আপডেট ৫৪ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১০ রমযান, ১৪৩৯

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: একই মেলা একই পণ্য, শুধু বদলেছে আয়োজন বছর

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: একই মেলা একই পণ্য, শুধু বদলেছে আয়োজন বছর

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

শফিক আহমেদ সাজীব, ২০ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : গৎ বাঁধা মেলায় পরিণত হচ্ছে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর একই রকম আয়োজন, একই কোম্পানির একই পণ্য কিংবা বিদেশি স্টলগুলোতে নতুন পণ্য না থাকায় গতানুগতিক মেলার রূপ ধারণ করছে সম্ভাবনাময় এই আন্তর্জাতিক মেলাটি। অথচ নিজের দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে মেলায় উপস্থাপনের সুযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে মেলায় স্থান পাচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্যগুলো। অন্যদিকে মেলায় হাতে গোণা কয়েকটি বিদেশি স্টলের উপস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ করছে মেলার আন্তর্জাতিক নামকরণকে। মেলা কর্তৃপক্ষের মতে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও প্রসার এই মেলার মুখ্য উদ্দেশ্য হলেও কার্যত মেলার স্টল সমূহে সে ধরণের কোন ব্যবস্থাপনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেলায় আগত কয়েকজন দর্শকের অভিমত ক্রেতার পকেট কাটাই এখন মেলার উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বুধবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিবছরের মতোই ক্রেতা আকর্ষণের অক্লান্ত চেষ্টা প্রতিটি প্যাভেলিয়ান আর স্টলগুলোতে। মূল ফটকে পাওয়া স্থান পাওয়া আকর্ষণীয় গেট। বিভিন্ন প্যাভেলিয়ানে রাখা শিশুদের প্রিয় কার্টুন চরিত্রের ডামি। এছাড়া প্রতিবছরের মতো মেলায় স্থান পেয়েছে বিল্ডিং আইটেমস, প্লাস্টিক সামগ্রী, আর্টিফিসিয়াল ফ্লাওয়ার, কার্পেট, হারবাল, কসমেটিকস, হাউজহোল্ড আইটেমস, লেদার পণ্য, খেলনা, স্পোর্টস পণ্য, স্টেশনারি, স্যানিটারি, কনজ্যুমার পণ্য, প্রসাধনী, তথ্য প্রযুক্তি, ওয়াটার ফিউরিফাই, জুয়েলারি, সিরামিকস, দেশি ও বিদেশি বস্ত্র, ফুটওয়্যার, মেলামাইন, প্রত্রিয়াজাত খাদ্য, আসবাবাপত্র ও হস্তশিল্পের নানা পণ্য। দেশীয় পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের কাপড়, হস্তশিল্প আর পাটজাত পণ্য থাকলেও তার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য। চারুকলার শিক্ষার্থী পিয়াল ভট্টাচার্য্য বলেন, যখনি আসি একই রকম মনে হয়। কোন বৈচিত্র্য নেই। একই ধরণের পণ্যগুলো ঘুরে ফিরে। কম দামের জুতো, একটি থ্রি-পিস কিনলে একটি ফ্রি এমনটাই চলছে প্রতিবছর। এতো বড় একটা মেলার আয়োজন অথচ দেশীয় পণ্যের স্টল হাতেগোনা। আর প্রতিবছরের মতো ভারত, থাইল্যান্ড, ইরান এই স্টলগুলোই দেখছি। সত্যিই নতুনত্ব দেখছি না। আর এতো দাম! প্রতিটি জিনিসের দ্বিগুণ দাম নেওয়া হয় এখানে। তাই এখন আর আসাও হয়না। মেলা শুরুর পর আজ আসলাম বন্ধুদের সঙ্গে। মেলায় স্থান পাওয়া খাবারের দোকানগুলোর খাবারে দ্বিগুণ দাম নেওয়া হয় বলে বিস্তর অভিযোগ মেলায় আগতদের। ব্যাংক কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, এখানে খাবারের এতো বেশি দাম ভাবা যায় না। সুযোগ বুঝে এক প্লেট নরমাল ফুচকার দাম ২০০-৩০০ টাকা চেয়ে বসে। একটা আধা লিটার পানির দাম ২০-২৫ টাকা। ২৫ টাকা দামের চকবার বিক্রি করছে ৩৫ টাকায়। আমাদের প্রশ্ন, এক্ষেত্রে কি আয়োজকদেরও কোন দায় নেই? মেলায় চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের নিয়ন্ত্রণ অফিসে আলাপ হয় জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং মেলার সমন্বয়কারী নুরুল আবছার চৌধুরীর সাথে। গতানুগতিক মেলা আয়োজনের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, মেলার পরিসর বাড়ছে। আমরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের মেলার প্রচার করে থাকি। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা মেলার খরচ বহন করতে পারবেন না বলেই মেলায় অংশগ্রহণ করেননা। কিন্তু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্ভুদ্ধ করে মেলায় নিয়ে আসার কোন আয়োজন এখনো হয়নি বলে জানান তিনি। প্রতিবছর মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩টি থেকে ৪টির বেশি নয় কেন? এমন প্রশ্নেরও কোন উত্তর দেননি তিনি। মেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে , পলোগ্রাউন্ড মাঠের প্রায় ৪ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের জায়গায় ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয় ২৫তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলায় ৩৬টি প্যাভিলিয়ান, ২৩৪টি স্টল/বুথ রয়েছে। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা ৪৫০টি। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই মেলায় অস্থায়ী ক্যাম্প, রেড ক্রিসেন্ট সন্ধানী ও র্যা ড (রাইট একশন ফর ডিসএ্যাবিলি)’র জন্য বিনামূল্যে একটি করে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্প সাহিত্য ও সংষ্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রকেও বিনামূল্যে একটি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিবছরের মতোই এবারও অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা মাত্র চারটি। থাইল্যান্ড, ভারত, ইরান ও মারিশাস ( এই বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে)। উল্লেখ্য, ১৯৯২-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সিজেকেএস এর জিমনেসিয়াম হলে ‘শিল্পপণ্য মেলা’ নামে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ নামকরণে প্রতিবছর নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)