি গড়ে তুলে দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা বিদেশি এজেন্ট ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। তাহলেই পাকিস্তানে শান্তি, স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)