আপডেট ৯ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ২০ রমযান, ১৪৪০

সম্পাদকীয় গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে তথ্য আপা

গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে তথ্য আপা

নিরাপদ নিউজ: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বহু বছর আগে থেকেই গ্রামে গ্রামে ‘স্বাস্থ্য আপা’ বলে একটি অভিধা চালু রয়েছে। ঘরে ঘরে নারীর কাছে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যসহ নানা সহায়তা পৌঁছে দিয়ে এসব স্বাস্থ্য আপারা গ্রামবাসীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন। নাম নয়, কাজ দিয়ে নারীর পরিচয়ের এই সুন্দর দিকটি সমাজে সুবাতাস এনে দেয়।

আগামীতে সমাজে যুক্ত হতে চলেছে ‘তথ্য আপা’ বিশেষণের আড়ালে নতুন দিনের নারীদের প্রয়োজনে উপকারী আরও একটি কার্যক্রম। সুবিধাবঞ্চিত নারী শারীরিকভাবে গ্রামে বসবাস করলেও সে এবার যুক্ত হবে বিশ্বসভার সঙ্গে। তথ্যপ্রযুক্তির অবারিত দুয়ার খুলে যাওয়ায় এসব নারী প্রবেশ করবে তথ্য আলোকবর্তিকায়। তথ্য আপারা এখন প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে জনপ্রশাসনের সঙ্গে কাজ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন। পরিচিত হচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীর সঙ্গে। তথ্য আপাদের চিনে নিতেও কষ্ট হবে না। পরনে থাকবে নক্সি করা সাদা বর্ডারে বেগুনী রঙের এ্যাপ্রোন।

ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ ও আনুষঙ্গিক জিনিস নিয়ে সাইকেলে চেপে পৌঁছবে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে। সরকারের ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আগামি মাসেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে ১০৯ সেবাটিও চালু হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় এমার্জেন্সি ফোনকল করার জন্য একটি নম্বর নির্দিষ্ট থাকে। বলাবাহুল্য, সমাজে নারী ও মেয়েশিশুরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার। সম্ভাব্য নির্যাতনের আগে কিংবা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর জরুরী ভিত্তিতে নারী বা মেয়েশিশু প্রতিকার পেলে কিংবা তার ভেতরে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা সম্ভব হলে একটি বড় কাজ হয়। দেশের পল্লী এলাকায় বাল্যবিয়ে রুখে দেয়ার ব্যাপারে এই হেল্পলাইন ইতোমধ্যে যথাযথ হেল্প বা সাহায্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাল্যবিয়েই শুধু নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে এ হেল্পলাইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।

তথ্য আপার কর্মপরিধি কম নয়। ঘরের দুয়ারে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাথমিক পরীক্ষা বিনামূল্যে করে দেবেন। যেমন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওজন মাপা, অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মদানে নিরাপদ ব্যবস্থা সবই জানিয়ে দেবেন। নারীর রোগবালাই দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। যেসব পরীক্ষা প্রকল্পের কর্মসূচীর সফটওয়্যারে করা সম্ভব তাও করে দেবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। গ্রামীণ নারীরা কুটির শিল্পের মাধ্যমে উপার্জন করে থাকে। বিশেষ করে সেলাই-ফোঁড়াইয়ের প্রতি রয়েছে তাদের বিশেষ দক্ষতা। কাঁথাশিল্পর কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী।

গ্রামের নারীদের কাছ থেকে কাঁথা কিনে বিদেশে রফতানির কাজ করে থাকে এক শ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী এনজিও। তথ্য আপার মাধ্যমে ই-কমার্সে জ্ঞান পেলে নিজেরাই উৎপাদিত পণ্য বিপণনের পথ খুঁজে পাবে তারা। ই-লার্নিং নারীর প্রযুক্তিজ্ঞানের নব দুয়ার খুলে দেবে। পরে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করতে পারবে। আমরা আশাবাদী তথ্য আপারা আগামীতে বদলে দেবে গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের জীবন। তারা আগের তুলনায় বেশি হারে স্বাবলম্বী হবে। অর্থাৎ ঘটবে নারীর ক্ষমতায়ন। তথ্য আপাদের আগাম অভিনন্দন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)