আপডেট ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১০ রমযান, ১৪৩৯

অপরাধ, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা ঐক্যের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা ঐক্যের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা ঐক্যের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

শফিক আহমেদ সাজীব, ১৯ এপ্রিল, ২০১৭, নিরাপদনিউজ : নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার ‘ঐক্য’ হওয়ার ২৩ ঘণ্টার মধ্যে অনৈক্যের দামামা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে নগর ছাত্রলীগ লাঠি ও লোহার রড হাতে রাস্তায় নেমে পড়লো। সচেতন মহলের প্রশ্ন নগর আওয়ামী লীগে বাকযুদ্ধ শেষ করে এবার কি বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল? গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ‘ইক্কা আয়ুন’ বলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে কাছে ডেকে নিয়ে ঐক্যের ঘোষণা দেন। গত সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঐক্য ঘোষণার পর সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধারণা ছিল বিবাদের অবসান হয়েছে। আর কোনো মারামারির ঘটনা ঘটবে না। যেকোন সমস্যা আলোচনা করেই সমাধান করা হবে। সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী কিছু দাবি পূরণের জন্য সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিটি মেয়রের কাছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কয়টি দাবি আছে। সেসব কি দাবি করবেন, তা জানার আগেই মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা তা-ব চালিয়েছে। লাঠি-সোটা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমেই প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাথে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিবাদ শুরু হয়। এরপর থেকে একের পর এক ইস্যু আসে। সর্বশেষ যে কয়েকটি ইস্যুর উদ্ভব হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিএমএ নির্বাচন, গৃহকরের পঞ্চবার্ষিকী মূল্যায়ন, আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ। আ জ ম নাছির উদ্দিনের যেসব কর্মকাণ্ডে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিরোধিতা করেছেন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিটি কর্মসূচিতেই নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এরা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুই নেতার ঐক্যের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণকারী কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈমুদ্দিন চৌধুরী।তিনি বলেন, আজ এটা কেন ঘটলো বুঝতে পারলাম না। এটা কোনভাবেই কাম্য নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে কোনো সুইমিংপুল নেই। বিভিন্ন সংগঠন এবং নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সুইমিংপুল নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। সুইমিংপুলের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের দ্বিমত থাকলে উচ্চ পর্যায়ে সিজেকেএস, ক্রীড়া মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাওয়ার সুযোগ আছে। তাছাড়া সিজেকেএস’র সাধারণ সম্পাদক তো আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগ তার কাছেও যেতে পারতো। কারো কাছে না গিয়ে এভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মোটেও উচিত হয়নি। সুইমিংপুল নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি জায়গায় এবং সরকারি অর্থায়নে। তাই এটি সরকারি সম্পদ। এটি রক্ষায় পুলিশের আরো কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনার পরও তিনি হতাশ নন এবং ঐক্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাতে হাত রেখে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঐক্য ঘোষণার পর কেন এমন ঘটল, এবিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সংগঠনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারেন। তারা দুইজন কথা বলে সমস্যার সমাধান করলে আর কোন বিবাদ থাকবে না। ঐক্যের অপর উদ্যোক্তা নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ছাত্রলীগের আন্দেলনকে সমর্থন করলেও বি-শৃঙ্খলাকে সমর্থন করি না। 

ছাত্রলীগ সঠিক পন্থায় আন্দোলন করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যে এই ধরনের ঘটনা ঘটাবে তা আগে থেকে আঁচ করতে পারলে কখনোই ঘটতে দিতাম না। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে খেলার মাঠ নেই। আউটার স্টেডিয়ামে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে ছেলেরা অনুশীলন করে। আকরাম, তামিম, নাফিজ ইকবালের পর আর কোন খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে প্রতি বছর বিজয় মেলার আয়োজন হয় সেখানে কেন সুইমিংপুল নির্মাণ করা হচ্ছে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একসময় সার্কিট হাউজের মাঠে বিজয় মেলা হতো। বিজয় মেলা বন্ধ করার জন্য সেখানে পার্ক নির্মাণ করা হয়। এটিও সেই ধরনের ষড়যন্ত্র কিনা তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যেখানে ছাত্রদের রক্ত ঝরেছে সেখানে সুইমিংপুল করতে দেয়া হবে না। সিজেকেএস’র সভাপতি জেলা প্রশাসক। এখানে আওয়ামী লীগের বিরোধী লোকজনও আছে। জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। আশা করি তিনি কাজটি বন্ধ রাখবেন। এই ঘটনায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঐক্যে কোনোভাবেই ফাটল ধরবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণকারীদের আরেকজন নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। ঐক্য ঘোষণার পর এই ধরনের সংঘর্ষ ঘটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কেন ঘটছে তা আমার বোধগম্য নয়। তবে গতকালের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশের সাথে মারামারি এবং জিইসি ও ওয়াসা মোড়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা খুবই খারাপ কাজ। এজন্য তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের তিরস্কার করেন। তবে সুইমিংপুলের বেড়া ভাঙ্গাকে সমর্থন করে তিনি বলেন, কর্মসূচিশেষে ফেরার পথে তারা সাধারণ মানুষকে কেন দুর্ভোগে ফেলবে ? কেন গাড়ি ভাঙচুর করবে ? এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে তিনি নগর ছাত্রলীগের নেতাদেরকে চশমা হিলস্থ নিজ বাসভবনে তলব করেছেন বলে জানান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)