ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১

শোক সংবাদ চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন আর নেই

চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন আর নেই

নিরাপদনিউজ : বছরের শেষ দিকে এসে ইহলোককে বিদায় জানালেন কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেন৷ আজ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সাড়ে দশটা নাগাদ নিজ বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবাদপ্রতীম এই পরিচালক৷ তিনি।দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ভুগছিলেন দাদাসাহেব ফালকে এবং পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত গুণী এই পরিচালক৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫।

১৯২৩ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি পরিচালক ১৯৮৩ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। গত বছরই স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছিল। এবার পৃথিবীর মোহ কাটিয়ে নিজেও পরলোকে পাড়ি দিলেন।

প্রসঙ্গত, মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘রাতভোর’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। এই ছবিটি বেশি সাফল্য না পেলেও তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘নীল আকাশের নীচে’ তাঁকে স্থানীয় পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর তৃতীয় ছবি ‘বাইশে শ্রাবন’ থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। ১৯৬৯ সালে তাঁর পরিচালিত ছবি ‘ভুবন সোম’ মুক্তি পায়। এই ছবিতে বিখ্যাত অভিনেতা উৎপল দত্ত অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটি অনেকের মতে মৃণাল সেনের শ্রেষ্ঠ ছবি।

তাঁর কলকাতা ট্রিলোজি অর্থাৎ ইন্টারভিউ (১৯৭১), ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩) ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্থির অবস্থাকে তুলে ধরেছিলেন। মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে মৃণাল সেন তুলে ধরেন তাঁর খুবই প্রশংসিত দুটি ছবি এক দিন প্রতিদিন (১৯৭৯) এবং খারিজ (১৯৮২) এর মাধ্যমে। খারিজ ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল।

মৃণাল সেন বাংলা ভাষা ছাড়াও হিন্দি, ওড়িয়া ও তেলেগু ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ১৯৬৬ সালে ওড়িয়া ভাষায় নির্মাণ করেন মাটির মনীষ, যা কালীন্দিচরণ পাণিগ্রাহীর গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়। ১৯৬৯ এ বনফুলের কাহিনী অবলম্বনে হিন্দি ভাষায় নির্মাণ করে ভুবন সোম। ১৯৭৭ সালে প্রেম চন্দের গল্প অবলম্বনে তেলেগু ভাষায় নির্মাণ করেন ওকা উরি কথা। ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করেন জেনেসিস, যা হিন্দি, ফরাসি ও ইংরেজি তিনটি ভাষায় তৈরি হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)