ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ৫, ২০১৮

ঢাকা বুধবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

সম্পাদকীয় চিকিৎসাসেবার দুরবস্থা

চিকিৎসাসেবার দুরবস্থা

নিরাপদনিউজ:  সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক চেষ্টা করছে। ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি, বিদ্যমান হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিধি বাড়ানো ইত্যাদি। কিন্তু এসব প্রচেষ্টায় জনগণের সেবা প্রাপ্তির মান ও পরিমাণ কতটুকু বেড়েছে এমন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা প্রাপ্তির পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে, কোথাও কোথাও অবনতি হয়েছে বলেও জানা যায়। তাহলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সার্থকতা কোথায়?

দীর্ঘদিনের অবহেলা, উপযুক্ত তদারকির অভাব, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির প্রভাবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছিল। সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে ক্লিনিক-হাসপাতাল, যেগুলোর একটি বড় অংশেই স্বাস্থ্যসেবার নূন্যতম মান রক্ষা করা হয় না। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক ধরনের নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উঠে আসার জন্য যে ধরনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন ছিল, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তার অভাব রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। প্রকাশিত বেশ কিছু খবর রয়েছে, যেগুলোতে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার নানা দুর্বলতা উঠে এসেছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে-কলমে ২১ জন চিকিৎসক রয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে পাওয়া যায় মাত্র দুজনকে। এ সময় রোগীদের অস্বাভাবিক ভিড় সামলাতে গিয়ে কয়েকজন স্বাস্থ্য সহকারীকেও দেখা যায় রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে অথচ তাঁরা চিকিৎসক নন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন সহকারী সার্জন ও একজন ফার্মাসিস্ট ছুটি ছাড়াই পাঁচ বছর ধরে অনুপস্থিত। চান্দিনায় ভুল প্যাথলজি রিপোর্ট দিয়ে চিকিৎসা করার পর এক রোগিণীর অবস্থা মুমূর্ষু হয়ে যায়।

পরে তাঁকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখতে পান তাঁর অ্যাপেনডিকস ফেটে গেছে। ভোলার চরফ্যাশনে একটি ক্লিনিকে এক রোগীর রক্তের গ্রুপ ভুল নির্ধারণ করা হয়। তাঁর দেহে রক্ত দেওয়ার আগে চিকিৎসক ক্রস ম্যাচিংয়ের সময় ভুলটি ধরতে পারেন। তা না করে রক্ত দেওয়া হলে রোগী মারাও যেতে পারত।

এ রকম ঘটনা শত শত। প্যাথলজি পরীক্ষা ঠিক না হলে রোগীর রোগ নির্ণয় ঠিক হবে না, ভুল ওষুধ দেওয়া হবে এবং রোগী মারা যাবে। জানা যায়, বেশির ভাগ প্যাথলজি কেন্দ্রে নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান ব্যবহার করা হয়, ফলে পরীক্ষার ফল সঠিক হয় না। অনেকে পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে দেয়, রোগীর পকেট কাটে বা প্রতারণা করে।

আমরা চাই, বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে যে মানুষ হাসপাতালে যায়, তাকে যেন যথার্থ সেবা দেওয়া হয় সরকার তা নিশ্চিত করুক। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিকতা বা অবহেলা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)