আপডেট ২৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১

ভ্রমন গোয়ার সৌন্দর্য্য পর্যটকদের বারে বারে হাতছাঁনি দেয়

গোয়ার সৌন্দর্য্য পর্যটকদের বারে বারে হাতছাঁনি দেয়

গোয়ার নির্জন অঞ্জুনা বিচে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

গোয়ার নির্জন অঞ্জুনা বিচে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

নাসিমরুমি, নিরাপদনিউজ : ভারতের পশ্চিম প্রান্তের গোয়াতে বাধা পড়ল আমার প্রাণ। ভালবাসার নয়া সংজা ডোনাপাওলা। এখানকার বাতাস আজও ভারী বিচ্ছেদের বেদনায় আমার প্রথম ডেষ্টিনেশন হল ডোনাপাওলা। পানাজি শহর থেকে ৭কিমি দূরে ইমোশনাল অধ্যায়ের ইতিকথা। সকালের সোনা রোদ ভেসে বেড়ায় নারকেল গাছের ফাঁক গলে পাহাড়ি উঁচু রাস্তায়। পর্তুগিজ ভাইসরয়ের কন্যা ডোনাপাওলা প্রেমে পড়েন গোয়ানিজ যুবক গ্যাসপারের। অসম প্রেম ডোনার পরিবার থেকে আসে বাধা, আপক্তি তার পরে অশান্তি। জীবনে কখনও এক হতে না পারার সম্ভাবনা নিশ্চিত জেনেই এই পাহাড়ি টিলা থেকে ঝাঁপ দিয়েই আরব সাগরের জলে নিজেদের ভাসিয়ে দেয় ডোনা আর গ্যাসপার। দুটি নিথর দেহ ভেসে বেড়ায় সাগরের জলে। ভালবাসার শেষ ওখানেই নাকি ভালবাসার শুরু ওখানেই। সেই থেকে এখানকার নাম ডোনাপাওলা। টিলার ওপর থেকে আরব সাগরের রূপ অপরূপ। টিলা থেকে সাগর, আজও মনে হয় সবেতেই ভেসে বেড়ায় দুটি শরীরর শেষ দীর্ঘশ্বাষ।

ওপর থেকে চোখ পড়ে মান্ডবী আর জহুরী নদীর সঙ্গে আরব সাগরের সঙ্গম। দুটো নদী যা পেরেছিল, দুটো মানুষ তা পারেনি সেদিন। জহুরী নদীর মোহনার কাছে নেমে আসি। ওয়াটার স্পোর্টসের ঢালাও আয়োজন। সাগরের নীল জলে লাল-নীল-সবুজ নৌকার ভির। মন পবনের নাও-টা শুধু ভেসে বেড়ানোর অপেক্ষায়। গোয়ার টান যে চোরাটান। মানসিক, শারীরিক, বৈধ, অবৈধ, ভাললাগা, মন্দলাগা-এই সব নিয়েই গোয়া। ভাটার টান যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকেই যেতে হবে। নিজের আয়ত্তে, নিজের শাসনে কিছুই আর নেই।

অঞ্জুনা বিচের সবচেয়ে নির্জন অপূর্ব সুন্দর একাংশ

অঞ্জুনা বিচের সবচেয়ে নির্জন অপূর্ব সুন্দর একাংশ

সব কিছুই লাগামছাড়া, বাঁধনহারা। ১৯৮৭ সালে ভারতের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পেল গোয়া। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সহ্যাদ্রি পর্বতে কাজ, নারকেল গাছ আর সমুদ্রের আপ্যায়ন। রাজ্য জুড়ে পূর্তগিজ স্থাপত্যের ছোঁয়া। স্বপ্নের মতো সি-বিচ, নীল নীল আকাশ, ততোধিক নীল সমুদ্রের জল, তার থেকে বেশি নীল রঙ ঘোর লাগা চোখে, লেগে থাকা স্বপ্ন।

সি-বিচের বাইরে অভিজাত্যেও গোয়া আর সি-বিচের ভেতরে উঙ্কি আঁকা অনাবৃত শরীরের মেলা। শরীরের দুই অঙ্গ আবৃত আর চোখ দুটি ঢাকা কালো কাচের আবডালে। মাদকের উম্মাদনা নেই কিন্তু মাদকতার প্রেনেড হানা হৃদয়ের নিলয়-অলিন্দে। সূর্যের তখন পড়ন্ত যৌবন। কোলভা বিচের কোলে ঢুলু ঢুলু সূর্য। দক্ষিন গোয়ার জনপ্রিয়তম বিচ কোলভা। নারকেল গাছের ফাঁকে আনকোলা ভঙ্গিতে সুমদ্র সৈকত। প্রকৃতির এখানে মন নেই, চৈতন্য নেই। বিচ লাগোয়া একটা রেস্তারায় বসি আমি সন্ধ্যাটা এখানে কাটিয়ে ফিরব পানাজির হোটেলে। সামনে উদার সমুদ্রের দেদার আনন্দ। একটু দূরে স্বল্প বস্ত্র পরিধান করে দুই বিদেশী বেসামাল। বিচ লাগোয়া রেস্তারাগুলোয় আলো জ্বলে।

সাউন্ড সিষ্টেমে বাজতে থাকে গোয়ানিজ গানের সুর। সুর যখন সুরায় মেশে তাও আবার গোয়ার সি বিচের মতো পরিবেশে তখন ঘোর লাগে স্বপ্নে।সময়ের উজান ঠেলে মনের পাল্লা খুলে মন ভাসে মাদকতায়। ভারতের বৃহত্তম সি-বিচ কালাঙ্গুটে। সাগরের বুকে অবিশ্রান্ত হাওয়া। সফেন সমুদ্রের মাথায় সাহসী সূর্য। বল্পাহীন ঢেউ এর দাপটে আচ্ছন্ন হয় হৃদয় আর শরীর। সি-বিচে সান বাধ নেওয়ার জন্য কেদাবায় আধশোয়া বিদেশিনী।

গোয়ার বাগা বিচে লেখক নাসিম রুমি

গোয়ার বাগা বিচে লেখক নাসিম রুমি

এক সময় কালাঙ্গুটে বিচে হিপিদের খুব দৌরাত্ব্য ছিল। এখানে ওয়াটার স্পোর্টসের ঢালাও আয়োজন। ওয়াটার স্কুটার, প্যারা গ্লাইডার, প্যারাসেইলিং, রঙ্গিন ফানুস-এর ভরপুর মস্তি। আষাঢ় মনেহয় কখনো শ্রাবণকে ভালোবেসে ছিল তাই কাছে না পাওয়ার যন্ত্রনা থেকেই বর্ষায় এত বৃষ্টি হয়। আকুল হয় আকাশ ব্যাকুল হয় বাতাস। কিছু কথা অমিল, কিছু চাওয়া স্বার্থহীন। তবুও হৃদয়ের যন্ত্রনাটা থেকেই যায়। খুব আক্ষেপ, অভিমান লাইফ পেরিয়ে আজ ২৪/১২/২০১৪ইং গোয়ার অঞ্জুনাও কালাঙ্গুটে সৈকতে শেষ পবণের রাত্রি।

 

সময়ের সঙ্গে বদলিয়ে যায় জীবন আর জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক। শেষতক সম্পর্কেও ফাটল ধরে। গোয়ার অঞ্জুনা ও কালাঙ্গুটের বীচে বিদেশীরা অর্ধনগ্ন অবস্থায় সানবার্থ ও স্নান করবেনা তা কি ভাবা যায় ? অঞ্জুনা বীচে পাথরে এসে ধাক্কা খায় ঢেউ, আবার ফিরত যায়, আবার ফিরে-ফিরে আসে। আবহমানকাল ধরে এভাবেই চলে আসছে। পাহাড় আর সারি-সারি নারিকেল গাছ লাগামহীন ঢেউ মনটাকে রঙ্গিন করে তোলে। পূনরায় বলছি গোয়ার সৈকত আর তাতে বিদেশী নেই তাতো হতেই পারে না। বীচ লাগোয় আর সার বাধাঁ নৌকা।

দক্ষিণ গোয়ার কোলাবা বিচে  লেখক

দক্ষিণ গোয়ার কোলাবা বিচে লেখক

 

এছাড়াও ছোট ছোট রঙবেরঙ্গের ছাওয়া কুড়েঘর। বিদেশীদের বিশ্রামাগারও বলা যায় আবার প্রয়োজনে নিশিযাপনও করা যায়। সী-বিচ থেকে একটু দূরে পাহাড়ের কোলে বসে নারিকেল গাছের সমুদ্রের দিকে তাকাই ঠিক সেই মুহুত্বে দেখতে পেলাম এক যুগল বিদেশী আমার দিকে ইশারা করছেন।

 

 

 

 

 

 

তারা খুবই অন্তরঙ্গভাবে ছিলেন, আমি তাদের কাছে আসি এবং হতভাগ হয়ে যাই। কারণ গত দুই বছর আগে আমি যখন গোয়তে এসেছিলাম তখন এই র্জামানির প্রেমিক-পেমিকার সাথে ট্যুরিষ্টবাসে পরিচয় হয়েছিল।সমস্ত দিন ট্যুরিষ্টবাসে একসাথে গোয়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করেছিলাম।কাছে যাওয়া মাত্রই ভালো লাগার আবেগে আমরা এক অপরকে জড়িয়ে ধরি।

গোয়ার সবচেয়ে অভিজাত ও জাঁকজমক সৈকত কালিঙ্গগুটে লেখক

গোয়ার সবচেয়ে অভিজাত ও জাঁকজমক সৈকত কালিঙ্গগুটে লেখক

সমস্ত দিন অঞ্জুনা বীচেই কাটিয়ে দিই। রাতে একসঙ্গে ডিনার করি এবং ডিসকোতে যাই। অঞ্জুনার বুকে নির্জনতার উল্লাস ও বিদেশীদের নগ্নতা এবং লাভ, সেক্স আর ধোঁকা এই নিয়ে গোয়া।

 

 

 

 

 

নাসিম রুমি

সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক

মোবাইল নং ০১৬৮৪-৯৪১৪৭৭, ০১৭১১-২২৭৪২৭

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

কিভাবে যাবেন?

ব্যাক প্যাক : কলকাতা থেকে সরাসরি গোয়া যেতে ধরন ১৮০৪৭ অমরাবতী এক্সপ্রেস। ট্রেনটি হাওড়া থেকে সোম,বৃহ,শনি রাত ১১.৩০ মিনিটে ছেড়ে ভাস্কো ডা গামা পৌঁছায় বেলা ৩.০৫ মিনিটে। ভাড়া ২এ-২.৮৭৫ টাকা, ৩এ-১.৯৪৫ টাকা এবং স্লিপার- ৭৩৫ টাকা।

মিয়ামার বিচে লেখক

মিয়ামার বিচে লেখক

 

থাকা : রাজধানী শহর পানাজি তাই সুবিধা এখানেই সব থেকে বেশী। গোয়ার পিক সিজন ডিসেম্বর-জানুয়ারী।

 

 

 

 

সিজন, পিক সিজন আর অফ সিজন-এই হিসেবে হোটেলের ভাড়া উঠা-নামা করে। মান্ডবী নদীর পড়েও থাকা যায়। গোয়া হল সি বিচ সর্বম্ব রাজ্য। তাই বিচের গায়েও থাকার ঢালাও রিসর্ট ও কটেজ। পকেটের ওৎন বুঝে কোনও রিসোর্ট-এ আশ্রয় নিতেই পারেন।

রাজধানী পানজিতে অপরূপ সুন্দর মান্ডবী নদী

রাজধানী পানজিতে অপরূপ সুন্দর মান্ডবী নদী

 

কিছু কথা : গোয়া বেড়ানোর সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। বড়দিন থেকে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ, হচ্ছে উৎসবের গোয়া। কোলভা, কালাঙ্গুটে, ভাগোন্ডার, আরামবোল, আঞ্জুনা ছাড়াও তালপোনা, পালোলেম, আগোন্ডা, বেনোলিম, বগমালো বিচগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

 

 

 

তবে প্যাকেজ ট্যুর এই সব জায়গায় নিয়ে না গেলে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আপনি যেতেই পারেন। সমুদ্রসাক্ষী থাকবে, গোয়ার সি বিচ আপনাকে নিরাশ করবে না।

মিয়ামার বিচে থ্রী-স্টার হোটেলের সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

মিয়ামার বিচে থ্রী-স্টার হোটেলের সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

 

রোমাঞ্চ : ভাল লাগলে পানাজি শহর থেকে প্যাকেজ ট্যুর ঘুরে আসতে পারেন বন্ডলা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি আর দুধসাগর জল প্রপাত। এ যাত্রায় জল আর জঙ্গল, এক কথায় ককটেল।

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)