ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট October ২১, ২০১৯

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

মতামত চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়ানো শিক্ষকের আক্ষেপ: ‘আমার কি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দেয়া উচিৎ?’

চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়ানো শিক্ষকের আক্ষেপ: ‘আমার কি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দেয়া উচিৎ?’

নিরাপদনিউজ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ডিপার্টমেন্ট’-এ পঞ্চম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা চলছে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অনেক স্বপ্ন লালন করে পরীক্ষা দিচ্ছে। অনেক পাবলিক এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিভাগ চালু হয়েছে এবং হচ্ছে। সরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সিনেমা এবং টেলিভিশন ইন্সটিটিউট। বেসরকারীভাবে চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্র খুব দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রথম প্রেক্ষাগৃহ ‘পিকচার হাউজ’ নির্মিত হয়েছিলো প্রথম মহাযুদ্ধের সময় ঢাকায়। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শাবিস্তান’। কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে হলটি।

বাংলাদেশের সর্ববৃহত সিনেমা হল ‘ডায়না’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৬৪ সালে ঢাকার পোস্তগোলায়। যার আসন সংখ্যা ছিল ১২শ। কয়েক বছর আগে ডায়নারও ‘মৃত্যু’ হয়েছে।

ডায়নার পাশে ছিল যমুনা। ২০১৩ সালে যমুনা হল বন্ধ করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে হাসপাতাল। ঢাকার গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান হল ভেঙে গড়ে উঠেছে মার্কেট। এলিফ্যান্ট রোডের মল্লিকা সিনেমা হল এখন ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেট।

২০১২ সালে বন্ধ হয়েছে পর্বত, সঙ্গীতা ও ঢাকা সেনানিবাসের সাগরিকা। ২০১৩ সালে বন্ধ হয়েছে ঢাকা সেনানিবাসের গ্যারিসন। বন্ধ হয়েছে রূপমহল, লায়ন, স্টার, বিউটি, নাজ ও অতিথি, তাজমহল, জ্যোতি ও মুন সিনেমা হল।

রাজধানী ঢাকায় ছিল ৪৪টি সিনেমা হল। তার মধ্যে কোনও রকমে টিকে রয়েছে ১৭টি।

১২ অক্টোবর বন্ধ হয়ে গেছে কাকরাইলের ‘রাজমণি’ সিনেমা হল। অচিরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাজিয়া, পূরবী, পদ্মা, সুরমা, অভিসার ও মানসী।
বাংলাদেশে ৬৪ জেলার মধ্যে ২৮টি জেলায় কোনও সিনেমা হল নেই।

যশোরে ২১টির মধ্যে ৬টি, সিরাজগঞ্জে ৩১টির মধ্যে ৭টি, খুলনায় ১১টির মধ্যে ৪টি, সিলেটে ৭টির মধ্যে ১টি, রংপুরে ৫টির মধ্যে ১টি, ঝিনাইদহে ১৭টির মধ্যে ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০টির মধ্যে ৬টি, বেলকুচিতে ১৭টির মধ্যে ২টি, চুয়াডাঙায় ১৪টির মধ্যে ২টি, নীলফামারীতে ২৪টির মধ্যে ১টি, পাবনায় ২৮টির মধ্যে ৭টি, মানিকগঞ্জে ৯টির মধ্যে ১টি, লক্ষ্মীপুরে ১০টির মধ্যে ১টি, ঠাকুরগাঁয়ে ১৫টির মধ্যে ৬টি, রাজবাড়ীতে ২০টির মধ্যে ২টি, রূপগঞ্জে ৬টির মধ্যে ১টি, রংপুরে ৫টির মধ্যে ১টি, গাজীপুরে ১৪টির মধ্যে ৩টি, টাঙ্গাইলে ৪৭টির মধ্যে ১২টি এবং সিলেটে ৭টির মধ্যে মাত্র ১টি সিনেমা হল চালু রয়েছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে ২০টি প্রেক্ষাগৃহ। বন্ধ হওয়ার পথে আলমাস ও সিনেমা প্যালেস। সিলেটে বন্ধ হওয়ার পথে নন্দিতা। রংপুরে বন্ধ হওয়ার পথে শাপলা টকিজ।

গত দুই দশকে বন্ধ হয়ে গেছে দেড় হাজারের বেশি সিনেমা হল। বন্ধ হওয়ার তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। সারাদেশে ঢিমেতালে টিকে আছে শ’দেড়েক হল।

যে হলগুলো টিকে আছে তা লোকসান গুণে চালাতে হচ্ছে। ছবি চালিয়ে মাস শেষে বিদ্যুত বিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ নানা মেইনটেন্যান্স খরচ তোলা যাচ্ছে না। গত ১০ বছরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৯০ শতাংশ কর্মী পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াই। ইদানিং ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে!  আমার কি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে দেয়া উচিৎ?

হোয়াটস আপ থেকে সংগৃহীত

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)