আপডেট মে ১৪, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ রমযান, ১৪৪০

চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের নারী-পুরুষ সবার জন্য ইফতার আয়োজন

চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের নারী-পুরুষ সবার জন্য ইফতার আয়োজন

নিরাপদ নিউজ,শফিক আহমেদ সাজীব: নগরীর অনেক মসজিদে ইফতার আয়োজন হয়। প্রত্যেক মসজিদে শুধু পুরুষদের জন্য ইফতারের আয়োজন থাকলেও নগরীর জনবহুল জিইসি মোড়ের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার আয়োজনে যুক্ত থাকেন নারীরাও। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে নারী-পুরুষ এককাতারে চলে আসেন এ আয়োজনে। সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, রিকশা চালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক কেউ বাদ পড়েন না এ ইফতারে।

 

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ইফতার আয়োজনে প্রতিদিন শরীক হন দুই হাজার থেকে ২২শ রোজাদার- জানালেন ইফতার ব্যবস্থাপনায় যুক্ত মো. হোসেন বাবুর্চি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইসি মোড় ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন চালু করেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইফতার আয়োজন ধারাবাহিকতা রাখা হয়। জিইসি মোড় সংলগ্ন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ইফতার শুরুর আধ ঘণ্টা আগে থেকেই সারি করে সাজানো রয়েছে ইফতার। রোজাদার মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে রোজার গুরুত্ব, মাসয়ালা-মাসায়েল বর্ণনা করছেন মাওলানা এমরান হোসেন আলকাদেরী। ইফতারের সময় যতই ঘনিয়ে আসে ততই বাড়তে থাকে রোজাদারদের সংখ্যা। একা কিংবা দলবেঁধেও রোজাদারকরা শরীক হচ্ছেন এখানে। আশেপাশের কম আয়ের মানুষ কিংবা নারীরা আসছেন ইফতার করতে। ইফতার শুরুর অল্প কিছু সময় আগে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হন মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহান উদ্দিন সালেহীন।

 

সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাও ইফতারে সামিল হন। দুধচিড়ার সাথে রুহ আফজা শরবত দিয়ে রোজাদারদের ইফতার করানো হচ্ছে এখানে। ইফতারের মেন্যুতে রয়েছে ছোলা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী, খেজুর, মুড়িও। তবে সপ্তাহের একদিন বিরিয়ানিও দেওয়া হয় বলে জানান হোসেন বাবুর্চি। যেদিন বিরিয়ানি দেওয়া হয় সেদিন শুধুমাত্র ছোলা বাদে অন্য আইটেমগুলো ঠিক থাকে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন শুনে প্রতিদিন ইফতার করতে আসেন বৃদ্ধা রাজিয়া বেগম। তিনি বলেন, এখানে সবার সাথে বসে একসাথে ইফতার খাওয়া যায়। শান্তি পাওয়া যায়। তাই অন্য কোথাও যাই না। মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইফতারে চলে আসি।

 

মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকার সময় তিনি লোকজনকে ডেকে ডেকে নিজ হাতে খাওয়াতেন। তার সন্তানেরাও বাবার মতো হয়েছে। আল্লাহ তাদের অনেক বড় করবেন। একই কথা আরেক বৃদ্ধ আলীম হোসেনের। তিনি বলেন, ‘মেয়র গলির মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে অনেকবার খাবার খেয়েছি। মহিউদ্দিন চৌধুরী গরীব মানুষদের খাওয়ানোর মধ্যে আনন্দ পেতেন। জিইসি মোড়ে বসার মতো কোন জায়গা ছিল না। গত ৬-৭ বছর আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী রোজাদারদের ইফতারের আয়োজন করেছেন।

 

এখানে আসরের নামাজ পড়ে একটি বিশ্রাম নিই, ইফতার করে চলে যাই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমার অফিস আগ্রাবাদে। অফিসের কাজে প্রতিদিন জিইসি মোড় আসতে হয়। যেদিন সময় ঘনিয়ে আসে সেদিন এখানে ইফতার করতে চলে আসি। ধনী-গরীব সবাই ইফতারে শরীক হন। কারো মধ্যে ভেদাভেদ থাকে না। একটু চোখ বুলালে দেখা যাবে এখানে ইফতারে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ স্বচ্ছল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)