আপডেট ২৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

কৃষি ‘চরাঞ্চলের কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন’

‘চরাঞ্চলের কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন’

জাহিদ রহমান, নিরাপদ নিউজ: বাংলাদেশের চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কৃষিখাতের গুরুত্ব এবং চরের কৃষিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ (৩০ জুন ২০১৮) ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে। সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব এম. এ. মান্নান, এমপি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান জনাব খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব এম. আনিস উদ দৌলা, জামালপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ফরিদুল হক খান, সৌরশক্তি বিশেষজ্ঞ ড. দীপাল বড়ুয়া এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কর্মসূচি পরিচালক জনাব এম বি আখতার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন যে, বাংলাদেশ চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হলেও, এখনও এক্ষেত্রে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে, এবং এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পাশাপাশি বেসরকারিখাতকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন যে, চরের কৃষিজীবিরা যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান সে দিকে বিশেষ মনযোগ দেয়া দরকার। এ জন্য বাজারের সঙ্গে কৃষকের কার্যকর সংযোগ স্থাপনে বিনিয়োগ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসিআইগ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব এম আনিস উদ দৌলা বলেন কৃষকদের জন্য ফসল বীমার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো এখনও সফল হয়নি, তাই কার্যকর ফসল বীমা বিষয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে আমারা শিখতে পারি।

অক্সফ্যামের ইন বাংলাদেশের পরিচালক কর্মসূচি এম. বি. আখতার বলেন যে চরের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই সার্বিকপরিকল্পনার অভাবে গৃহীত উদ্যোগগুলো আশানুরূপ সফলতা পায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন যে, চরে গাভীপালন কর্মসূচির মাধ্যমে দুধউৎপাদন অনেকখানি বাড়ানো গেলেও সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনকারি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তাঁর বক্তব্যে চরের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশিতা যেন কার্যকরভাবে ব্যয় করা হয় সেদিকে ও নজর রাখতে হবে। এছাড়াও তিনি চরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের এস এমমনজুর রশীদ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন অ-কৃষিখাতের তুলনায় কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অধিকহারে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। তাই চরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কৃষিখাতের ওপর জোর দেয়ার কোন বিকল্প নেই। আর চরের কৃষিখাতের বিকাশ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। অতিথিদের আলোচনার শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কৃষক, এনজিও, বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং সরকারি বিভিন্নমন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)