ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট আগস্ট ২৫, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ মুহাররম, ১৪৪১

বহির্বিশ্ব ঘুড়ির সুতায় গলা কেটে শিশুর মৃত্যু

ঘুড়ির সুতায় গলা কেটে শিশুর মৃত্যু

নিরাপদ নিউজ: ফের ঘুড়ির মাঞ্জায় গলা কেটে মৃত্যু হলো দিল্লিতে। এ বার চিনা মাঞ্জার শিকার সাড়ে চার বছরের একটি মেয়ে। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির খাজুরি খাস এলাকায়। সনিয়া বিহার এলাকার বাসিন্দা সাড়ে চার বছরের ইশিকা বাবা-মার সঙ্গে বাইকে চেপে জমুনা বাজারের হনুমান মন্দিরে যাচ্ছিল। বাইকের সামনে বসেছিল সে। তখনই রাস্তায় ঝুলতে থাকা এক চিনা মাঞ্জায় তার গলা কেটে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেপিসি হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা জানান, আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে ইশিকার। ইশিকার বাবা গিরিশ কুমার জানিয়েছেন, বাইকের গতিও খুব একটা বেশি ছিল না। ঘুড়ির মাঞ্জা দেখতেই পাননি তিনি। হঠাৎ করে দেখেন মেয়ের গলা থেকে রক্ত ঝরছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচেনি মেয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, আইপিসির ৩০৪এ ধারায় একটা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই এলাকায় কারা ঘুড়ি ওড়ায়, তার খোঁজ শুরু হয়েছে।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগে রাখীর দিন দুই বোনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি দিল্লির রোহিনী এলাকায় যাচ্ছিলেন মানব শর্মা। বিকাশপুরী-মীরা বাগের রাস্তায় আচমকাই তাঁর গলা থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বাইক। স্থানীয়দের সাহায্যে মানবকে নিয়ে বালাজি অ্যাকশন হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর দুই বোন। চিকিৎসকরা জানান, কাচের গুঁড়ো মাখানো কড়া মাঞ্জা সুতোয় গলা কেটেছে মানবের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবস ও রাখী পূর্ণিমার দিনে দিল্লির মায়াপুরী, দ্বারকা, রোহিনী, পূর্ব ও উত্তরপূর্ব দিল্লি এবং পশ্চিম দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে অন্তত ১৫ জনের গলায় চেপে বসেছিল ঘুড়ির মাঞ্জা সুতো। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা ছিল খুব গুরুতর।

কিন্তু কী কারণে বারবার এই চিনা মাঞ্জায় গলা কেটে মৃত্যু হচ্ছে।

নাইলনের সুতার উপরে সিন্থেটিক আঠা দিয়ে ধাতু ও কাঁচের গুঁড়ো মাখিয়ে তৈরি হয় চিনা মাঞ্জা। ব্লেডের মতো ধারালো এই মাঞ্জা সুতোর সামান্য ঘষাতেই ফালাফালা হয়ে যেতে পারে চামড়া। গলায় চেপে বসলে প্রাণহানির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই ধরনের মাঞ্জা সুতোকে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক জাতীয় পরিবেশ আদালত। এর বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত এক বছরে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, দিল্লিতে একাধিক মৃত্যুর জন্য এই মাঞ্জা সুতোই দায়ী বলে জানা গেছে। এই সুতোর ধারে মারা গেছে বহু পাখিও। সে বিষয়ে চিন্তা প্রকাশ করে জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পেটা’। চিনা মাঞ্জা তৈরি, বিক্রি, কেনা ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেয় জাতীয় পরিবেশ আদালত।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)