ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৭ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ৯ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

ভ্রমন গোয়ার সৈকত গুলো অতুলনীয়

গোয়ার সৈকত গুলো অতুলনীয়

কালাঙ্গুটে বিচে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

নাসিম রুমি, ১৬ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ: গোয়া মানি একের পর এক সৈকত। কোনওটা উত্তাল, কোনওটা নিরালা, কোথাও বা চলছে নানা জলক্রীড়া। আবার কোথাও রঙ্গীন ছাতার নীচে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা স্বপ্নবস্ত্র পরিধান করে সৈকত উপভোগ করছেন। বিশেষ করে অঞ্জুনা ভাগাতর ও কালাঙ্গুটে বিচে বিদেশী মহিলা পর্যটকরা এত স্বপ্নবস্ত্র পরিধান করেন যা কিছু ভদ্র পর্যটক লজ্জার মাঝে পতিত হন। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল গোয়াতে ভ্রমণে যাবো। মুম্বাইতে একাধিকবার ভ্রমণ যাওয়ার সুযোগ হলেও এই প্রথমবার ২০১৫ সালে গোয়াতে ভ্রমণে যাওয়ার সোভাগ্য আমার হয়েছিল। আমার সফর সঙ্গ ছিলেন বন্ধু জামিল। প্রথমে দুরন্ত এক্সপ্রেসে ট্রেনে চেপে বসলাম সকাল ৯.৩০ মি। পরের দিন সকাল দশটার সময় মুম্বাই পৌছাইলাম। মুম্বাইতে পাঁচদিন অবস্থান করে ১৪ ঘন্টার ট্রেন ভ্রমণে মুম্বাই থেকে গোয়াতে পৌঁছালাম যখন তখন রাত আটটার। গোয়ার রাজধানী শহর পানাজিতে পার্কলজের থাকার ব্যবস্থা হয়ে গেল।

অঞ্জুনা বিচ

ঢাকা থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সমুদ্র-ঘেষা মিরমার বিচের ধারে কোন এক প্রান্তে অবস্থান করবো মিরমার বিচে। অন্য প্রান্তে মান্ডবী নদী। তাই গোয়াতে ভ্রমণে আসলে আগেই ঠিক করে নিন কোথায় থাকবেন। মান্ডবী নদীর পাড় ঘেষে শহরের প্রাণকেন্দ্রে, নাকি সমুদ্র ঘেষা মিরমার বিচের ধারে। গোয়াতে পর্তুগিজ আমলের বাড়িঘর দেখতে চাইলে যেতে হবে ফন্টেনাস অঞ্চলে। সন্দেবেলা মান্ডবী নদীতে বোষ্টক্রুইজে যেতে পারেন। যদিও নাচ-গান উল্লাস কখনও বড্ডবেশী মনে হতে পারে, এখনো উল্লাসে মেতে এলোমেলো হয়ে যেতে পারেন তবুও বোটে বসে পানাজি শহরের ছবি দেখতে মন্দ লাগবেনা। আমাদের তো বেশ ভাল লেগেছিল। বেশ ইনজয় করেছি। পানাজির এক প্রান্তে মিরামার বিচ। এই বিচটি বড় শান্ত বড় নিরিবিলি। নারিকেল গাছের ছায়াতে বসে সমুদ্র উপভোগ করাটা বেশ আনন্দের। এই বিচের পানি খুবই নীল। বিচের ঢেউ অদূবে পাহাড়ের গায়ে স্পর্স করছে। সত্যিই দৃশ্য অতুলিনীও। মিরামার ছাড়িয়ে পানাজির আরেক আকর্ষণ ডোনা পাওলা। গোয়াতে মোট ১৪টি সৈকত রয়েছে। নর্থ গোয়াতে ভাগাতোর বিচ, অঞ্জুনা, বাগা ও কালাঙ্গুটে বিচ বেশ জনপ্রিয়।

পাপকোলিয়া বিচ

বিশেষ করে কালাঙ্গুটে ও অঞ্জুনা বিচে পর্যটকদের ভীর লেগেই থাকে। এ দুটি বিচে পর্যটকদের আকৃষ্ঠ করার জন্য সবধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী পানাজি থেকে মাত্র ১৫কি:মি: দূরে কালাঙ্গুটে ও অঞ্জুনা বিচ। বিচের একধারে হোটেল ও পানাহারের ব্যবস্থা। কালাঙ্গুটে উত্তরে বাগা বিচ। নদীর মোহনার ধারে এই বিচও জনপ্রিয়। কালাঙ্গুটেতে আমরা সানফ্লায়ার বিচ রিসের্টে ছিলাম। রিসর্টটি বেশ পরিছন্ন হাত বাড়ালেই সমুদ্র। হাত বাড়ালেই নারিকেল গাছের বাগান ও পাহাড়। সত্যিই এই অপরূপ সৈকতভূমির সোন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার মত ভাষা আমার জানা নেই। দুইদিন এখানে ছিলাম। মনে হয়েছিল স্বর্গে বসবাস করছি। এদিকে বন্ধু জামিল ব্যবসার বিশেষ কাজের জন্য গোয়া থেকে কলকাতায় চলে আসে। কিন্তু গোয়ার সোন্দর্য্য আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে। বাধ্য হয়ে আমি আরও ৪টি দিন গোয়াতেই একাকী অবস্থান করলাম।

মিরামার বিচ রিসর্টে লেখক

একাকী ভ্রমণের ভিন্নতা রয়েছে। রয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা। নিজেকে ভাল করে জানতে হলে গোয়া একাকী ভ্রমণের শেষ্ঠ জায়গা বলে আমার কাছে বিবেচিত হয়েছে। চলতি বছরের পুনরায় গোয়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ যাত্রায় সঙ্গী বিহীন সফর হবে। কেননা নিজেকে আমি আরও ভাল করে উপলদ্ধি করতে চাই। নিজের দোষ, ক্রটিগুলো আয়নার মত পরিস্কার হতে চাই। আর গোয়ার বিখ্যাত পানীয় কাজো ফেনীর স্বাদ নিতে চাই। চুমুকেই সুখ, চুমুকেই তৃপ্ত এবং চুমুকেই অফুরান্ত আনন্দ। শুধু ভারতের গোয়াতে ভ্রমণে গেলেই এই পানীয় স্বাদ নেওয়া যায়। গোয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিচটির নাম হচ্ছে পালোলেম বিচ। আরব সাগরের তীরে একফালি বাঁকা চাদের মত সাগর বেলা। নীল সমুদ্র আর তার বুকে জেগে থাকা একেকটা পাহাড়। এখানে বিদেশী পর্যটকদের বেশী ভীড়। কেননা সৈকতটি বেশ নিরিবিলি।

সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)