আপডেট অক্টোবর ১২, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ১ জিলক্বদ, ১৪৩৯

বিনোদন গান ও রাজনীতি নিয়ে মনির খানের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা

গান ও রাজনীতি নিয়ে মনির খানের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা

গান ও রাজনীতি নিয়ে মনির খানের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা

১২ অক্টোবর, ২০১৭, নিরাপদ নিউজ :  জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান। বাস্তবধর্মী গান উপহার দিয়ে শ্রোতা মহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শুরুতে অনেক বেশি কাজ করলেও মাঝে গান থেকে প্রায় চার বছর বিরতি নিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও গানে সরব হয়েছেন তিনি। গানের পাশাপাশি রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন অনেক আগেই। আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নেরও চেষ্টা করছেন। রাজনীতি এবং গানের ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে তার? গান নিয়ে সামনের দিনগুলোতে কী পরিকল্পনা করছেন? কিংবা রাজনীতি নিয়ে সাম্প্রতিক পরিকল্পনা কী? এসব নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়া তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

সঙ্গীত থেকে অনেক দিন দূরে ছিলেন, কারণ কী?
কিছু কিছু বিষয় ছিল আমি মানতে পারছিলাম না। বিগত কিছু বছরে মনে হয়েছে গান দেখার বিষয় হয়ে গেছে, শোনার বিষয় নয়। গান হবে শোনার বিষয়। যা হৃদয় স্পর্শ করবে। কিছু অস্থিরতার শিকার এবং নিজেকে সেভাবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলাম না। তাই নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য সময় নিয়েছি। কিন্তু শ্রোতাদের ধরে রাখার জন্য যা করা দরকার তা আমি করেছি। মূলত, ব্যক্তিগত সমস্যা এবং এসব কারণ মিলিয়েই কিছু দিন গান থেকে খানিকটা দূরে ছিলাম।
বর্তমানে গানের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এখন অ্যালবাম প্রকাশের যুগ নেই। কিছু সিঙ্গেল গানের কাজ শেষ করেছি। শিগগিরই আমার ইউটিব চ্যানেলে ছাড়ব। এছাড়া আমার প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ গান একটি অ্যালবামের মতো করে আমার চ্যানেলে প্রকাশ করব। অনেক গান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানেও সময় দিতে হচ্ছে।
বিরতির কারণে দর্শকপ্রিয়তার ওপর প্রভাব পড়ছে না?
আমি শ্রোতাদের কাছে আগের জায়গায়ই আছি। সেখান থেকে খুব দূরে চলে যাইনি। যারা বাস্তববাদী আর সত্যের গান শোনেন, সুস্থ ধারার গান ভালোবাসেন তাদের কাছাকাছি থাকতে পেরেছি। শুরুতে যারা আমাকে গ্রহণ করেছেন বিরতির পরও তারা তাদের চাহিদাটা আরও বেশি আমার প্রতি দেখিয়েছেন। এমনটাই প্রমাণ পেয়েছি বারবার।
একজন বাস্তববাদী শিল্পী হিসেবে মনির খান পরিচিত- বিষয়টি কেমন লাগে?
এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি একমত। কারণ আমি সবসময় চেষ্টা করি মানুষের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব বাস্তব ঘটনা, মানুষের পরবর্তী জীবন, মানুষের সংগ্রাম করা জীবনের ঘটনা- এসব থেকেই কথাগুলো গুছিয়ে সুর করতে। বিষয়টি আমারও ভালো লাগে। শ্রোতারাও চায় আমি এমন গান করি। তাদের চাওয়াই আজকের মনির খান।
বর্তমান অডিও বাজার নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
অডিও বাজার নেই বিষয়টি এমন নয়। অডিও বাজার আছে। কিন্তু অডিও বাজারে সিডি বিক্রির প্রক্রিয়া আগের মতো নেই, বলা যায় প্রক্রিয়াটি বিলুপ্তের পথে। অডিও বাজার দিয়েই আমাদের চিনেছে মানুষ। অনেক শ্রোতার জন্ম অডিও বাজারের হাত ধরেই। এখন হয়তো মাধ্যমটা পরিবর্তন হয়েছে। গান এখন মানুষের চলার পথের সঙ্গী হয়ে আছে। ক্যাসেট বিক্রির প্রক্রিয়া কমে এলেও সঙ্গীতের পথ বিস্তর হয়েছে। শ্রোতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকে সবার যথাযথ কাজে লাগাতে হবে।
চলচ্চিত্রের গানে জনপ্রিয়তা পেলেও এখন অনিয়মিত কেন?
অ্যালবামের গানের মতো চলচ্চিত্রের গানেও এক ধরনের দৈন্যদশা লক্ষ্য করা যায়। এখনকার চলচ্চিত্রের গান আগের মতো নেই। ছবি হচ্ছে অনেক কিন্তু সুষ্ঠু ধারার ছবি হচ্ছে না। তাই এখন হিসাব করে মানসম্পন্ন গান করি। কিছু ভালো ছবি অবশ্য হচ্ছে, তবে সেখানেও গানের গুরুত্ব কম থাকছে।
গানের বাইরে রাজনীতির মাঠেও আপনাকে পাওয়া যায়। রাজনীতির প্রতি দুর্বলতা কিংবা বিশেষ কোনো কারণ আছে?
বিশেষ কোনো কারণ নেই। গানের জগতে আসার আগে যখন আমি কলেজে পড়তাম তখন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন ছাত্র সংসদে নির্বাচনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে পুরো প্যানেল থেকে আমি নির্বাচিত হই। তারপর যখন ঢাকায় আসি তখন গানের নেশা ঢুকে যায়। ফলে সেভাবে আর রাজনীতি করা হয়নি। তবে মনে-প্রাণে রাজনীতির বিষয়টি গেঁথে ছিল।
তখন কি গানের কারণে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে গিয়েছিলেন?
গানের কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ২০১০ সালে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে দক্ষতার সঙ্গে ৬ বছর কাজ করেছি। বর্তমানে সেখানে সহসাংস্কৃতি-বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে…
আমার এলাকা হল ঝিনাইদহ। সংসদীয় আসন-৩। উপজেলা মহেশপুর এবং প্রচ্ছেদপুর নিয়ে ভোটার প্রায় ৪ লাখ। সবার সমর্থনেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তা হলে অবশ্যই জনগণের সেবা করার সুযোগটি গ্রহণ করব।
এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছিল?
আমার এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম মাস্টার গত বছর মারা যান। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় এলাকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে অমার আসা যাওয়া ছিল। এলকার রাজনীতির সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম এবং আছি। এ কারণে মানুষের মধ্যে আমাকে নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই এমন পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল।
প্রার্থী হিসেবে বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
আমি আগেই বলেছি এলাকার সবাই আমাকে সমর্থন করেন। চেনা-জানা। তাই বিশেষ কোনো প্রস্তুতির দরকার হচ্ছে না। শুধু সবার সঙ্গে যোগাযোগ আগের চেয়ে একটু বেশি করতে হচ্ছে।
রাজনীতির জায়গায় নিজেকে কীভাবে প্রমাণ করতে চান?
আমি মনে করি গানের ক্ষেত্রে যেমন আমার ভাবনা ছিল সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নেয়া, তাদের জন্য গান করা, রাজনীতির বেলায়ও তাই। আমি দল-মত পার্থক্য করতে চাই না, চেষ্টা করব জনসাধারণের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে। গানের মতো রাজনীতিতেও আস্থার জায়গা ধরে রাখতে চাই।
এ পদে জয়ী হলে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন?
জনসাধারণের সঙ্গে আমারও আস্থা আছে আমি তাদের পাশে থাকার সুযোগ পাব। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সবার আগে যে বিষয়টির দিকে নজর দেব সেটি হচ্ছে, আমার এলাকার বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা করব। তার পাশাপাশি কে কোন দলের সেটি না ভেবে সমসাময়িক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার সাধ্যমতো সবার পাশে থাকার চেষ্টা করব।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)