আপডেট ১৩ মিনিট ২ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০

অপরাধ, চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে চসিকের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশসহ আহত ২, আটক ৯

চট্টগ্রামে চসিকের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশসহ আহত ২, আটক ৯

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ’র বাংলাবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে সংঘর্ষের ঘটনায় এক পুলিশসহ দুইজন আহত হয়েছেন। চসিকের ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িসহ কর্পোরেশনের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজনকে এক মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। আহতরা হলেন দামপাড়া পুলিশ লাইনের এএসআই মুজিবুর রহমান (৫০) ও ব্যবসায়ী মো. এয়াকুব (৩১)। এয়াকুব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের স্টাফ কলোনিতে থাকেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার বলেন, ‘অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযানে মালামাল সরিয়ে নেওয়া জন্য সময় দিয়েছিলাম। এরমধ্যে অবৈধ দখলদাররা মালামাল না সরিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারপরও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে পাশের কাঁচা বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়নি। নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। চসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার বলেন, তিনজনকে আমরা কারাদন্ড দিয়েছি। এরমধ্যে দুইজনকে এক মাস করে একজনকে দুই মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসানোর অপরাধে একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ অভিযান টিমের ওপর হামলা করা হলেও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা কোনো একশানে যাইনি। বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়। এরমধ্যে লিটন, বাপ্পী ও জাহাঙ্গীর নামে তিনজনকে এক মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৬জনকে থানায় আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাঁধা, ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অপরাধে মামলা দায়ের করা হবে। আটককৃতদের সকলের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা শীলব্রত বলেন, এক পুলিশ সদস্যসহ দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্য মুজিবুর রহমানের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। তাকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এয়াকুব প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। পুলিশ, চসিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া খাতুনের নেতৃত্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ৭-৮টি দোকান ভাঙার পর অবৈধ দোকানরা জড়ো হয়ে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উচ্ছেদকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িসহ কর্পোরেশনের উচ্ছেদ গাড়িসহ দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের এক সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত হন এক পথচারীও। স্থানীয়রা জানায়, শেরশাহ মোড়ের বাংলাবাজার এলাকার সড়কটি সংস্কারের পর ১২০ ফুট করা হয়। এখানে বিএসআরএমসহ ছোট-বড় কয়েকটি শিল্প-কারখানা রয়েছে। কিন্তু সড়কটি প্রশস্ত হওয়ার পর সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান গড়ে ওঠার কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের দুই পাশ ছাড়াও মাঝখানে বসানো হয়েছে ভ্যান ও ভাসমান দোকান। দুই শতাধিক দোকান ও ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। যুবলীগের নামধারী জসিম পাটোয়ারি, সালাউদ্দিন প্রকাশ বোবা সালাউদ্দিন ও সেলিম এসব দোকান থেকে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা উত্তোলন করেন। পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের এক নেতারা নেতৃত্বে এসব অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। দোকানভেদে দিনে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে তিনশ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)