ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের প্রাগৈতিহাসিক যুগের পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরণের আহ্বান

চট্টগ্রামের প্রাগৈতিহাসিক যুগের পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরণের আহ্বান

নিরাপদ নিউজ:  হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বহু বিপ্লবী, জ্ঞানী-গুণী-রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও পীর-মাশায়েখ, সাধু-সন্ন্যাসীদের পুণ্য-তীর্থভূমি চট্টগ্রাম উর্বর জনপদ। এ জনপদের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অসংখ্য পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানকার বহু কৃতিসন্তান আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমগ্র বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করে চট্টগ্রামের মুখকে সম্মানিত করেছেন। আবার কতক মতলববাজ চক্রের কুৎসিত নজরে পড়ে চট্টগ্রামের কাক্সিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের মুক্তিকামী লাখো জনতার বীরত্বপূর্ণ লড়াকু মানসিকতা ও আত্মত্যাগের মহিমান্বিত গৌরবগাথার ইতিহাস আজও সর্বজন স্বীকৃত এই চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রাম থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা, এই চট্টগ্রাম থেকে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অমরগাথা ইতিহাস স্মরণীয়। বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা আন্দোলন এই চট্টগ্রাম থেকে। চট্টগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৃথিবীব্যাপী মানুষের কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। কর্ণফুলী নদী তীরে এই চট্টগ্রামের অবস্থান। সুজলা-সুফলা সুন্দর এই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের ইতিহাস পাঠ ও চর্চায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্মকে সত্য পাঠে আগ্রহী করে তুলতে হবে। অন্যথায় এই মহামূল্যবান ইতিহাস তাদের কাছে অজানা থেকে যাবে। একজন আদর্শবান নাগরিক হিসেবে বর্তমান প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিহাস জানা ও চর্চা এবং পাঠ্যবইয়ে সত্য ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত এখন সময়ের দাবি। চট্টগ্রাম প্রাগৈতিহাসিক যুগের পুরাকীর্তি ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরণের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের ১০ম চট্টগ্রাম ইতিহাস উৎসব ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল তিনদিনব্যাপী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন। চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ-দীন এর সভাপতিত্বে নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক লায়ন হাকিম আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ও শিাবিদ ড. অধ্য মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গ্রন্থ প্রণেতা এ কে এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় উৎসবের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের জয়েন্ট সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুরুল আবছার চৌধুরী, চট্টগ্রাম শ্রম আদালত ৪র্থ জুরিবোর্ড সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কবি এম এ সাত্তার, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এম এ সবুর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা ও সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিনবোধি ভিু, বিশিষ্ট লেখক গবেষক ও শিাবিদ অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, সিএইচআরসি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা কিরণ লাল আচার্য, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও রাজনীতিবিদ সিদ্দিকুল ইসলাম, ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক স ম জিয়াউর রহমান, কক্সবাজার ইতিহাস চর্চা পরিষদের সভাপতি অধ্য ইউনুছ কুতুবী, বিজয়’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. জামাল উদ্দিন, প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ইতিহাসবিদ অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী, প্রবীণ শিাবিদ অধ্য জীতেন্দ্র লাল বড়–য়া, ভদন্ত শ্রীমৎ এস লোকজিৎ থেরো, কবি আরিফ চৌধুরী, মানবাধিকার সংগঠক জাফর ইকবাল, ডা. ডি কে ঘোষ, মোপলেসের সভাপতির সজল দাশ প্রমুখ। তিনদিনের ১০ম চট্টগ্রাম ইতিহাস উৎসবে চট্টগ্রামের সেরা ও উদ্ভাসিত মনীষী ৪৮জন এর জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা, চট্টগ্রামের ইতিহাসবিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের ২৫ বছর পূর্তি উপলে সম্মাননা প্রদান ও চট্টগ্রাম প্রস্তাবনা পাসের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)