ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ১১, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৪ সফর, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহন সংকটে দিনভর ভোগান্তিতে যাত্রীরা

চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহন সংকটে দিনভর ভোগান্তিতে যাত্রীরা

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: নগরীতে গণপরিবহন সংকটে দিনভর ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এতে বৈশাখের তীব্র তাপদাহে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে যাত্রীদের। দিন শেষে অফিস ছুটির সময়ে সেই দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। গতকাল নগরীর জনবহুল স্ট্যান্ডগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের ভীড়। অনেকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও গণপরিবহন না পেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও অ্যাপসভিত্তিক বাইকে করেও গন্তব্যে গিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায় এবং অফিস ছুটির সময়ে বেশিরভাগ গাড়ি রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে নির্ধারিত রুটে না চলার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট দেখেও কয়েকটি রুটে গাড়ি উধাও হয়ে যায়। এতে করে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।

গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে শুরু করে আগ্রাবাদ মোড়, চৌমুহনী, দেওয়ান হাট মোড়, টাইগার পাস, লালখান বাজার, ওয়াসা ও জিইসি মোড় গিয়ে দেখা গেছে মোড়ে মোড়ে যাত্রীদের জটলা। কয়েকটি পয়েন্টে যানজট রয়েছে। অসংখ্য গাড়ি বিভিন্ন গন্তব্যে গেলেও মোড়ে দাঁড়ানো যাত্রীরা নির্ধারিত রুটের গাড়ি পাচ্ছেন না।

বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে কমার্স কলেজ মোড় পর্যন্ত যানজট থাকলেও আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে কোন যানজট নেই। তবে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন বাসের জন্য। কথা হলে ব্যাংক কর্মকর্তা জাবেদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি পটিয়ায়। পাঠানটুলিতে বাসা থাকলেও অফিস থেকে সরাসরি বাড়িতে চলে যাইব। বাড়িতে গিয়ে ইফতার সারার জন্য আজ চারটায় অফিস থেকে বের হয়ে কোন গাড়ি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে পাঠাও ডেকেছি। আগে যেখানে নতুন ব্রিজ যেতে বিশ টাকা খরচ হতো এখন ৭০ টাকা খরচ হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমার বাসা চান্দগাঁও আবাসিকে। এক ঘণ্টা হয়েছে কোন বাস পাচ্ছি না। প্রায় বাসগুলো রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে চলছে। প্রতিদিন অফিস ছুটি হলে এ সমস্যায় পড়তে হয়। আজকে গণপরিবহনের এ ভোগান্তি আরো বেড়েছে।

আগ্রাবাদ মোড়ে দায়িত্বপালনকারী সার্জেন্ট কাইয়ুম বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নগরীর প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ স্পটে গাড়ি দাঁড়ানোর জন্য নির্ধারিত স্পট করে দেওয়া হয়েছে। বাস থামার জন্য প্রত্যেক মোড় থেকে ১০০ মিটার দূরে স্টপিজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে যাত্রীরা নিরাপদে উঠানামা করতে পারেন।’ তবে যাত্রীরা নির্ধারিত স্টপিজে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানান এ ট্রাফিক সার্জেন্ট। তিনি বলেন, রমজান মাসে সব অফিস একত্রে ছুটি হয়। ঘরমুখো মানুষ একত্রে রাস্তায় আসে। এতে যাত্রী অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা কম থাকে। যাত্রীরা মোড়ে গিয়ে ভীড় করছেন। ঝুঁকি নিয়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠার জন্য দৌঁড়ঝাঁপ দিচ্ছেন।’ মোড়গুলো গাড়িশূণ্য থাকার বিষয়ে এ ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘গাড়ির চালক ও যাত্রীদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে আগ্রাবাদ মোড়ে কমিউনিটি ভোলান্টিয়ার দেওয়া হয়েছে। তারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের সচেতন করছেন। গণপরিবহনগুলো মোড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে মোড়গুলোতে এখন কোন যানজট নেই।

একটু এগিয়ে দেওয়ানহাট মোড়েও যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। টাইগার পাস মোড়ে যানজট না থাকলেও গাড়ি মিলছে না। এখানে কথা হলে নিউ মার্কেটগামী যাত্রী পলাশ চৌধুরী বলেন, ‘দুপুরে শুনেছি স্টেশন রোড এলাকায় মোবাইল কোর্ট বসেছিল। তাই ওইসময় থেকে নিউ মার্কেটগামী অনেক বাস টাইগারপাস থেকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিল।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসেন, তার আগে পরের স্টপিজগুলোতে অনেক গাড়ি ঘুরিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। যেসব গাড়ির ডকুমেন্ট হালনাগাদ নেই কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, ওই গাড়িগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেলেই গন্তব্যে না গিয়ে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। গতকাল দুপুরে স্টেশন রোডে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসার পর থেকে পরিবহন সংকটে আশেপাশের রুটগুলোর যাত্রীদের তপ্ত রোদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর বলেন, ‘সড়কে শৃংখলা ফেরানোর জন্য আমরা লাগাতার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। আমরা যাত্রী হয়রানির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ইদানিং শুনছি আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসার খবর পেলেই চালকরা পথিমধ্যে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন। আমরা অভিযোগ পেয়ে গত কয়েকদিনে অনেক চালকদের আটক করেছি। জরিমানা আদায় করেছি। জরিমানা আদায়ের পরেও এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের কারাদণ্ডসহ দ্বিগুণ অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) অলক বিশ্বাস বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে বাস থামানোর জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওইসব পয়েন্টে বাস থামানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখন যানজট নেই।’ তিনি বলেন, যাত্রীরা সচেতন নয়। অনেক শিক্ষিত লোকের মধ্যেও আইন না মানার প্রবণতা দেখা যায়। তাই যতটুকু সম্ভব যাত্রীদের বুঝিয়ে নির্ধারিত স্টপিজ থেকে গাড়িতে উঠতে বাধ্য করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)