সংবাদ শিরোনাম

২৫শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ২৯শে রজব, ১৪৩৮ হিজরী
চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ চট্টগ্রামে বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলোর হিংস্র চেহারা পাল্টে যাচ্ছে

চট্টগ্রামে বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলোর হিংস্র চেহারা পাল্টে যাচ্ছে

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০১৭ , ১:২১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চট্টগ্রাম,সড়ক সংবাদ

চট্টগ্রামে বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলোর হিংস্র চেহারা পাল্টে যাচ্ছে

শফিক আহমেদ সাজীব, ২০ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : তিন দফা সময় বাড়ানোর পর গত ১৬ এপ্রিল থেকে বাস ট্রাকের বাম্পার ও এঙ্গেলবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত গত তিনদিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেআইনিভাবে আকৃতি পরিবর্তনকারী পরিবহনের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি যানবাহনের বাম্পার-এঙ্গেল কেটে ফেলা হয়েছে। অবশ্য অভিযানের আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের আহবানে সচেতন পরিবহন মালিকেরা তাদের স্ব স্ব যানবাহন থেকে আপত্তিকর এসব জঞ্জাল অপসারণ করে। কর্তৃপক্ষীয় সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএর আহবানে অনেকেই বাম্পার- এঙ্গেল অপসারণ করলেও তা সন্তোষজনক নয়। কি পরিমাণ যানবাহন থেকে আপত্তিকর এসব জঞ্জাল সরেছে, সে সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অভিযান শুরুর পর যানবাহন মালিকেরা বুঝতে পেরেছেন বাম্পার-এঙ্গেল অপসারণ না করে এ দফায় আর পার পাওয়া যাবে না। তাই অনেকেই উদ্যোগী হয়েছেন এগুলো অপসারণে। অবশ্য এমন অভিযোগও আছে বাম্পার কেটে ফেললেও কেউ কেউ গাড়ির সামনে লম্বা-লম্বি কিছু বাড়তি কাঠামো রেখে দিয়েছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। নগরীতে বাসের তুলনায় ট্রাকের সামনেই বাম্পার-এঙ্গেল চোখে পড়ে বেশি। কিছু কিছু গাড়ির সামনে তো রীতিমতো দৈত্যাকৃতির বাম্পার লাগানো হয়েছে। এসব বাম্পার-এঙ্গেল অপসারণের পর বাস-ট্রাক ফিরে পেতে শুরু করেছে তাদের প্রকৃত স্বরূপ। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এরফলে চালকদের মধ্যে বেপরোয়াভাব কমে সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা যেমন বাড়বে তেমনি দুর্ঘটনার হারও অনেকাংশে কমে যাবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-র হিসাবে, ২০০৯ সাল থেকে গত বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯ হাজার ৪৫০টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮ হাজার ৫১০ জনের। আহত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৪২ জন। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক-এর গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার ৬৮ দশমিক ৪১ শতাংশের পেছনে বাস ও ট্রাক জড়িত। দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ১ শতাংশেরই উৎস বাস। আর ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় যুক্ত ট্রাক। ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৫ শতাংশই মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে ঘটছে। ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, বাংলাদেশের ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলো বাম্পার, এঙ্গেল আর হুক দিয়ে এমনভাবে সজ্জিত করা হয়েছে, এগুলো যেন যুদ্ধের জন্য তৈরি ট্যাংক। এর ফলে চালকের মধ্যে এমন ধারণা জন্ম নিয়েছে যে দুর্ঘটনায় পড়লেও তাঁদের কোনো ক্ষতি হবে না। এজন্য চালকেরা কোনো কিছুর পরোয়া করেন না। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও বাসের যে মুখোমুখি সংঘর্ষ, আসলে সেগুলো মুখোমুখি নয়। এই তিন যানের দুর্ঘটনার বেশির ভাগই পাশ থেকে আঘাত করার ফলে। কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে চওড়া করার কারণেই এমনটা হয়। আর ট্রাকের বডিতে লোহার এঙ্গেল এমনভাবে লাগানো, দুর্ঘটনায় পড়লে তা বাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অংশ অর্থাৎ জানালা বরাবর আঘাত করে। এতে মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার হার বাড়িয়ে দেয়। মোটরযান আইন অনুসারে, মূল কাঠামো বা আকৃতি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন অবৈধ। পরিবর্তিত কাঠামো নিয়ে কোনো যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, উৎপাদনকারীর ম্যানুয়ালের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটি যানের নিবন্ধন দেওয়ার কথা। কিন্তু সংস্থাটির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মালিকেরা ইচ্ছেমতো আকার দিয়ে নিবন্ধন করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

এরপর দিনের পর দিন ফিটনেস সনদও দেওয়া হয়েছে। এখন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় এসব বিষয় আলোচনায় আসছে। বাস-ট্রাকের আকৃতি পরিবর্তনের বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ ফোরাম সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে প্রথম সরকারের নজরে আনেন সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সামছুল হক। তিনি জানান, অবৈধভাবে পরিবহনের আকৃতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে শুধু বাংলাদেশেই। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক নিম্ন আয়ের দেশেও এ ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে আন্তদেশীয় বাণিজ্য শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাক ভারতসহ অন্য কোনো দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, এগুলোর পুরোপুরি অবৈধভাবে কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে; যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পাশাপাশি বাড়তি মালামাল পরিবহন দেশের সড়ক ও সেতু ধ্বংস করছে। ২০১৬ সালের মার্চে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে যানবাহন মূল কাঠামোতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত চারটি বৈঠক করে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মালিকদের নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে এগুলো মূল কাঠামোতে ফিরিয়ে আনার জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু যানবাহন মালিকদের সময় বৃদ্ধির দাবির প্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ঝুলে যায়। পরে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি তিনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান এক বৈঠক থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা সময় বেঁধে দেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় দফায় ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এরপরই যানবাহনের অবৈধ বাম্পার-এঙ্গেলবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু করে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন। যা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান নিরাপদ যানবাহন হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা মোতাবেক দুর্ঘটনা প্রবণতাও দুই তৃতীয়াংশ হ্রাস পাবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn1Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us