আপডেট ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

ঢাকা মঙ্গলবার, ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪০

চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরীতে ভোট দেননি বিএনপির তিন প্রার্থী

চট্টগ্রাম নগরীতে ভোট দেননি বিএনপির তিন প্রার্থী

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগরীর ৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা ভোট দেন নি। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম দেখার পর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেছেন তারা। তিন প্রার্থীই ‘নজিরবিহীন অনিয়ম’- এর মাধ্যমে ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, এমন অনিয়মের দ্বিতীয় কোন নজির শুধু দেশেই নয়, বিশ্বেও খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। পোলিং অফিসারের সামনে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছে বহু নারী-পুরুষকে। হিজাব পরিহিত নারীদের গোপন কক্ষে যেতে দেয়া হয়নি। চট্টগ্রাম- ১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজের বাড়ির আঙিনাতে দিনভর নেতাকর্মীদের সাথে সময় কাটিয়েছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে এ সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল তা আজকের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জনগণকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, সবার সামনে ভোটদানে বাধ্য করাসহ নানা অনিয়মের চিত্র দেশব্যাপী ফুটে উঠেছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দিনের আলোর মত পরিষ্কার, বাংলাদেশে কি ঘটেছে। এটা তো ‘প্রি-ইলেকশন রিগিং, ইলেকশন রিগিং এবং ভোট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’। মানুষ ক্ষুদ্ধ তাদের ভোটাধিকার আবারো কেড়ে নেয়ার জন্য। তরুণ সমাজ আরো বেশি ক্ষুদ্ধ, তারা ভোট দিতে পারে নি। সুতরাং তারা যে শুধু মানুষের গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে তা নয়। শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা সমাজের মধ্যে সহাবস্থানের যে একটা এতিহ্য ছিল সেখানেও আঘাত করেছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে লজ্জাজনক। ভোট না দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। তবে ভোট দিই নাই। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারেন নি, তাই আমিও ভোট দিই নাই। আগের রাতে তারা (আওয়ামী লীগ) অধিকাংশ ভোট নিয়ে ফেলেছে। আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে, ঢুকতে দেয় নি, গ্রেপ্তার করেছে, তার প্রতিবাদে আমি ভোট দিই নাই। চট্টগ্রাম- ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বাসা থেকেই বের হননি। তিনি বলেন, আমার আসনের কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত এজেন্টরা ঢুকতেই পারেননি। শনিবার রাত থেকে এজেন্টদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্র দখলে নেওয়া হয়েছে। এরকম নির্বাচন জনগণ প্রত্যাশা করেনি। ভোটের নামে জাতির সাথে অনেক বড় এক ‘প্রহসন’ করা হয়েছে বলেও আবদুল্লাহ আল নোমান মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম- ৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান চান্দগাঁও সিডিএ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলেও ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মীদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। আমার কেন্দ্র থেকে আমার আটজন এজেন্টকে ধরে নিয়ে গেছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ভোট না দিয়ে বাসায় ফিরে এসেছি বলেও আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)