ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

লাইফস্টাইল ঘুমের ওষুধে ঝুঁকি

ঘুমের ওষুধে ঝুঁকি

নিরাপদ নিউজ: প্রশান্তিদায়ক ঘুম আর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন অনেকে।  নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ সেবন ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ পরিণতি। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেলে শারীরিক ও মানসিক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, দুশ্চিন্তা নিরোধক বা ঘুমের ওষুধ মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ফলে রাতে ভালো ঘুম হলেও নিয়মিত এ ওষুধ সেবন মৃত্যুর আশঙ্কা ও কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ঘুমের ওষুধ খান না, তাদের চেয়ে যারা খান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি চার গুণ বেশি।

ঘুমের ওষুধ খাদ্যনালি, ফুসফুস, মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মৃত্যু ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ওষুধের মধ্যে রয়েছে বেনজোডায়াজেপিনস যেমন টেমাজেপাম; নন- বেনজোডায়াজেপিনস, যেমন এমবিয়েন (জোলাপিডাম), লুনেস্তা (ইসজোপিকলোন) ও সোনাটা (জালেপলন) ; বারবিটিউরেটস এবং সিডেটিভ অ্যান্টি-হিস্টামিনস। তবে নতুন গবেষণায় শুধু ঘুমের ওষুধ ও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়েছে, এদের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি। আর তাই এ গবেষণা থেকেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক স্কট উইচ বলেন, ‘এসব ওষুধ সতর্কতার সঙ্গে সেবন করা উচিৎ। শরীরে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য ও মারাত্মক হয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘বলা যাবে না যে, এটা কার্যকর হবে না। আমাদের এ ব্যাপারে রোগীদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন এবং উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার বিকল্প ব্যবস্থা যেমন কগন্যাটিভ বিহ্যাবিওরাল থেরাপি নিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোল্লা এলাকায় স্ক্রাইপস ক্লিনিক ভিটারবি ফ্যামিলি স্পি সেন্টারের ড্যানিয়েল ক্রিপকির নেতৃত্বে একদল চিকিৎসকের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের বড়ির কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে চার গুণ বেশি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১০ সালে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৭ হাজার হয়েছে। আর এ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ঘুমের ওষুধের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের দাবি, কারণ বিশ্লেষণ করে নয়, পরিসংখ্যান ঘেঁটে এ তথ্য খুঁজে পেয়েছেন তারা। গবেষণায় আরো দেখা যায়, যারা অতিমাত্রায় ঘুমের বড়ি খান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা খান না তাদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। অতিমাত্রায় ঘুমের বড়ি খেলে ঘটতে পারে অকাল মৃত্যুর মতো ঘটনা।

শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ডাক্তাররা বলেন, সবার প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। তবে যারা সাধারণত ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যান তাদের জন্য একটা চরম দুঃসংবাদ আছে।

গবেষণার জন্য চিকিৎসকরা দুটি দল বাছাই করেন। একটি দলে পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি লোক ছিল। এদের সবাই পূর্ণ বয়স্ক এবং তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। গবেষকরা এসব ব্যক্তির মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন। আরেক দলে ছিলেন, যারা ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করেন না। এদের সংখ্যাও ছিল ২৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে বয়স, পরিপ্রেক্ষিত ও স্বাস্থ্যগত ভিন্নতা ছিল। দুটি নমুনার ওপর আড়াই বছর ধরে গবেষণা চালানো হয়। চিকিৎসকরা সাধারণত যেসব ঘুমের বড়ি খাওয়ার ব্যাপক পরামর্শ দেন তা পর্যালোচনা করা হয়। ফলে দেখা যায়, এ সময়ে উভয় গ্রপে সার্বিক মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। গবেষকরা দেখতে পান, যারা প্রতি বছর ১৮ থেকে ১৩২ ডোজ ঘুমের ওষুধ নেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত গ্রপের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ গুণ বেশি। এমনকি যারা বছরে ১৮ ডোজের কম নেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও ৩ দশমিক ৫ গুণ বেশি। অতএব ঘুমের ওষুধ সেবন ভালো নয়। আর ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ নিজের ইচ্ছামতো যখন তখন সেবন করা তো ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেলে কী করতে হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিমানের কাজ আক্রান্তকে দ্রত হাসপাতালে নেয়া।

যদি হাসপাতালে নিতে দেরি হয় তাহলে কুসুম গরম পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে তা আক্রান্তকে খাইয়ে দিতে হবে, যাতে তার পাকস্থলী থেকে বিষ পাতলা হয়ে গিয়ে বের হয়ে যেতে পারে।

প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে, যাতে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বিষ বের হয়ে যায়।

যদি আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিতে না পারে তাহলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে। আর অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে আক্রান্তকে যতটা সম্ভব সজাগ রাখতে। উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে পিঠে হালকা চাপ দেয়া যেতে পারে। এতে একদিকে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন অচেতন অবস্থায় যেতে বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে বমি হয়ে বিষ বের হয়ে যাবে। তবে চাপ দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই হূদপৃন্ডে আঘাত না লাগে। কারণ এ সময় সাধারণত হূদপৃন্ডে দুর্বল অবস্থায় থাকে।

হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক রোগীকে স্যালাইন দেবেন। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি অনেকক্ষণ আগে বারবিচ্যুরেট খেয়ে থাকে তাহলে মূত্রবর্ধক ওষুধ দিয়ে রোগীকে প্রস্রাব করানোর ব্যবস্থাও করবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)