ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৭ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১৩ রজব, ১৪৪০

সম্পাদকীয় গুঁড়া দুধ বিক্রিতে জালিয়াতি: বিএফএসএর নির্দেশনা সময়োপযোগী

গুঁড়া দুধ বিক্রিতে জালিয়াতি: বিএফএসএর নির্দেশনা সময়োপযোগী

নিরাপদ নিউজ : গুঁড়া দুধসহ বিভিন্ন ধরনের শিশুখাদ্য এবং পানীয় ও অন্যান্য পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও কায়দা করে বিক্রি করা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। মেয়াদের লেবেল বদল করে কাজটি করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরা কাজটি করতে গিয়ে বিন্দুমাত্র মনঃপীড়ায় ভোগেন বলে মনে হয় না। অনেকে বাণীও দিয়ে থাকেন মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ছয় মাস পর্যন্ত এসব পরিশুদ্ধ থাকে।

হয়তো থাকে; কিন্তু ঝুঁকি নিতে হবে কেন? বিশেষ করে শিশু ও রোগীর ক্ষেত্রে। মুনাফার লোভ এত বেড়েছে যে সততা ও মূল্যবোধের বালাই তাদের নেই। হাল আমলে ব্যবসা মানে প্রতারণা। যথাযথ নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভাবের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর অবসান দরকার।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইচ্ছামতো মেয়াদের নতুন তারিখ বসিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধ বিক্রি করছেন কিছু ব্যবসায়ী।

মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব কান্ড ধরা পড়ে। মাঝেমধ্যে জেল-জরিমানাও করা হয়। কিন্তু এ অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অনিয়ম, দুরাচারিতা বন্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আমদানি করা গুঁড়া দুধে জালিয়াতি করে কোনো ব্যবসায়ী যাতে উৎপাদনের ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার নতুন তারিখ না লিখতে পারে, সে বিষয়ে তৎপর হয়েছে তারা। সম্প্রতি কাস্টম হাউসগুলোকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বিএফএসএ।

প্রচলিত নিয়মে আমদানি করা গুঁড়া দুধ খালাসের আগে মোট পরিমাণের ১০ শতাংশ পরীক্ষা করা হয়। এই ১০ শতাংশ দুধের ব্যাগে বা কার্টনে থাকা উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং ব্যাচ নম্বর কাস্টম হাউসগুলোতে সংরক্ষণ করা হয়। বাকি ৯০ শতাংশের গায়ে মেয়াদের উল্লেখ আছে কি নেই তা পরীক্ষা করা হয় না এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যও সংরক্ষণ করা হয় না।

ফলে বাজারে রাখা গুঁড়া দুধের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। নতুন নির্দেশনায় পুরো কনটেইনার বা কার্টনের গায়ে লেখা উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং ব্যাচ নম্বর সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে বিভিন্ন কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষকে।

নতুন যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তার জন্য বিএফএসএকে সাধুবাদ জানাতে হয়। আরো আগেই এমন নির্দেশনা দরকার ছিল। যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে বাজার মনিটরিং সহজ হবে।

কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে জালিয়াতি করে থাকলে রেকর্ড মিলিয়ে সহজেই তাদের ধরা যাবে। ফলে পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা যায়। আমরা আশা করি, মানুষের মঙ্গলের, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের কথা ভেবে সংশ্লিষ্টরা এ নির্দেশনা মান্য করবেন। বাজার মনিটরিংয়ের ধারাবাহিকতাও রাখতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)