আপডেট ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাঁশের পণ্যে সচ্ছলতায় আগ্রহ বাড়ছে যুবকদের

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাঁশের পণ্যে সচ্ছলতায় আগ্রহ বাড়ছে যুবকদের

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: বাঁশ গ্রামীণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে আবহমান কাল থেকে বাঁশের ব্যবহার চলে আসছে। আর দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় এ গৃহস্থালী কাজের উপকরণ বাঁশের তৈরী জিনিসপত্র তৈরি ও বিক্রি করে পরিবারে স্বচ্ছলতা এনেছে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভাধীন দেওয়ানহাট এলাকার মোঃ নাজিম উদ্দীনের (২৫)। পিতার কাছ থেকে ১০ বছর বয়স থেকে বাঁশের জিনিসপত্র তৈরির কলা-কৌশল শিখে এ কাজে মনোনিবেশ করার কারণে বেশিদূর লেখাপড়াও করা হয়নি তার।

সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে বাঁশের জিনিসপত্র তৈরি ও বিক্রি করে সুন্দরভাবে চলছে তার সংসার। খরচ বাদ দিয়ে তার প্রতিমাসে আয় হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। নাজিম উদ্দীন দেওয়ানহাট এলাকার এয়াকুব ড্রাইভার বাড়ির গোলাম নবীর ছেলে।

গতকাল দোহাজারী পৌরসদরে হরেক রকম নিত্য প্রয়োজনীয় বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির সময় কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, তার পূর্ব পুরুষরা এ পেশায় জড়িত ছিলেন। তিনি তার পিতার কাছ থেকে বাঁশের জিনিসপত্র তৈরির কলাকৌশল শেখেন। বর্তমানে তার পিতা বয়সের ভারে আর এ কাজ করতে পারেন না। তবে তার কাজে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

নাজিম উদ্দীন নিরাপদ নিউজকে জানান, ইচ্ছা শক্তি থাকলে যে কোনো কাজই করা যায়। অভাবের সংসার হওয়ায় লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। পিতার কাছ থেকে কলা-কৌশল শেখার পর এ পেশাকেই আগলে রেখেছেন। বাঁশ দিয়ে সে ১০ থেকে ১২ প্রকারের জিনিসপত্র তৈরি করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘লাই’, চালন, কুলা, মই, খাঁচা, মুরগি পালনের ঝাঁপি, মাটি কাটার ঝুঁড়ি, মাছ ধরার কয়েক প্রকারের চাই (ফাঁদ) ইত্যাদি। এছাড়া সে চাটাইও তৈরি করেন।

তিনি জানান, তার তৈরিকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে শুষ্ক মৌসুমে মাটি কাটার ঝুঁড়ি, বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার চাই (ফাঁদ), শীতকালে চাটাইয়ের কদর থাকে বেশি। আর অন্যান্য জিনিসপত্রের কদর সারা বছরই থাকে। তার তৈরিকৃত বাঁশ শিল্পের মধ্যে মাছ ধরার চাই (ফাঁদ) প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রতিজোড়া লাই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, খাঁচা ১০০ থেকে ২০০ টাকা, মুরগি পালনের ঝাপা ৭০ টাকা, মাটি কাঁটার ঝুঁড়ি প্রকারভেদে ২০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, চাষের মই ৩০০ টাকা, চাটাই ১৫০ টাকা, চালন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

নাজিম উদ্দীন নিরাপদ নিউজকে আরো জানান, এসব জিনিসপত্র তিনি বাড়িতেই পাইকারী হিসেবে বেশি বিক্রি করেন। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার দোহাজারী বাজারে, শুক্রবার ও সোমবার বাগিচাহাট বাজারে এবং বুধবার গাছবাড়িয়া খানহাটে তার তৈরিকৃত এসব পণ্য বিক্রি করেন।

তার তৈরিকৃত এসব পণ্যের প্রদান কাঁচামাল বাঁশ সংগ্রহ করেন সাতকানিয়ার কেরানীহাট, বেত সংগ্রহ করেন লোহাগাড়ার আমিরাবাদের দরবেশ হাট এবং অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করেন বিভিন্ন দোকান থেকে। বর্তমানে নাজিম উদ্দীন তার এ কাজের সাথে আশেপাশের আরো ১০/১২ জন বেকার যুবক ও মহিলাকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। শতকরা হিসেবে এসব যুবক ও মহিলারা তার সাথে কাজ করেন।

নাজিম উদ্দীন মা, বাবা ও ৪ ভাইয়ের যৌথ সংসারে বসবাস করেন। তার ২ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তার তৈরিকৃত জিনিসপত্র বিক্রি করে পুরো সংসারের সিংহভাগ অর্থের যোগান দিতে পারাই তিনি খুবই সন্তুষ্ট।

তিনি জানান, তার এ পেশাটি এলাকার বেকার যুবকরা আয়ত্ত করে এ কাজে হাত বাড়ালে বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব। নাজিম উদ্দীন নিরাপদ নিউজকে বলেন, কোনো পেশাই ছোট নয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি যে কোনো একটি হাতের কাজ জানা থাকলে ভাতের অভাব হয় না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)