ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৭ রমযান, ১৪৪০

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে উচ্ছেদের প্রতিবাদে লালদিয়ার চরের হাজার হাজার বাসিন্দার মনববন্ধন

চট্টগ্রামে উচ্ছেদের প্রতিবাদে লালদিয়ার চরের হাজার হাজার বাসিন্দার মনববন্ধন

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: উচ্ছেদের প্রতিবাদে লালদিয়ার চরের হাজার হাজার বাসিন্দা গতকাল বিশাল উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মনববন্ধন করেছে। এতে বক্তাগণ প্রয়োজন ছাড়া উচ্ছেদ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। অতীব প্রয়োজনে উচেছদ করতে হলে যৌক্তিক ক্ষতিপুরণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, লালদিয়ার চর ভূমির পরিবর্তে পাওয়া ভূমি, উচ্ছেদ চলবে না। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সড়কে লালদিয়ার চর উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। পুরাতন এয়ারপোর্ট মোড় হতে বিজয় নগর পর্যন্ত স্মরণকালের বৃহত্তম এই মানববন্ধনে প্রায় দশ হাজার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে জানানো হয়, বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক নির্মাণের জন্যে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ঘাঁটি নির্মাণে যুদ্ধবিধস্ত দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে ওই এলাকার মানুষজন নিজ বসতভিটা ছেড়ে বর্তমান লালদিয়ার চর এলাকায় তিনটি ব্লকে পুনর্বাসিত হয়ে বসতি স্থাপন করে। ২০০৫ সালে জোট সরকারের আমলে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ ব্যতীত লালদিয়ার চর বি ব্লকটি উচ্ছেদ করে ইনকনট্রেড ডিপো নির্মাণ করা হয়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে পুনর্বাসন ব্যতীত কোন উচ্ছেদ হবে না ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের নিমিত্তে লালদিয়া সি ব্লকের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার আগে হামিদচরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্যে আগাম পুনর্বাসনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমকে পুঁজি করে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ ব্যতীত লালদিয়া ‘এ’ ও ‘সি’ ব্লকটি উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে। আমরা কোন অবৈধ বাসিন্দা নই আমরা কোন রোহিঙ্গা নই।

লালদিয়া এ ও সি ব্লকে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারে প্রায় বারো হাজারের মত মানুষ বসবাস করে। তারা সকলেই আতংকিত। প্রায় পঞ্চাশ বছরের ভিটেমাটি ছেড়ে তারা কোথায় যাবে তা নিয়ে চিন্তিত। নদীর বহমান ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার মত কোন স্থাপনা লালদিয়ার চরে নেই। বরঞ্চ এর ঠিক পাশেই চট্টগ্রাম বোট ক্লাব, ইনকনট্রেড ডিপো নদীবক্ষে স্থাপনা করেছে যার ফলে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু তারা হাইকোর্টের মাধ্যমে তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ না করার প্রজ্ঞাপন নিয়ে আসে। তুলনামূলক অসচ্ছল এই জনপদের মানুষের প্রতিটি দিন এখন কাটছে আতংকে। বাণিজ্যকরণের করালগ্রাসে পরে সর্বস্ব হারানোর আশংকায় তারা নিদ্রাহীন জীবন যাপন করছে। এমতাবস্থায় এই নিপীড়িত মানুষগুলোর জন্যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট উচ্ছেদ না করার আবেদন জানাচ্ছি। যদি অতি প্রয়োজনে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে যৌক্তিক পুনর্বাসন করতে হবে। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন লালদিয়ার চর উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলমগীর হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ ফরিদ মাহমুদ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, ৪১ নম্বরওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ ছালেহ আহমদ চৌধুরী, মহিলা কাউন্সিলর শাহানুর বেগম। ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম,ওয়ার্ড যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ওয়াহিদ চৌ, সালাউদ্দিন,নিজাম,৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহবায়ক কামরুল হাসান সোহেল,সুফিয়ান আলম, জাহিদুল হাসান প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)