ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট আগস্ট ৯, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৫ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৮ জিলহজ্জ, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রাম নগরীতে বসা কোরবানি পশুর বাজারগুলোতে বেচাবিক্রি শুরু

চট্টগ্রাম নগরীতে বসা কোরবানি পশুর বাজারগুলোতে বেচাবিক্রি শুরু

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ:  আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে নগরীতে বসা পশুর বাজারগুলোতে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রত্যাশিত নয় বলে জানান বেপারিরা। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই বাজারে থ্রিপল টাঙানো হয়েছে। তারপরেও বৃষ্টির কাঁদা পানি ও গোবর একত্রিত হয়ে বাজারে পা ফেলতে সমস্যা হয় ক্রেতাদের। যেহেতু কোরবানির সময় আর মাত্র কয়েকদিন বাকি তাই কাঁদা পানি মাড়িয়ে অনেক ক্রেতাকে গরু কিনতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসা বাড়িতে রাখার সমস্যার কারণে সাধারণত শহর এলাকার বাসিন্দারা শেষ মুহূর্তে এসে কোরবানির পশু কিনেন। এছাড়া অনেক ক্রেতা শেষ দিকে দাম কমতে পারে ভেবেও অপেক্ষায় থাকেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ঝুঁকিও থাকে। গত দুই বছর ধরে শেষ মুহূর্তে বাজারে গরুর সংকট দেখা দেয়। ফলে দামও বেশ চড়া ছিল। তবে বেপারিরা জানান, প্রতিটি বাজার এখনো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই এখনো শেষ দিকে গরুর সংকট হবে কিনা বলা মুশকিল। যেহেতু এ বছর যথেষ্ট পশুর আছে, তাই এবার শেষদিকে গরুর দাম কমার সম্ভাবনাও আছে।

গতকাল নগরীর প্রধান দুই স্থায়ী বাজার বিবিরহাট ও সাগরিকা পশুর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে এখনো ট্রাকে ট্রাকে গরু প্রবেশ করছে। তবে প্রত্যাশিত বেচাবিক্রি শুরু না হওয়ায় বেপারিরা কিছুটা হতাশ। কারণ সারাবছর তারা গরু প্রতিপালন করে এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে। বিবিরহাট বাজারের কয়েকজন বেপারি আক্ষেপের সুরে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আসার পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও স্থানীয় কিছু লোক দলীয় পরিচয় দিয়ে মাসোহারা আদায় করছে। এছাড়া কয়েকটি পয়েন্টে জোর করে তাদের ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে দিয়েছে।

সাগরিকা বাজারে আসা আগ্রাবাদ এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর আমি সাগরিকা বাজার থেকেই গরু কিনি। তবে এ বছর গত বছর থেকে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু বেপারিরা এখনো দাম ধরে আছে। মূলত দাম যাচাইয়ের জন্য এসেছি। এছাড়া এই মুহূতে গরু কিনলে বাসা বাড়িতে রাখারও সমস্যা। তাই চিন্তা করলাম আরো দু’একটা দিন দেখবো।

বিবিরহাট বাজারের ইজারদার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের বাজারে বেপারিরা স্বাচ্ছন্দে গরু বেচাকেনা করতে পারে। কারণ আমরা তাদের সুবিধা অসুবিধাগুলো দেখছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। পুরো বাজারে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। গরু বিক্রি এখন পর্যন্তু সেইভাবে শুরু না হলেও আমরা আশা করি দুই একদিনের মধ্যে গরু বিক্রি বেড়ে যাবে।

সাগরিকা বাজারের ইজারাদার জামশেদ খান জানান, সাগরিকা বাজারে আজ (গতকাল) আগের দিনের চেয়ে গরু বিক্রি বেড়েছে। গত কয়েকবছর ধরে ক্রেতারা শেষ মুহূর্তে বাজারমুখী হচ্ছেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। এ বছর বাজারে প্রচুর গরু রয়েছে। গরুর কোনো সংকট হবে না।

এদিকে সাগরিকা ও বিবিরহাট পশুর বাজারের মতো একই চিত্র দেখা গেছে, কর্ণফুলী নূর নগর হাউজিং সোসাইটি পশু বাজারেও। এসব বাজারে ক্রেতা সমাগম বাড়লেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পশু বিক্রি হচ্ছে না। এছাড়া দিনভর বৃষ্টির ভোগান্তির তো আছেই। অন্যদিকে স্টিলমিল গরু বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের গরু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা এখনো দরদামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছেন। তবে আজ থেকে বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের গরু বাজারের ইজারাদার মো. আবুল হোসেন ও স্টিলমিল বাজার ইজারাদার কাজী আনোয়ার হাফিজ। তারা বলেন, বৃষ্টিতে গরু ব্যবসায়ীদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। আশা করছি শেষ বেলায় তারা সব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)