আপডেট ৯ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৩ রমযান, ১৪৪০

বিনোদন, লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার চলচ্চিত্র দেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

চলচ্চিত্র দেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদনিউজ : ইলিয়াস কাঞ্চন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি বিচারক হিসেবে রয়েছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উত্থান, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও চলচ্চিত্র শিল্পের সংকট কাটিয়ে উঠতে করণীয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। তার দেয়া সাক্ষাৎকারটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এ ক্ষেত্রে আপনার অনুভূতিটা যদি বলতেন..
এখানে অনেক সেগমেন্ট আছে, আমি যেটাতে আছি সেটা হচ্ছে এশিয়ান ফিল্ম মানে এশিয়ার যে সিনেমাগুলো আছে সেখান থেকে বেস্ট ফিল্ম বাছাই করার জাজমেন্টটা করতে হবে। এই একটা সেশনে বাংলাদেশ থেকে আরও একজন থাকবেন। আমাদের দেশসহ এশিয়ার অন্য যে দেশগুলো আছে কাজাখস্তান, ইরান, ইন্ডিয়া এসব দেশের সিনেমা দেখানো হবে। সে সিনেমাগুলো দেখতে হবে। আজ ১২ জানুয়ারি থেকে আমার কাজ সেখানে শুরু হবে। আর বিচারক হিসেবে ভূমিকার কথা যদি বলি, এটা আমার প্রথম না আমি এর আগেও রেইনবোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরিতে ছিলাম।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বলুন…
আমাদের ছবিগুলো ভালোভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি যে পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, সে পৃষ্ঠপোষকতাগুলো আসলে সেভাবে করা হয় না। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন যখন ছবি বানাতেন উনারা যে ছবি বানাতেন সেগুলোর পেছনে সরকারের বিশাল সাহায্য এমনকি কমার্শিয়াল ফিল্মও যারা বানায়, যদি প্রয়োজন হয় সংসদে শুটিং করার তাহলে তারা কিন্তু পারমিশন দেয়। আমাদের এখানে কিন্তু এমনটা নেই। আমাদের এখানে সেন্সরের অনেক বাধাও অতিক্রম করতে হয়।

সিনেমা নির্মাণে সরকারি অনুদান নিয়ে আপনার বক্তব্য কি?
আমাদের এখানে যে ছবি বানানোর জন্য অনুদান দেওয়া হয়, প্রসেসটা এমন যে ভালো ছবি হবে না। আগে ২০-২৫ লাখ টাকা দেওয়া হতো, এখন ৪০-৪৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু দেওয়া হয় কাদের? সে ছবি বানাতে জানুক আর না জানুক, সে ওই রকম ট্যালেন্ট কি না সেটা জানার বিষয় না। যখন সে সরকার থাকে সে দলের কি না, এবং সে দলের হয়ে লিয়াজোঁটা মেইনটেইন করতে পারবে কি না? সেটা দেখা হয়, মানে তার একটা ক্যাপাবিলিটি থাকতে হবে ওখান থেকে জিনিসটা বাগিয়ে নেওয়ার। ভালো মানুষ যারা, যারা ভালো ডিরেক্টর তারা তো বাগাতে জানে না। যারা বাগিয়ে নিয়ে আসতে পারে, তারাই ছবি বানায়। কখনো হয়, কখনো হয় না। তাই যে কথা আবারও বলছি আগেও বলেছি, যদি অনুদান দেওয়ার প্রথাটা চেঞ্জ করা হতো; বাংলাদেশে রিলিজ হওয়া নির্মিত ছবিগুলো দেখে যদি অনুদান দেওয়া হয়, তাহলে প্রত্যেকটা ছবি ভালো করার চেষ্টা করা হতো।

আর সিনেমা হলের ভূমিকা…
সিনেমাগুলো ভেঙে মার্কেট করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যদি একটা নির্দেশনা থাকত সিনেমা হল ভেঙে আপনি মার্কেট করছেন, তবে আপনাকে অবশ্যই মার্কেটের মধ্যে ছোট ছোট কয়েকটা সিনেপ্লেক্স রাখতে হবে। অন্যথায় আপনি এটা ভেঙে শুধুই মার্কেট করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তটাও যদি নেওয়া হতো, তাহলে কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতিটা হতো না। দেশে ১৪০০-এর মতো সিনেমা হল ছিল এবং ১০০০, ১২০০/১৫০০ সিটের সিনেমা হল কিন্তু ছিল। এ জায়গায় মনোযোগী না হওয়ায় ১৪০০ সিনেমা হল থেকে এখন ৩০০ সিনেমা হলে চলে এলো। আবার এর মধ্যে অনেকগুলো হল ভাঙার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজমণি হল ভেঙে ফেলা হবে, মধুমিতার কথা শুনলাম মধুমিতা ভেঙে যাবে। এই যে সিনেমা হলগুলো ভেঙে যাবে। সরকারের কি মাথাব্যথা নেই? এটা তো একটা শিল্প, এখানে তো অনেক মানুষ জড়িত। শিল্প মানে কি? একটা দেশের ঐতিহ্যের বিষয় আছে, যে মানুষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। চলচিচত্র তো শুধু আনন্দ দেওয়ার বিষয় নয়, চলচ্চিত্রে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় রয়েছে। এবং এ দেশে তো সেটার প্রমাণও আছে যে চলচ্চিত্র দেশের স্বাধীনতার জন্যও তো অবদান রেখেছে। সে জায়গায় সিনেমা হলের এ অবস্থা হলে, কারণ আপনি একটি প্রোডাক্ট বানাবেন সে প্রোডাক্ট বিক্রি করার সুযোগ তো আপনার থাকতে হবে। নাহলে আপনি প্রোডাক্ট কেন বানাবেন? নিজের দেখার জন্য তো আপনি প্রোডাক্ট তৈরি করবেন না এত টাকা ব্যয় করে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে আপনার কি প্রত্যাশা?
সরকারের নীতিমালা এ ক্ষেত্রে খুব জরুরি, এবং চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুরুব্বি যারা রয়েছেন তারা এটার দেখভাল করে না বলেই চলচ্চিত্রের এ অবস্থা। এটির অবসান হওয়া উচিত এবং চলচ্চিত্রের লালন-পালনের যে বিষয় সেটা দেখা উচিত। চলচ্চিত্রকে লালন-পালন কে করে? বাবা-মা যেমন সন্তানকে যেভাবে লালন-পালন করে সন্তান কিন্তু সেভাবেই বেড়ে উঠবে। আমাদের মনে হচ্ছে, চলচ্চিত্রের কোনো বাবা-মা নেই। একজনই ছিল যার সময়ে চলচ্চিত্রের উন্নতি হয়েছে, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু। যেমন তিনি পাকিস্তান আমলে এফডিসির বিল পাস করিয়েছেন। কেবিনেটে উনি প্রস্তাবনা উঠিয়েছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি একটা আইন করেছিলেন যে উপমহাদেশের ছবিগুলো আমাদের দেশে আসতে হলে সাবটাইটেলে আসতে হবে। তাদের ভাষায় আসলে হবে না। সেটা আসার জন্য ইংরেজি সাবটাইটেল হতে হবে। এই যে একটা ব্যারিয়ার তিনি তৈরি করে দিলেন, কারণ উনি জানতেন ইন্ডিয়া অনেক বড় একটি দেশ; সেই মার্কেটের ছবির সঙ্গে তো আমরা কম্পিটিশন করতে পারব না। এটা সম্ভব না, ইন্ডিয়া কিন্তু তাদের ছবি বিশ্ববাজারে চালানোর পাশাপাশি আমাদের দেশ থেকেও আয় করতে পারবে এমন চিন্তাভাবনা তাদের শুরু থেকেই ছিল। এখন তো এটা খুবই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধু সেটা খেয়ালে রাখতেন।

যৌথ প্রযোজনার ছবি প্রসঙ্গে…
এই যে আমাদের মধ্যে যে কো-অপারেশন ছিল, সেখানে দুর্নীতি চলে এলো। কো-অপারেশনের নীতিটাই ছিল ফিফটি-ফিফটি। মানে টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট এরা ফিফটি-ফিফটি কাজ করবে। কিন্তু সেটা তো ভায়োলেশন করে আমাদের দেশে উপমহাদেশের ছবি আসা শুরু করল। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোই কিন্তু প্রথম এটার প্রতিবাদ করল। কিন্তু সে প্রতিবাদ কোনো কাজে এলো না।
কো-অপারেশন বন্ধ হয়ে গেল, এখন ডাইরেক্ট ছবি চলে আসা শুরু করল। ডাইরেক্ট ছবি আসা তো আমরা সাধারণ মানুষ ঠেকাতে পারব না। এটার জন্য তো সরকারের নীতিমালা থাকতে হবে, সরকারের আন্তরিকতা থাকতে হবে। এটা তো তাদের পলিসির মধ্যে থাকতে হবে।
এ বিষয়টা যত দিন না সমাধান হবে, তত দিন আমাদের চলচ্চিত্রের উত্তরণটা হবে না।
আর ভালো ছবির ক্ষেত্রে কমার্শিয়াল ছবির কথা যদি বলি, কমার্শিয়াল ছবি যে খারাপ সেটা কিন্তু না। হলিউডে কিন্তু সায়েন্স ফিকশনের ওপর নির্মিত ছবি পুরস্কার পাচ্ছে। তাদের যে বাজেট, সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেটা এ ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয়। আমাদের এখানে এই ধারা, সেই ধারা। কেন একটা অন্যধারার ছবি কি মানুষের পছন্দ হতে পারে না? ব্যবসায়িক সফলতা পেতে পারে না? এই নামকরণের কারণেই আমাদের দেশে যে পুরস্কার দেওয়া হয়, সেগুলো কিন্তু সেই বিবেচনায়ই দেওয়া হয় অন্য ধারার সিনেমা হিসেবে। এ ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন করার দরকার আছে। এখন চলচ্চিত্র যে জায়গায় আছে, পরিপূর্ণভাবে এর লালন-পালনের জন্য সরকারে যারা আছেন, দায়িত্বে যারা আছেন তারা যদি এটা করেন তাহলে এটা টিকবে, আর বাংলাদেশে এখন যারা প্রডিউসার আছেন এদের মধ্যে কিন্তু নন-প্রফেশনাল প্রডিউসাররাই বেশি। আগে কিন্তু প্রফেশনাল প্রডিউসাররা সিনেমা বানাতো। প্রফেশনাল প্রডিউসার মানে এটাকেই তারা তাদের রুজি-রোজগারের অবলম্বন বানাতো। আগে এ চিন্তা ছিল, এখন দেখা যায় যে ছবি হচ্ছে তাতে কারও হয়তো শখ হলো মানে শখের প্রডিউসার এবং নিজেই আর্টিস্ট হবেন এমন প্রডিউসার। আর আমি বলব প্রফেশনাল প্রডিউসার একজনই আছেন বর্তমানে তিনি আজিজ সাহেব। তিনি অনেকগুলো সিনেমা হলের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানে মেশিন বসিয়েছেন। আর মেশিন বসিয়েছেন মানে তো সেখানে উনি তার নিজের সিনেমাই প্রদর্শনের চেষ্টা করবেন। উনি যে শুধু বাংলাদেশে ফিল্ম বানাচ্ছেন তা না, ভারতে গিয়েও সিনেমা বানাচ্ছেন। প্রফেশনালিজম ছাড়া তো আসলে এটা চলতে পারে না, প্রফেশনালিজমটা আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। লিজেন্ডারি যারা রয়েছেন, এতগুলো টাকা দিয়ে ছবি বানানোর পর সেটা লস হলে।

অন্য যারা সিনেমা বানাচ্ছেন…
তারা তো এটাকে প্রফেশন হিসেবে নেবে না। তারা একটি নীতি নিয়ে ছবি করে, তাদের দু’একটা ছবি ব্যবসায়িক সফলতাও পাচ্ছে। কিন্তু তারা কি ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে ভাবছে? বা ছবি একটার পর একটা বানাচ্ছে? তা কিন্তু হচ্ছে না। এভাবে তো ইন্ডাস্ট্রি রান করবে না। এ জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রফেশনাল যে প্রডিউসার ছিল সে রকম প্রডিউসার দরকার হবে। যারা ডিরেক্টর লেভেলে রয়েছেন, তাদের মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে; ব্যবহার করা জানতে হবে। এবং সেটা করার জন্যও আবার সামর্থ্যরে বিষয় জড়িত আছে। অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সেটা উপলব্ধি করতে হবে।

হলিউড ও বলিউডে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমা নির্মাণ করা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের সিনেমার অবস্থান নিয়ে আপনার মতামত কি? 
হলিউড যে ভাবনা ভাবে, সেটার জন্য তাদের অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। যার জন্য আপনি সায়েন্স ফিকশন ছবি বলেন, রূপকথার ছবি বলেন, অ্যাকশন ছবি বলেন বা যে কোনো ধারার ছবির কথাই বলেন না কেন ছবিটা যখন বানানো হয় তখন কিন্তু একজন পরিচালককে টাকার জন্য ভাবতে হয় না। তেমনিভাবে বলিউডেও কিন্তু তাই। কিন্তু আমাদের এখানে যখন আপনি টেকনোলজিকে ব্যবহার করতে যাবেন, এই টেকনোলজি ব্যবহার করতে কত টাকা লাগে সেটা নিয়ে কি আপনার ধারণা আছে? ওই ভাবনা কিন্তু তাদের ভাবতে হয় না। এমনকি মাদ্রাজেও ভাবতে হয় না। রজনীকান্তের ছবি ০.২-তে যে টেকনোলজি তারা ব্যবহার করেছে এবং কত টাকা যে তারা ব্যয় করেছে তার পেছনে।

আমরা সিনেমার ক্ষেত্রে এখন মৌলিক গল্পের কথা বলছি, এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
আমাদের দেশে পাশের দেশের গল্প নেওয়ার যে কথা বললেন, আপনি কি দেখেছেন বাহুবলী বা ০.২ কেউ নেওয়ার চেষ্টা করেছে? কেন নেওয়া হয়নি? এ সিনেমাগুলো তো সুপারডুপার হিট। টেকনোলজি একটা বিষয় বটে, তবে ঐ যে অর্থ। কারণ আপনি গরিব মানুষ বলে তো আপনাকে টেকনোলজি ফ্রিতে কেউ দেবে না। ওরা কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় করে ছবিটা নির্মাণ করার জন্য। বাংলাদেশে আপনি তিন কোটি টাকাও ব্যয় করতে পারবেন না। তাহলে আপনি টেকনোলজি কীভাবে ব্যবহার করবেন? যার জন্য ০.২ কিন্তু এখানে কোনো প্রডিউসার, কোনো ডিরেক্টর নির্মাণের সাহসই পাবে না। যখন দেখা যায়, আমরা পারব না, তখন আমাদের গল্পগুলো কি চুজ করা হয় জানেন? এমন একটা গল্প নিতে হবে আমার সাধ্যের মধ্যে কোনো রকমে তেল দিয়ে আমি এটা ভাজতে পারব। সে জন্য আমি বললাম ঐ যে কোনো কোম্পানি যে ছবিগুলো বানালো, তারা কিন্তু টেকনিক্যাল ছবি বানালো না। সাধারণ গল্প বাছাই করে ছবি বানালো। গান গাওয়া হয়েছে, গল্পগুলো ভালো করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে কম তেলে কই মাছ ভেজে মানুষের কাছে গল্পটাকে ভালো বানানো যায়। আর যেসব ডিরেক্টররা আসছেন, আপনি কি খেয়াল করেছেন তারা ঐ ধরনের টেকনিক্যাল ছবি বানানোর জন্য আসছেন?

কম বাজেটে কি ভালো ছবি সম্ভব নয়?
কম বাজেটে আপনাকে যখন ছবি বানাতে হবে, তখন আপনাকে ঐ বাজেটের চিন্তা মাথায় রেখে গল্প সাজাতে হবে। তারা চিন্তা করে প্রথমে এমন একটা গল্প নিয়ে লোকেশনে চলে যাব যেখান থেকে আর ফিরতে হবে না। একবারে ছবিটা এক মাসের মধ্যেই শুটিং শেষ করে ফিরে আসা যাবে। অথচ হলিউডে যখন ছবি বানানো হয়, আপনি জানেন মালয়েশিয়াতে যখন ছবির সেট বানানো হলো। সবকিছু রেডি, তারা যখন শুটিং করতে যাবে। অ্যাসিস্ট্যান্টরা সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছে, ডিরেক্টর হেলিকপ্টার করে আসার পর সেট দেখে বললেন আমি এ সিনেমা করব না। কারণ সেট আমার পছন্দ হয়নি। ভিজ্যুয়ালে যেটা দেখেছে, সেটা বাস্তবে আসেনি তাই।

এক্ষেত্রে উত্তরণের উপায় কি?
আমাদের সবসময় সাধ্যের কথা ভাবতে হয় আর তাদের যে সাধ্য, সামর্থ্য সেটা আমাদের কোনোদিন হবে কি না জানি না। সেদিনই হবে, যেদিন আমাদের ছবিগুলো এক্সপোর্ট করতে পারি। এক্সপোর্ট করার পর মানুষকে যদি ভালো লাগাতে পারি, যদি সেখান থেকে অর্থ আমরা কামাতে পারি, তাহলে সেটা হবে। অন্যথায় হবে না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)