ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ৭, ২০১৪

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪০

শিক্ষানগরী সংবাদ, সড়ক সংবাদ চন্ডিপুরে তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু

চন্ডিপুরে তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু

তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর বহু প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু

তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর বহু প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু

নওগাঁ, ডিসেম্বর ০৭ ২০১৪, নিরাপদনিউজ : নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কারিগর পাড়ায় তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর বহু প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘপ্রতিক্ষার পর বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালেক এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্ত্তৃপক্ষ ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে হলে তুলশীগঙ্গা নদীর উভয় তীরের ৪০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি হবে। সেই সাথে এসব এলাকার কৃষিপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
একটি সেতুর কারণে ৪০টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের জীবনপ্রবাহ থমকে ছিলো এতোদিন। নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর এবং রানীনগর উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের এসব গ্রামবাসীর যাতায়াতের প্রধান অন্তরায় ছিল তুলসীগঙ্গা নদী। নদীর উভয় তীরে সড়ক যোগাযোগ থাকলেও কেবলমাত্র একটি সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে নওগাঁ শহরে এবং বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করতে হতো।
সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর মধ্যদিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সেই সাথে কৃষি পণ্যের নায্য মূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন গ্রামবাসী। বিশেষ করে নওগাঁর চন্ডিপুর ইউনিয়নবাসীর কাছে এতোদিন তুলসীগঙ্গা নদীটি আতংকের বিষয় ছিলো। দু’পাড়ের গ্রামবাসীর জন্য প্রধান সমস্যা ছিলো নদী পাড়াপাড়।
এ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে চন্ডিপুর ইউনিয়নের গাংজোয়ার, মোল্লাপাড়া, মন্ডলপাড়া, সর্দারপাড়া, ইলশাবাড়ী সিমুলিয়াসহ চন্ডিপুর ও রানীনগর ইউনিয়নের এসব গ্রামবাসী উপকৃত হবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য বেলাল, হাসান, হাফিজুর, উজ্জল শেখ, মাসুদ রানা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামবাসী এখানে একটি সেতু নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্ত ইতিপূর্বে সকলে আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হয়নি। বর্তমান সরকারের সময় নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালেক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এখানে সেতু নির্মাণের উদ্যাগ গ্রহণে এগিয়ে আসেন। সেতু নির্মাণ কাজও শুরু হয়। আগামী বছরের প্রথম দিকেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
সেতু নির্মাণের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে পানি ধরে রাখার জন্য এখানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। দু’পাড়ের বাসিন্দারা যেন নদীর পানি ব্যবহার করে খরা মৌসুমে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ পান।
সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বরেন্দ্র বহু মুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেতু নির্মান শেষ হলে এতে দু’পাড়ের ৪০ গ্রামের অন্তত অর্ধ লাখ মানুষ তাঁদের প্রত্যাশা পূরণসহ কাংঙ্খিত সুফল পাবেন। এর ফলে এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের নায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। এ ছাড়াও রাবার ডামের মাধ্যমে নদীর সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)