ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ১৬, ২০১৮

ঢাকা মঙ্গলবার, ১ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৬ সফর, ১৪৪০

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে এসে ইরানি অয়েল ট্যাংকার দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী নাবিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান

চট্টগ্রামে এসে ইরানি অয়েল ট্যাংকার দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী নাবিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান

শফিক আহমেদ সাজীব, নিরাপদ নিউজ: জাহাজ দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানে নজির স্থাপন করলো ইরানি অয়েল ট্যাংকার কোম্পানি। জাহাজ দুর্ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশী নাবিকদের অর্থ আদায়ে যেখানে দিনের পর দিন ধর্ণা দিতে হয়,অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়া যায় না, সেখানে ইরানি জাহাজ কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে এসে নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান এবং শোকসভা করার নজির স্থাপন করেছেন। চীন সাগরে দুর্ঘটনায় বিস্ফোরিত অয়েল ট্যাংকারের বাংলাদেশী নাবিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ গতকাল প্রদান করা হয়। চীনের পূর্ব উপকূলে মালবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানী অয়েল ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হলে ৩২ নাবিকের সকলেই নিহত হন। এদের মধ্যে দুই বাংলাদেশী নাবিক ছিলেন। গতকাল রোববার বিকালে হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত শোকসভা শেষে নিহত হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় কিস্তির চেক তুলে দেন ট্যাংকারের মালিক ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ মোঘামি।

এ কিস্তিতে হারুনের স্ত্রী ও সন্তানদের হাতে তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। গত ৬ জানুয়ারি চীনের পূর্ব উপকূলে এক লাখ ৩৬ হাজার টন তেল ইরান থেকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে সিএফ ক্রিস্টাল নামের মালবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে বিস্ফোরিত পানামার পতাকাবাহী এমটি সানচি নামের তেলবাহী ট্যাংকার। দুর্ঘটনায় ৩০ ইরানী ও দুই বাংলাদেশি নাবিকসহ ৩২ জন নিহত হন। বাংলাদেশের দুইজনের মধ্যে হারুন চট্টগ্রামের মীরসরাইর ও সাজিব আলী মৃধা রাজবাড়ির বাসিন্দা। শোকসভায় জানানো হয়, এনআইটিসির পক্ষ থেকে হারুনের পরিবারকে আগেও এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। এছাড়া সাজিব আলী মৃধার পরিবারকে আগেই চেক হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এনআইটিসির পরিচালক আলী রেজা সাফারি জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিহত বাংলাদেশি দুইজন ক্ষতিপূরণের আরও টাকা পাবেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক হারুন ২০০৭ সাল থেকে জাহাজে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তার বড় ভাই শামসুল আলম টিপু। চার ভাইয়ের মধ্যে হারুন তৃতীয়। তাদের ছোট ভাইও একটি বিদেশি জাহাজে কর্মরত।

আগে তিনিও জাহাজে কাজ করতেন। তবে ২০০৮ সালে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন অবসরে আছেন। জাহাজটির রিক্রুটিং এজেন্ট এসকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিপিং এন্ড ট্রেডিংয়ের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন এনআইটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ মোঘামি, বাংলাদেশে শিপিং ম্যানিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফারসহ এনআইটিসির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে শিপিং ম্যানিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার জানান, বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জাহাজে দুর্ঘটনায় হতাহতদের অনেকেই টাকা পাননি। সেজন্য অনেক সালিশও করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে এনআইটিসি তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাকা পরিশোধ করেছে। ক্ষতিপূরণের চেকের টাকা দিতে কোম্পানির চেয়ারম্যানের পরিবারের কাছে ছুটে আসার নজির খুব একটা নেই। হারুনের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে নবম শ্রেণিতে ও ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। গ্রামের বাড়ি মীরসরাই হলেও হারুনের পরিবার নগরীর উত্তর আগ্রাবাদে বসবাস করেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)