আপডেট ১ মিনিট ২১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ১০ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রামে পাঁচ ডিজাইনারের বাহারি পোশাক প্রদর্শনী শুরু

চট্টগ্রামে পাঁচ ডিজাইনারের বাহারি পোশাক প্রদর্শনী শুরু

চট্টগ্রামে পাঁচ ডিজাইনারের বাহারি পোশাক প্রদর্শনী শুরু

শফিক আহমেদ সাজীব ,  নিরাপদ নিউজ : বাহারি রঙ। বাহারি নকশা। মসলিন, কটন, তাঁত কাপড়ের ব্যবহারে বাঙালিয়ানার স্বরূপ। আর তার উপর দেশীয় শিল্প, সংস্কৃতির ও ঐতিহ্যের নিপুণ কারুকাজ ফুটে উঠেছে প্রতিটি পোশাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট, সুই-সুতার কাজ, টাই-ডাই, অ্যাপ্লিক, অ্যামব্রয়ডারি, লেসসহ বিভিন্ন হাতের কাজে নতুনত্ব পেয়েছে প্রতিটি পোশাক। সঙ্গে আধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ট্রাডিশনাল উপস্থাপন নজর কেড়েছে আগত দর্শনার্থীদের।এমন বাহারি পোশাকের খোঁজ মিলল চিটাগাং ক্লাবের স্পোর্টস কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়। ঈদকে উপলক্ষ করে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ৫ ডিজাইনারের পোশাক নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ঈদ ফ্যাশন প্রদর্শনী। ৩ দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন চিটাগাং ক্লাবের চেয়ারম্যান মিয়া মো. আব্দুল রহিম। এসময় প্রদর্শনী ঘুরে তিনি বলেন, এ আয়োজন সত্যিই মনোমুগদ্ধকর। দেশীয় সংস্কৃতিকে উপস্থাপন, পাশাপাশি নারীর ক্ষমদায়নের চিত্র ফুটে উঠেছে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে। উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং ক্লাবের কমিটি মেম্বার রবি শঙ্কর দাশ, চিটাগাং উইমেন চেস্বার অব কর্মাসের মেম্বাররা। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে নগরীর ফ্যাশন হাউজ ডলস হাউস, শ্রেয়া, মেঘরোদ্দুর, মেন্ডেলিন ও ফ্যাশন এটাইয়ার। পোশাকের বৈচিত্র্যতা : ৫টি ফ্যাশন হাউজের সবগুলোতেই আছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শার্ট, ছোটদের পোশাক, ওড়না, কাপ্তানসহ বাহারি পোশাক পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউজগুলোতে। ডলস হাউজ : নগরীর চাঁন্দগাও আবাসিক অবস্থিত ডলস হাউজের যাত্রা শুরু হয় ডিজাইনার আইভী হাসানের হাত ধরেই। চারুকলার শিক্ষার্থী থেকেই পেশা হিসেবে ডিজাইনিং এর পেশায় আসেন। দেশীয় মোটিভের ব্যবহারে থিমেটিক কাজকে প্রাধান্য দেন তিনি। এবার ঈদ উপলক্ষে হালকা রঙের ব্যবহার রেখেছেন পোশাকে। পাশাপাশি রাতের পোশাকে গর্জিয়াস রঙ হিসেবে ব্যবহার করেছেন লাল, ব্লু, কালো। সঙ্গে রয়েছে বাহারি গহনার পসরা। ডলস হাউজে শাড়ির দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার, সালোয়ার কামিজের দাম পড়বে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। মেঘরোদ্দুর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্স্টাস, প্রিমিয়ার থেকে এমবিএ। কাজ করেন পারিবারিক ব্যবসা প্রান্তিক গ্রুপে। কিন্তু এর মাঝেই সময় করে ডিজাইনিং এ এসেছেন সখের বশে। খুলশিতে সাজিয়েছেন নিজের ফ্যাশন হাউজ। তিনি নাসরিন সরোয়ার মেঘলা। এবারের ঈদ উপলক্ষে হাতের কাজকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক সাজিয়েছেন তিনি। তার ডিজাইন করা পোশাকের মধ্যে শাড়ির দাম পড়বে ২৫শ থেকে ১৮ হাজার। সালোয়ার কামিজ ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার, বাচ্চাদের পোশাক ১২শ থেকে ১৬শ, পুরুষদের পোশাক আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। মেন্ডেলিন : ২০১০ সাল থেকেই মেন্ডেলিনের যাত্রা শুরু হয় আমেনা ইসলাম কচির হাত ধরেই। জামালখানের ইউরেকা সেন্টারে রয়েছে তার নিজস্ব ফ্যাশন হাউজ। মেন্ডেলিনের বাহারি পোশাকগুলো নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের। শাড়ির দাম পড়বে ২২শ থেকে ৫ হাজার, সালোয়ার কামিজ ১৫শ থেকে ২৫শ, পাঞ্জাবি ১২শ থেকে ৩ হাজার টাকা। ফ্যাশন এটাইয়ার : এই ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকারী শারমিনা হক পপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মার্স্টাস শেষ করার পর পড়েছেন হোটেল ম্যানেজমেন্টে। তবে স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছায় মনোনিবেশ করলেন ফ্যাশন ডিজাইনিং এ। কাজ করেন দেশীয় মোটিভ নিয়ে। এবারের ঈদে নিয়ে এসেছেন বাহারি সব পোশাক। তার হাউজে শাড়ির দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার, ছেলেদের শার্ট ৮শ থেকে ১ হাজার, সালোয়ার কামিজ আড়াই হাজার থেকে ৮ হাজার, কুর্তি ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা। শ্রেয়া : মণিদীপা দাশ। ফ্যাশন হাউজ শ্রেয়ার স্বত্বাধিকারী। নিজের বাসাটিকেই বানিয়েছেন ফ্যাশনের প্রধান কেন্দ্র। পাশাপাশি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে পরিচিত করান নিজের ডিজাইন করা পোশাকগুলোর। ঈদ উপলক্ষে পোশাকে ডিজাইন হিসেবে ব্যবহার করেছেন প্যার্টানকে। সঙ্গে বর্ণিল রঙের ব্যবহার ভিন্নমাত্রা দিয়েছে পোশাকগুলোকে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)