আপডেট ৭ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

সাক্ষাৎকার চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মুভিবাজারের ভূমিকা রয়েছে: সৈকত সালাহউদ্দিন

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মুভিবাজারের ভূমিকা রয়েছে: সৈকত সালাহউদ্দিন

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মুভিবাজারের ভূমিকা রয়েছে: সৈকত সালাহউদ্দিন

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মুভিবাজারের ভূমিকা রয়েছে: সৈকত সালাহউদ্দিন

ঢাকা, ১৫ মার্চ ২০১৬, নিরাপদনিউজ: বিটিভিতে একসময় ‘ছায়াছন্দ’ নামে চলচ্চিত্রের গান নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচার হতো। যেদিন এই ছায়াছন্দ প্রচার হতো সেদিন দর্শকদের মধ্যে এক ধরণের আনন্দ বিরাজ করত। কালের স্রোতে চলচ্চিত্র হারিয়েছে তার সোনালি দিন। তবে সিনেমাকে উপজীব্য করে প্রচারিত এশিয়ান টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মুভিবাজার’। সৈকত সালাহউদ্দিনের পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় দেশীয় চলচ্চিত্রের এই অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনুষ্ঠানটি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় প্রচার হয়। গত ১০ মার্চ এই অনুষ্ঠানটির গৌরবময় ১২৫তম পর্ব প্রচারিত হয়েছে। সাফল্যের পথ বেয়ে ছুটে চলা এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে নানা কথা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন উপস্থাপক এবং এশিয়ান টিভির অনুষ্ঠান প্রধান (অতি:) সৈকত সালাহউদ্দিন।
শুরুতে বললেন, মুভিবাজার নিয়ে ১২৫তম পর্বের পথচলা।অবশ্যই এই পথচলা আনন্দের। মুভিবাজারের সঙ্গে পথচলার শুরুতে এত বড় সাফল্যের কথা ভাবিনি। তবে আমি শুধুমাত্র এইজন্য আনন্দিত নই যে আমার পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় এশিয়ান টিভিতে দেশীয় সিনেমার বাজার বিষয়ক অনুষ্ঠান মুভিবাজার ১২৫তম পর্ব বা ১২৫তম গৌরবময় সপ্তাহ উদযাপন করেছে। আনন্দিত কারণ দেশীয় সিনেমার একটি অনুষ্ঠান বড় স্পন্সর নিয়ে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য হলিউড বা বলিউডি সিনেমা নিয়ে কোনো অংশ প্রবেশ করাতে হয়নি। সিরিয়াস বিষয় নিয়ে সাজানো পর্বগুলোও- যেমন সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন কেন সিনেমায় অনুপস্থিত বা শুধু শিল্পী নয় কুশলীদের নিয়েও পর্ব টিআরপিতে এসেছে!
এজন্য পরিকল্পনাই প্রধান। আমরা এই অনুষ্ঠান নির্মাণে প্রাধান্য দিয়েছি চলচ্চিত্রের মানুষদেরকেই। যারা চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন, চলচ্চিত্রকে নিয়ে ভাবছেন। অভিনয় শিল্পী থেকে শুরু করে পরিচালক, কণ্ঠশিল্পী, প্রযোজক, প্রদর্শক, টক শো ব্যক্তিত্ব এমনকি র‌্যাবের পাইরেসি দমন ইউনিটের প্রধান পর্যন্ত অনেকেই এসেছেন মুভিবাজারে।
এক প্রশ্নে বললেন চিত্রনির্মাতা এফ আই মানিক ছিলেন আমাদের প্রথম অতিথি। তারপর অনেকেই এসেছেন। ধারাবাহিকতায় মুভিবাজার রজত জয়ন্তী ২৫ তম পর্বে অতিথি হয়েছেন রাজ্জাক, সুবর্ণ জয়ন্তী ৫০ তম পর্বে সোহেল রানা, হীরক জয়ন্তী ৭৫ তম পর্বে ফেরদৌস এবং মুভি বাজার ১০০ তম পর্বে অতিথি হয়েছেন জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ১২৫তম পর্বে হাজির ছিলেন নন্দিত চিত্রনায়ক ফারুক। প্রতিটি অধ্যায়কে সাজানো হয় বিশেষ পরিকল্পনায়।
মুভিবাজারে আলোচনায় এসেছে চলচ্চিত্রের প্রায় সবই। দেশের বাজার, হলের পরিবেশ, বিদেশের বাজার, যৌথ প্রযোজনা বিতর্ক, সিনেমার প্রযুক্তি, বক্স অফিস না থাকা, সিনেমার অ্যাকশন, কমেডি, নাচের কোরিওগ্রাফি, কাহিনির সংকট, সংলাপের মান, গুরু-শিষ্য, বিনিয়োগের সংকট, সেন্সর নীতিমালা, এফডিসির আধুনিকায়ন, সিনেমায় কর্পোরেট বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা, পাইরেসি, সিনেমাটোগ্রাফি, সিনেমা নির্মাণে নানা সমস্যা থেকে সিনেমার প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের নামে কেনো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার নামকরণে দেখা যায়না, জাতীয় বীরেরা কেনো সিনেমায় উপেক্ষিত এমনি নানা বিষয়।
মুভিবাজারের সাফল্য নিয়ে বললেন, কোন সৃষ্টির সাফল্য অবশ্যই ভালো লাগে। তবে মুভিবাজারের এই সাফল্যের ভাগ শুধু আমার একার নয়। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষই ‘মুভিবাজার’র জন্য পরিশ্রম করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই মুভিবাজার টিমকে ও এশিয়ান টিভির কতৃপক্ষকে। পাশাপাশি ধন্যবাদ দিতে হয় স্পন্সর ফেয়ার এন্ড লাভলি ও পার্টনার স্টার সিনেপ্লেক্স পরিবারকেও। আর খুব ভালো লাগে অনুষ্ঠানে আসা সিনেমার পিলারগুলো যখন বলেন মুভিবাজার নিয়মিত দেখেন বা নতুন প্রজন্ম যখন মনে করেন মুভিবাজার শোতে আসা দরকার সত্যি ভালো লাগে খুব। মুভিবাজার ১২৫ উৎসব পর্বে চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী ফারুক যখন বলেন, একটাই অনুরোধ মুভিবাজার যেনো কখনো বন্ধ না হয় তখন আমাদের পুরো টিম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।
বলাবাহূল্য সৈকত সালাহউদ্দিন একসমের তূখোড় বিনোদন সাংবাদিক। আর মুভিবাজারের কল্যাণে এখন তারকা উপস্থাপক। এ প্রসঙ্গে বললেন, আমার বন্ধু দেবাশীষ বিশ্বাস একটি কথা বলেন, যার নামটি মনে করিয়ে দিতে হয়না সেই তারকা। অকপটে বলি, মিডিয়ার বাইরে সাধারণ মানুষ আমার নামটি চট করে মনে করতে পারেননা। তাই আমিও নিজেকে তারকা মনে করি না। সেই ২০১২ সালে চ্যানেল নাইন-এ সাড়া জাগানো তিনটি শো এবং ২০১৩ সাল থেকে ‘মুভিবাজার’র মতো একটি জনপ্রিয় শো- এর ১২৫তম পর্ব পার করেও নিজেকে তারকা ভাবিনা। তবে মুভিবাজার নিজেই তারকা হয়েছে। এই কথা সবাই মানবেন, দেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক কোনো অনুষ্ঠানের কথা বলা হলে দর্শক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের মানুষেরা চোখ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গেই বলবেন ‘মুভিবাজার’। এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। আমি নই, আমাদের পরিশ্রমের ‘মুভিবাজার’ তারকায় পরিণত হয়েছে। যখন পাবলিক প্লেসে যাই, দূর থেকে মন্তব্য শুনি বা তারা কাছে এসে ছবি তুলতে চান এই বলে যে- ওই যে মুভিবাজার করেন ওই লোকটা বা আপনার মুভিবাজার শোটা ভালো লাগে। চলচ্চিত্রের মানুষেরাও দাবি করেন, দেশে চলচ্চিত্র নিয়ে পরিপূর্ণ অনুষ্ঠান ‘মুভিবাজার’। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অনেকের মতো মুভিবাজারেরও ভূমিকা রয়েছে। অর্থাৎ মুভিবাজার তারকা হতে পেরেছে।
এ প্রসঙ্গে সৈকত আরো বলেন, আমাদের দেশে তারকা শব্দটা আজকাল যার তার নামের সঙ্গে লেগে যাচ্ছে। এই সময়ে যাদের তারকা বলা হচ্ছে তাদের ৯৯ শতাংশই তারকা নন। এটা পাবলিক প্লেসে গেলে সেইসব কথিত তারকারাও অনুধাবন করেন। তাদের নামতো দূরের কথা এইসব স্বঘোষিত ও খবরের পাতার তারকারা ‘কী’ করেন সেটাও সাধারণ মানুষ এমনকি মিডিয়ার অনেকেই বলতে পারেন না। তারকা বলার ক্ষেত্রে ফ্যানদের ভাষা ও মিডিয়ার ভাষা এক হয়ে যাচ্ছে। কোনো একজন শিল্পীর গুটিকয়েক ভক্ত তাদের ভালোবাসার জায়গা থেকে তারকা বলছে মিডিয়াও তাকে তারকা বলে দিচ্ছে কোনো রকম যাচাই বাছাই ছাড়াই। এমনকি কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে কাউকে কাউকে তারকা বলছেন, আর কোনো কিছু না ভেবে গণমাধ্যমও তাদের তারকা বলে লিখে দিচ্ছে।
পরিশেষে চলচ্চিত্রের মন্দাবস্থা কাটিয়ে সুদিনে ফিরে আসা প্রসঙ্গে বললেন, আমি অনেক আশাবাদী। এটা ইতিবাচক বিষয় যে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলচ্চিত্রে কিছুটা সুদিন ফিরে এসেছে। আবারো দর্শকের মধ্যে চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আমরা মুভিবাজারের ফেসবুক পেজে দেখেছি অসংখ্য মানুষ সেখানে সরব চলচ্চিত্রের খবর জানতে, প্রিয় তারকাদের খবর জানতে। দর্শকরা প্রতি সপ্তাহের আলোচনায় মতামত দিয়ে বিজয়ী হয়ে থাকেন। এখানে প্রচুর অংশগ্রহণ পাই। বছর শেষে লাখ ছাড়িয়ে দর্শক যখন প্রিয় সিনেমা, অভিনেতা, অভিনেত্রী নির্বাচন করেন তখন আমরা অনেক আশাবাদী হই। ভাবতে পারি, চলচ্চিত্রের দিন ফিরবেই। আবারো আনন্দ আমেজ নিয়ে মানুষ হলে যাবে ছবি দেখতে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)