ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৫

ঢাকা শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১

অপরাধ, চট্টগ্রাম, রাজনীতি ছাত্রদলের মর্তুজার দেয়া ককটেলই ফাটায় যুবদলের রাসেল

ছাত্রদলের মর্তুজার দেয়া ককটেলই ফাটায় যুবদলের রাসেল

Ctg_sm_1_118430937চট্টগ্রাম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, নিরাপদনিউজ : চট্টগ্রাম নগরীতে চলমান নাশকতার সঙ্গে নগর ছাত্রদলের সহ-যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা এবং রাসেল নামে এনায়েত বাজারের এক যুবদল কর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে নগরীর আলমাস মোড় থেকে ১৮টি ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া মুজিবুর রহমান নগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। এছাড়াও রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সৈয়দ মাশফিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতেও তাদের নাম এসেছে।
আলী মর্তুজা এবং রাসেল উভয়ই নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্করের অনুসারি হিসেবে নগর বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত। উভয়ই নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা। এনায়েত বাজার এলাকায় আবুল হাশেম বক্করেরও বসবাস।
গ্রেপ্তার হওয়া মুজিবুর রহমান পেশায় সিএনজি অটোরিক্সা চালক। বিএনপি সমর্থক ওই চালক অবরোধে নাশকতার জন্য ভাড়ায় খাটত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, মুজিবুর রহমান ছাত্রদল নেতা আলী মর্তুজার নির্দেশে গাড়ি নিয়ে শহরে ঘুরত। তার গাড়ি থেকে এনায়েত বাজারের যুবদল কর্মী রাসেলসহ কয়েকজন মিলে ককটেল ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করত।
সন্তোষ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মুজিবুর সরাসরি আলী মর্তুজা এবং রাসেলের নাম বলেছে। আদালতে জবানবন্দিতেও সে একই কথা বলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মুজিবুর জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে রাসেল তাকে ফোন করে অটোরিক্সা নিয়ে মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের পেছনে যেতে বলে। মুজিবুরকে জানানো হয়, আলী মর্তুজা ভাই তাকে কিছু ‘জিনিস’ দেবেন।
নির্দেশমত মুজিবুর অটোরিক্সা নিয়ে মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে যায়। সেখানে তাকে দু’টি রংয়ের বড় কৌটা দেয়া হয়। একটি কৌটায় ১৮টি করে ককটেল ছিল।
সে অটোরিক্সা নিয়ে সার্কিট হাউস পর্যন্ত আসার পর রাসেল একটি কৌটাভর্তি ককটেল নিজের হেফাজতে নেয়। এরপর আরেক যুবককে ব্যাটারিচালিত রিক্সায় নিয়ে নিউমার্কেটের দিকে চলে যায়।
মুজিবুর অটোরিক্সা নিয়ে আলমাস মোড় অতিক্রমের সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামনে পড়ে যায়। পুলিশ দেখে মুজিবুর দ্রুত অটোরিক্সা থেকে নেমে চাবি রাস্তায় ছুঁড়ে মারে। পরে পুলিশ তল্লাশি করে ককটেলভর্তি রংয়ের কৌটাটি পায়।
এস আই সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, মুজিবুরের কাছ থেকে তথ্য পাবার পর আলী মর্তুজা এবং রাসেলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদি নগর গোয়েন্দা পুলিশের এস আই মো.সোহেল।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি নগরীর নাসিমন ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ২০ দলের সমাবেশ পন্ড এবং ৭ জানুয়ারি স্টেশন রোডে গাড়িতে আগুন দেয়াসহ বিভিন্ন নাশকতার ঘটনার পর পুলিশ ২৮ বিএনপি নেতাকর্মীর একটি তালিকা তৈরি করে।
ওই তালিকার শীর্ষে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এস কে খোদা তোতন। তালিকায় আলী মর্তুজা এবং রাসেলের নামও আছে।
সন্দেহভাজন নাশকতাকারি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর সেসময় বাংলানিউজকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় নগর ছাত্রদলের সহ-যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা বলেন, ‘আমি এখন তোতন ভাইয়ের সঙ্গে নেই। আমি শাহাদাৎ ভাইয়ের সঙ্গে রাজনীতি করছি। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আনছে।’

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)