আপডেট আগস্ট ২৫, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২০ মুহাররম, ১৪৪১

রাজনীতি, লিড নিউজ ‘ঘর ও ফসলকাটা দুর্নীতিবাজদের ধ্বংস করতে পারলেই সোনার বাংলা হবে’

‘ঘর ও ফসলকাটা দুর্নীতিবাজদের ধ্বংস করতে পারলেই সোনার বাংলা হবে’

নিরাপদ নিউজ: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার লুটেরা ও দুর্নীতিবাজ রয়েছে। তাদের ধ্বংস করতেই পারলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।
রোববার রাজধানীর প্রেস কাউন্সিল মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শাহবাগ থানা শাখা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়ার পথে বাধা লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরা। দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা রয়েছে। তারা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে। এরা ১৫ আগস্টের মতো ঘরকাটা ইঁদুর। এরা এখন ফসল কাটা ইঁদুর। তাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে ১৬ হাজার ঘরকাটা ও ফসলকাটা ইঁদুর ধ্বংস করতে কঠোর হতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করতে পারবো। ’

তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদে কোনো আপোস করা যাবে না। ইবলিসের সঙ্গে ঐক্য হয় না। কৌশল করে ইবলিসের সঙ্গে হাত মেলানো যাবে না। রাজনৈতিক মোল্লাদের সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।

১৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে খুনিরা বাংলাদেশের জাতিসত্তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থার দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। সংবিধান কাটা ছেড়া করা হয়েছিলো। একাত্তরের ঘাতকেদর রাজনীতিতে টেনে নিয়ে আসা হয়। তাদের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। খুনিদের রক্ষা করা হয়। বাংলাদেশে দ্বিজাতিতত্ত্বের ব্যবস্থা চালু করা হয়। রাজনীতিতে একটি মহা চক্রান্ত করা হয়। এর মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন খন্দকার মোশতাক। ফারুক, রশিদ ও ডালিমরা ছিলেন জল্লাদ। এর সঙ্গে জিয়াসহ যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সম্পর্কেও জনগণের ধারণা রয়েছে।’

‘তাই দেশবাসীর জানার অধিকার আছে, বঙ্গবন্ধুকে কারা হত্যা করলেন, বঙ্গবন্ধুর আপনজনরা কিভাবে তাকে হত্যা করলেন। এই আপনজনেরা বঙ্গবন্ধুর বাসায় থাকতেন, ঘুমাতেন। ফারুক, রশিদ ও ডালিমরা সবাই শেখ কামালের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো। এমনকি শেখ কামালের বিবাহ অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশতাক উকিল বাবা ছিলেন। আওয়ামী লীগের এতো নেতা থাকতে মোশতাক কিভাবে উকিল বাবা হলেন। সোনার বাংলা গড়ার কাজটা ১৫ আগস্ট তারা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফেরত যাত্রায় আছি। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। এখনও আগুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। তারা কোনঠাসা হয়েছেন, কিন্তু আত্মসমর্পণ করেননি। এখনও যুদ্ধাপরাধীদের ত্যাগ করেননি। যদিও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িকতা ও সামরিক শাসনের অন্ধকার থেকে টেনে তুলে নিয়ে আসতে পেরেছি। বাংলাদেশকে বাংলাদেশের পথে চালিত করতে পেরেছি।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি রেদুয়ান খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক টুকু, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)