ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৫ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১

বহির্বিশ্ব চেন্নাইয়ে হাসপাতালগুলোকেও পানি কিনতে হচ্ছে

চেন্নাইয়ে হাসপাতালগুলোকেও পানি কিনতে হচ্ছে

নিরাপদ নিউজ: ভারতের চেন্নাইয়ে পানির সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হাসপাতালগুলোকে বাইরে থেকে পানি কিনে এনে চিকিৎসাব্যবস্থা চালু রাখতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এখন কেনা  পানিতে কাজ চললেও শিগগিরই বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হবে, তখন চিকিৎসা কার্যক্রম কীভাবে চালাবেন তা ভেবে শহরটির চিকিৎসকরাও বেশ শঙ্কিত বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম এ মেট্রোপলিটন শহরের পানির ঘাটতি শিগগিরই পূরণ না হলে ‘রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরিই ঈশ্বরের দয়ার ওপর নির্ভর করবে’ বলে মন্তব্য সুদার হাসপাতালের চেয়ারম্যান টি এন রবিশঙ্করের।  হাসপাতালে পাইপে সরবরাহকৃত পানি এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে; বেশকিছু দিন ধরেই তাকে  অনেক দামে কেনা পানি সরবরাহের ট্রাকগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পানির সংকট দীর্ঘায়িত হলে ট্রাকগুলোও আর বেশি দিন পাওয়া যাবে না বলে শঙ্কা রবিশঙ্করের।

“বাড়তি এ খরচ রোগীদের ওপরই বর্তাবে। যদি এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমরা এক মাস পর আর রোগীদের সেবা দিতে পারবো না,” বলেছেন তিনি।

গত বছরের অনাবৃষ্টি এবং এ বছর বর্ষামৌসুম এখনও শুরু না হওয়ায় ভারতের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকাকেই খরাসদৃশ এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাউথ এশিয়া ড্রট মনিটর।

তামিলনাড়ুর পাশাপাশি কর্নাটক, অন্ধ্র প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র এ ‘ভয়াবহ শুষ্ক’ আবহাওয়ার চক্রে আটকা পড়ে গেছে।

স্যানিটেশন, রোগ প্রতিরোধে পানির ওপর নির্ভরশীল হাসপাতালগুলোই এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগবে। চেন্নাইয়ের প্রায় সব হাসপাতালই এখন শহরজুড়ে প্রতিদিন বিক্রি করা পানির ট্যাঙ্কারের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর প্রাইভেট ওয়াটার ট্যাঙ্কার লরি অ্যাসেসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এন নিজালিঙ্গাম।

কিন্তু ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে পানি নিয়ে আসা দিন দিন বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। “পরিস্থিতি এমন চললে একমাস পর, যারা এমনকী এক ট্যাঙ্কার পানির জন্য প্রচুর টাকা দেন, তাদের জন্যও পানি সরবরাহ করতে পারবো না আমরা,” বলেছেন নিজালিঙ্গাম।

এপ্রিলে শহরটিতে পানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এক ট্রাক বা ১২ হাজার লিটার পানির দাম এক হাজার ২০০ রুপি থেকে ছয় হাজার রুপি পর্যন্ত ওঠানামা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউজ মিনিট ওয়েবসাইট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পানির এ সংকট বড় হাসপাতালের চেয়ে ছোট হাসপাতালগুলোকে বেশি কাবু করে ফেলেছে এবং এ পরিস্থিতি রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)