ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ৩০, ২০১৪

ঢাকা শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০

অপরাধ, আধ্যাত্মিক নগরী সংবাদ চার ললনা মাতিয়ে রাখতো সিলেটের সেই রহস্যময় হোটেলটি!

চার ললনা মাতিয়ে রাখতো সিলেটের সেই রহস্যময় হোটেলটি!

রহস্যময় হোটেলের চার ললনা

রহস্যময় হোটেলের চার ললনা

নিরাপদ নিউজ : চার ললনা মাতিয়ে রাখতো সিলেটের সেই রহস্যময় হোটেলটি। শিশার নেশাঘেরা পরিবেশ জমিয়ে রাখতো তারা। তারাই ছিল সেখানকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মধ্যরাত অবধি তাদের ঘিরেই চলতো আমোদ-ফুর্তির আসর। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানের পর সিলেটের ওই ললনাদের কেচ্ছাকাহিনী এখন মানুষের মুখে মুখে। তবে পুলিশের অভিযানের পর তাদের আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি। অনেকটা আড়ালে চলে গেছে তারা। ওই চার ললনা হচ্ছে- মাহি, শোভা, মিতালি ও নাহিদা। উঠতি যুবকদের কাছে এরা বহুল পরিচিত। এক নামেই চেনে সবাই। দীর্ঘ দিন ধরে সিলেটের শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে তারা। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ে পর্নোজালে। এরপরও তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ড থেমে নেই। সর্বশেষ তারা সিলেটের ধোপাদিঘীরপাড়ের সেই হোটেলটি’র উঠতি যুবকদের কাছে হয়ে উঠেছিল মধ্যমণি। সেখানে যাতায়াতকারী কয়েকজন যুবক জানায়, সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই ওই চারজন মেয়ে সেখানে যেতো। প্রতিদিন তারা নতুন নতুন যুবকদের নিয়ে যেতো। ওখানে গিয়ে তারা হারিয়ে যেতো নেশার রাজ্যে।

মধ্যরাত পর্যন্ত ওই হোটেলে বসে শিশা সেবনের পর প্রেমিকদের নিয়ে অভিসারে যাওয়া ছিল তাদের নিত্যদিনের রুটিন। প্রেমের ছলে টাকাওয়ালা যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা। সেখানে যাতায়াতকারী বেশ কয়েক যুবক তাদের হাতে প্রতারিত হয়েছে। তবে মান-সম্মানের ভয়ে কেউ মুখ খোলে নি। হোটেলটিতে যাতায়াতকারী ওই চারজনের ভেতর একজন শোভা। তাকে এক নামেই চেনেন সিলেটের উঠতি যুবকরা। ৫-৬ বছর আগে শোভা পা বাড়ায় শোবিজ অঙ্গনে। লন্ডন থেকে আসা প্রডিউসারদের মন জয় করে কয়েকটি আঞ্চলিক নাটকে নায়িকা ছিল সে। এছাড়া, কিছু কিছু মিউজিক ভিডিওতেও সে অভিনয় করে। প্রথমে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সুন্দরী হওয়ায় শোভা একসময় সিলেটে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। থার্টিফার্স্ট নাইট, ডিজে নাইট ও হোটেলের পার্টিতে সে হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণ। সে ছিল সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু তার বেপরোয়া কর্মকান্ডের কারণে একসময় পরিবারটিই পড়েছিল অস্বস্তিতে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন বিচার সালিশ করে শোভাকে এলাকাছাড়া করে। এখন শোভার ঠিকানা নগরীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়ি। হোটেলটিতে যাতায়াতকারী ধনীর দুলালদের ধরে নিয়ে রাতের পর রাত কাটায় সেখানে। বিভিন্ন সময় অচেনা যুবকদের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজেকে মডেল কন্যা পরিচয় দিয়ে শোভা ইয়াবা ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়েছে। সিলেটের হোটলটির আরেক পরিচিত মুখ মাহি।
সিলেটের উঠতি যুবকদের কাছে সে-ও এক পরিচিত নাম। স্থানীয়ভাবে ডিজে ড্যান্স দিয়ে সে পরিচিতি পায়। এক সময় তখন সে বলেছিল, বেশ কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম করেছে। বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়িতে তাদের নিয়ে কাটিয়েছে রাতের পর রাত। আর এরই ফাঁকে জড়িয়ে পড়ে পর্নোজালে। তার অবাধ মেলামেশার একটি ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেয়া হয় ইন্টারনেটে। তখন সে বলেছিল, তারই এক প্রেমিক তার সঙ্গে প্রতারণা করে এই ভিডিওটি করেছে। এদিকে, ওই ভিডিও ক্লিপটি প্রচারের পর কিছু দিনের জন্য গা ঢাকা দিয়েছিল মাহি। চলে যায় ঢাকায়। সেখানে সে বিভিন্ন ‘বি’ গ্রেডের মিউজিক অ্যালবামে কাজ করে। পরে চলে আসে সিলেটে। সর্বশেষ সিলেটের হোটেলটিতে শিশা কন্যা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সে। সিলেটের আরেক কন্যা মিতালি একই ভাবে পা বাড়িয়েছে উন্মাতাল জগতে। পার্লার ব্যবসায়ী হিসেবে তার হাঁকডাক নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হোটেলের কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, মিতালিও বিভিন্ন সময় বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে যাতায়াত করতো। গভীর রাত পর্যন্ত বসে বসে শিশা সেবন করতো। রাতে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তো অজানার উদ্দেশে। এই তিন জনের পথ অনুসরণ করে হোটেলটিতে নিয়মিত যাতায়াত বাড়িয়েছে নাহিদা। তাকেও বিভিন্ন সময় বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানে বসে শিশা সেবন করতে দেখা গেছে। ধোপাদিঘীরপাড় এলাকা সূত্রে জানা গেছে, অলিভ ট্রি’র গোপন কর্মকান্ডের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর রোববার রাতে সওদারটুলা এলাকায় বৈঠক হয়েছে। এতে শিশা সহ মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে এলাকার মানুষ ঐকমত্য প্রকাশ করে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)